ইলন মাস্ক কম সাক্ষাৎকার দেন, আর এটি সাজানো হয় কয়েক ঘণ্টার নোটিশে: বিবিসির প্রযুক্তি প্রতিনিধি জেমস ক্লেটনকে মঙ্গলবার রাতে টুইটারের সান ফ্রান্সিসকো সদর দপ্তরে ডাকা হয় আর তিনি কোম্পানির মালিকের সঙ্গে বসেন প্রায় এক ঘণ্টা, টুইটারেই লাইভ-স্ট্রিমে। এল টুইটার বিবিসিকে ‘সরকারি তহবিলের গণমাধ্যম’ লেবেল দেওয়ার কয়েক দিন পর, যা সম্প্রচারমাধ্যমটি অস্বীকার করে। ছয়টি জিনিস বেরোল।
১. আবার কিনতেন না
গত অক্টোবরে যে ৪,৪০০ কোটি ডলার দিয়েছেন তাতে টুইটার বেচবেন কি না জিজ্ঞেস করলে মাস্ক বললেন প্রস্তাব ফেরাবেন—আর তারপর যে আবার সে দাম দিতেনও না। কোম্পানিটি, তিনি বলেন, তাঁর নেওয়ার সময় লোকসানে ও দেউলিয়া হওয়া থেকে মাস দূরে ছিল; তারপর থেকে কর্মী প্রায় ৮,০০০ থেকে প্রায় ১,৫০০-তে নেমেছে, আর এখন ‘মোটামুটি ব্রেক-ইভেনে’, বেশির ভাগ বিজ্ঞাপনদাতা ফিরেছে। গত ছয় মাসকে তিনি বলেন ‘বেশ যন্ত্রণাদায়ক’।
২. ঘৃণা ভাষ্য: ‘একটা উদাহরণ দিন’
সাবেক কর্মীরা বিবিসিকে বলেছেন ছাঁটাইয়ের পর টুইটার আর ট্রলিং, রাষ্ট্র-সমর্থিত অপতথ্য ও শিশুর যৌন নিপীড়ন যথেষ্ট সামলাতে পারে না; কোম্পানি মার্চে ৪ লাখ অ্যাকাউন্ট মুছেছে। মাস্ক ঘৃণা ভাষ্য বেড়েছে দাবি নাকচ করেন, আর ক্লেটন নিজের দেখা নির্দিষ্ট পোস্ট বলতে না পারলে তাতে চাপ দেন—যে বিনিময় ভাইরাল হয়। তাঁর অবস্থান: তাঁর আসার আগেও বাইরের কারও তথ্যে প্রবেশাধিকার ছিল না, আর নিজের ফিডের তাঁর পাঠে আগের চেয়ে ঘৃণা ও ভুল তথ্য কম।
৩. বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন
মাস্ক বলেন ২০২০ সালে জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন—২০২১ সালে উসকানির জন্য নিষিদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বাক্স্বাধীনতার যুক্তিতে ফেরানোর পক্ষে বলতে বলতে।
৪. টিকটক নিষিদ্ধ নয়, যদিও তাতে তাঁর লাভ
তিনি টিকটক ব্যবহার করেন না, যা নিষিদ্ধের কথা যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে আর কয়েকটি সরকার সরকারি ফোন থেকে সরিয়েছে। ‘আমি সাধারণত কিছু নিষিদ্ধের বিপক্ষে,’ তিনি বলেন—আর যোগ করেন, অস্বাভাবিক স্পষ্টতায়, যে নিষেধাজ্ঞায় টুইটারের লাভ হবে কারণ মানুষ সেখানে বেশি সময় দেবে।
৫. বিবিসির লেবেল
তিনি মানেন লাইসেন্স ফিতে চলা সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য ‘সরকারি তহবিলের’ ট্যাগ ভুল, আর প্রতিশ্রুতি দেন ‘জনগণের অর্থে পরিচালিত’ করার। সাক্ষাৎকার শেষের কয়েক ঘণ্টায় নতুন লেবেল দেখা যায়।
৬. ধরন
তিনি বলেন তাঁর কুকুর এখন টুইটারের সিইও, তিনি অফিসে ঘুমান, আর যে টুইট তাঁর ঘুম কেড়েছে তা নিয়ে অনুশোচনা নেই। টুইটার আগের চেয়ে নিরাপদ না বিপজ্জনক, সাক্ষাৎকার তা মেটায়নি; দেখিয়েছে একজন মানুষ প্ল্যাটফর্ম চালাচ্ছেন প্রবৃত্তি ও তর্কে, যে মডারেশন যন্ত্র আগে চালাত তার বদলে। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য, যেখানে টুইটার ছোট কিন্তু সাংবাদিক, কূটনীতিক ও প্রবাসীরা প্রকাশ্যে তর্ক করেন, ধরে রাখার সত্য এটিই: নিয়ম এখন একজনের মত, লাইভে বলা।
সূত্র: বিবিসি, প্রথম আলোর বরাতে।




