প্রযুক্তি

এক মিনিটের বেশি ভিডিওর জন্য টাকা দেবে টিকটক—ক্রিয়েটরদের অপছন্দের তহবিলের জায়গা নিল ক্রিয়েটর রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম, আর এটি চায় আপনি ক্লিপ বানানো থামান

টিকটক আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ক্রিয়েটর রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম: এক মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের, উচ্চ রেজল্যুশনের মৌলিক ভিডিওর জন্য অর্থ, দর্শকসংখ্যা ও কত মানুষ খোঁজেন তার ভিত্তিতে। টিকটকের দাবি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা পুরোনো ক্রিয়েটর ফান্ডের চেয়ে ২৫০ গুণ পর্যন্ত বেশি আয় করেছেন। কী যোগ্য, প্ল্যাটফর্ম কেন লম্বা ভিডিও চায়, আর এখনো যোগ দিতে না পারা বাংলাদেশি ক্রিয়েটরদের জন্য এর মানে।

এক মিনিটের বেশি ভিডিওর জন্য টাকা দেবে টিকটক—ক্রিয়েটরদের অপছন্দের তহবিলের জায়গা নিল ক্রিয়েটর রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম, আর এটি চায় আপনি ক্লিপ বানানো থামান

পনেরো সেকেন্ডের ভিডিওকে অপ্রতিরোধ্য করে টিকটক হয়েছিল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় জিনিস। এখন এটি চায়, যাঁরা বানান তাঁরা ধীর হোন। মাসের পর মাস পরীক্ষার পর এ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া ক্রিয়েটর রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম ক্রিয়েটরদের অর্থ দেয় এক মিনিটের বেশি ভিডিওর জন্য—আর শুধু সেগুলোর।

যার জন্য দেয়

আয় করতে ভিডিওটি হতে হবে মৌলিক, ষাট সেকেন্ডের বেশি ও উচ্চ রেজল্যুশনের; প্রাপ্য হিসাব হয় কত মানুষ দেখেন আর সেই দর্শকের কতটা সার্চ হয়ে আসে তা দিয়ে—টিকটক এখন যাকে স্থায়ী মূল্যের সংকেত ধরে। যুক্তরাষ্ট্র ও আরও কয়েকটি দেশে আমন্ত্রিত ক্রিয়েটরদের নিয়ে চলা পরীক্ষা পর্বে অংশগ্রহণকারীদের আয় পুরোনো স্কিমের তুলনায় ২৫০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে, কোম্পানির দাবি—যে সংখ্যা মূলত প্রকাশ করে পুরোনো স্কিম কত কম দিত। সেই স্কিম, ২০২০ সালে চালু ক্রিয়েটর ফান্ড, নভেম্বরে বন্ধ হয় বছরের পর বছরের অভিযোগের পর যে লাখো ভিউয়ের ভিডিও আনে কয়েক ডলার।

টিকটক কেন লম্বা ভিডিও চায়

তিনটি কারণ, কোনোটি শিল্প নিয়ে নয়। লম্বা ভিডিও বেশি বিজ্ঞাপন বহন করে, আর তিন মিনিটের ভিডিওর মিড-রোল বিজ্ঞাপন একটি ক্লিপের একক প্রি-রোলের চেয়ে অনেক দামি। লম্বা ভিডিও মানুষকে অ্যাপে রাখে, যে সংখ্যা টিকটক বিনিয়োগকারীদের জানায়। আর লম্বা ভিডিও তা-ই, যা ইউটিউবের আছে আর টিকটকের ছিল না—ইউটিউব যেভাবে শর্টস দিয়ে টিকটকের ক্রিয়েটরদের তাড়া করেছে, প্ল্যাটফর্মটি সেভাবে ইউটিউবের ক্রিয়েটরদের তাড়া করছে। ক্রিয়েটররা বিভক্ত: দ্রুত কাটে দর্শক গড়া যাঁরা, তাঁরা উৎসাহটিকে দেখছেন অন্য কিছু হওয়ার দাবি হিসেবে।

কারা যোগ দিতে পারেন

কর্মসূচির দরকার ১০ হাজার অনুসারী, গত ৩০ দিনে ১ লাখ ভিডিও ভিউ, ভালো অবস্থার অ্যাকাউন্ট আর সমর্থিত দেশে বসবাস। শেষটিই এখানে জরুরি: বাংলাদেশ তালিকায় নেই, ক্রিয়েটর ফান্ডেও ছিল না। বাংলাদেশি টিকটকাররা—আর তাঁরা লাখো, কারও দর্শক যেকোনো দেশীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানের চেয়ে বড়—আয় করেন লাইভ-স্ট্রিমের উপহার, ব্র্যান্ড চুক্তি আর ফেসবুক ও ইউটিউবে ক্রস-পোস্টে, যেখানে মনিটাইজেশন তাঁদের কাছে পৌঁছায়।

তবু যা ইঙ্গিত দেয়

এখনো টাকা পাওয়ার অযোগ্যদের জন্যও দিকটি লক্ষণীয়। প্রতিটি বড় প্ল্যাটফর্ম এখন লম্বা, খোঁজার মতো, মৌলিক ভিডিওকে পুরস্কৃত করছে আর রিপোস্ট ও ক্লিপকে শাস্তি দিচ্ছে; যে ক্রিয়েটর এক-থেকে-তিন মিনিটের এমন লেখার ভান্ডার গড়েন, যা মানুষ নাম ধরে খোঁজে, তিনি প্রস্তুত হচ্ছেন প্রাপ্য খোলার মুহূর্তের জন্য, আর আজকের ইউটিউবের জন্য। আরও দেশ কবে যোগ হবে, টিকটক বলেনি।

সূত্র: ম্যাশেবল, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।