প্রযুক্তি

হোয়াটসঅ্যাপ নিজের ভেতরে শেয়ারইট গড়ছে: পাশের ফোনে ছবি ও ভিডিও পাঠান ইন্টারনেট ছাড়াই

বেটায় দেখা একটি সুবিধায় পাশাপাশি দুটি ফোন স্থানীয় সংযোগে ফাইল বিনিময় করতে পারে—এনক্রিপ্টেড, কোনো ডেটা খরচ ছাড়া—শেয়ারইট ও জেন্ডার যা এক দশক ধরে করেছে। এতে ফাইল, ছবি ও অবস্থানের অনুমতি লাগে, পরে বন্ধ করা যায়। সুবিধাটি কেন বাংলাদেশের মতো বাজারের দিকে তাক করা, আর যে অ্যাপগুলো নকল করছে, তাদের জন্য এর মানে।

হোয়াটসঅ্যাপ নিজের ভেতরে শেয়ারইট গড়ছে: পাশের ফোনে ছবি ও ভিডিও পাঠান ইন্টারনেট ছাড়াই

বাংলাদেশি বাজারে ফোন কিনেছেন এমন যে কেউ আচারটি জানেন: দোকানি শেয়ারইট খোলেন, আপনার পুরোনো ফোনের সঙ্গে জোড়া লাগান, আর মোবাইল ডেটার এক বাইটও খরচ না করে মিনিটের মধ্যে ছবিগুলো ঠেলে দেন। হোয়াটসঅ্যাপ সেই কাজটি চায়। অ্যাপের পরীক্ষামূলক বিল্ড পড়া ডব্লিউএবেটাইনফো অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ তৈরি করছে অফলাইন ফাইল শেয়ারিং—ছবি, ভিডিও, গান ও নথি স্থানীয় সংযোগে কাছের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে পাঠানো, কোনো ফোনেই ইন্টারনেট ছাড়া।

যেভাবে কাজ করে

দুটি ফোনকে কাছাকাছি থাকতে হয়, ব্লুটুথ বা শেয়ারইট ও জেন্ডারের ব্যবহার করা স্থানীয় ওয়াই-ফাই লিংকের মতো। হোয়াটসঅ্যাপ স্থানান্তরটি তার চিরাচরিত এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে মোড়ে, তাই অফলাইন ফাইল অনলাইন বার্তার মতোই গোপন। সংযোগ করতে অ্যাপের দরকার ফোনের ফাইল, ছবির গ্যালারি ও অবস্থানের অনুমতি—অবস্থানের অনুমতি অ্যান্ড্রয়েড কাছের যন্ত্র খুঁজতে চায়, নজরদারির জন্য নয়—আর স্থানান্তর শেষে শেয়ারিং মোড বন্ধ করা যায়। সুবিধাটি বেটা ব্যবহারকারীদের নিয়ে পরীক্ষায়; হোয়াটসঅ্যাপ কোনো ঘোষণা দেয়নি, তারিখও নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক ধরন বলে কয়েক মাসের মধ্যে সবার জন্য আসবে।

কাদের জন্য

প্রধানত বার্লিন বা বোস্টনের ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, যেখানে সীমাহীন ডেটা সমস্যাটি অদৃশ্য করে। অফলাইন শেয়ারিং জরুরি সেখানে, যেখানে ডেটা মাপা আর প্রায়ই মাসের শেষে ফুরানো, সংযোগ পড়ে যায়, আর ২০০ মেগাবাইটের ভিডিও সত্যিকারের খরচ। তা হোয়াটসঅ্যাপের ২০০ কোটি ব্যবহারকারীর বেশির ভাগ আর বাংলাদেশের প্রায় সবার বর্ণনা। এ কারণেই শেয়ারইট—নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারতে নিষিদ্ধ, সর্বত্র বিজ্ঞাপনে ঠাসা একটি চীনা অ্যাপ—এখানে এত ফোনে বসানো থেকে গেছে: এটি এমন একটি কাজ করে, যা হোয়াটসঅ্যাপ এত দিন পারত না।

নকল করা অ্যাপগুলোর জন্য এর মানে

প্ল্যাটফর্ম যখন একটি সুবিধা শুষে নেয়, যে আলাদা অ্যাপ তা দিত, তার অস্তিত্বের কারণ হারায়; হোয়াটসঅ্যাপ এটি করেছে এসএমএসের, স্কাইপের আর এর আগের ‘স্ট্যাটাস’ অ্যাপগুলোর সঙ্গে। শেয়ারইট ও জেন্ডার কিছুদিন সুবিধা রাখবে—ল্যাপটপে ক্রস-প্ল্যাটফর্ম স্থানান্তর, অ্যাকাউন্ট লাগে না—কিন্তু দৈনন্দিন ঘটনাটি, দুজনের মধ্যে ফোন থেকে ফোন যাঁদের দুজনেরই হোয়াটসঅ্যাপ আছে, সরে যাবে। ব্যবহারকারীদের জন্য নিট প্রভাব ভালো: বিস্তৃত ফাইল অনুমতির বিজ্ঞাপনভরা একটি অ্যাপ কম, আর একই ওয়াই-ফাইয়ের যে কারও কাছে খোলা নয়, এনক্রিপ্টেড স্থানান্তর।

আসার আগ পর্যন্ত

অ্যান্ড্রয়েডের অন্তর্নির্মিত কুইক শেয়ার (আগের নিয়ারবাই শেয়ার) ও অ্যাপলের এয়ারড্রপ শেয়ারইটের বোঝা ছাড়াই ইতিমধ্যে একই প্ল্যাটফর্মের ফোনের মধ্যে অফলাইন স্থানান্তর করে। আজ সেগুলোই নিরাপদ পছন্দ; হোয়াটসঅ্যাপেরটি হবে আগামীকালের সুবিধাজনকটি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।