আইডিবি ভবনের দোকানে গিগাবাইটের গ্রাফিকস কার্ডটি অন্য সবখানের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা সস্তা হলে, তার কারণ থাকতে পারে। ২০২২ সালের ৬ আগস্ট শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ব্র্যান্ডটির সরকারি পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিস জানায়, "কিছু অসাধু ব্যবসায়ী" নকল গিগাবাইট পণ্য বিক্রি করছে আর রিফার্বিশড, মেরামত করা যন্ত্রাংশ নতুন বলে চালাচ্ছে—অবৈধ পথে আমদানি, বিক্রয়োত্তর সেবা নেই।
যা বলা হলো
"গিগাবাইটের নাম ব্যবহার করে যারা নকল পণ্য বিক্রি করছে, তারা আমাদের ও ক্রেতাদের জন্য হুমকি," বলেন স্মার্টের বিতরণ ব্যবসা পরিচালক জাফর আহমেদ। "আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতিকে জানিয়েছি।" গিগাবাইটের বাংলাদেশ প্রধান খাজা মো. আনাস খান বলেন, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর মনে করিয়ে দেন, মাদারবোর্ড ও গ্রাফিকস কার্ডের বাইরেও ব্র্যান্ডটি এখন ল্যাপটপ, মনিটর, র্যাম, এসএসডি, কেসিং, পাওয়ার সাপ্লাই, কুলার, মাউস, কি-বোর্ড—সবই এখানে বিক্রি করে। ইন্টেলের পরের প্রজন্মের প্রসেসরের জন্য ইন্টেল ৬০০ সিরিজ মাদারবোর্ডের বায়োস হালনাগাদের ঘোষণাও আসে।
কেন এখন
সময়টা কাকতালীয় নয়। ২০২২ সালের বসন্তে ক্রিপ্টোকারেন্সির ধসে মাইনিংয়ের রমরমা শেষ, আর দুই বছর মাইনিং ফার্মে পুরো লোডে চলা লাখ লাখ গ্রাফিকস কার্ড এশিয়াজুড়ে বাজারে ছাড়া হচ্ছে—পরিষ্কার করে, নতুন বাক্সে, নতুন বলে। বিদেশে ওয়ারেন্টিতে ফেরত আসা মাদারবোর্ড মেরামত করে একইভাবে পুনঃরপ্তানি হয়। বাংলাদেশ, যেখানে পিসির বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ আসে অনানুষ্ঠানিক আমদানিকারকের হাত ধরে, সহজ গন্তব্য।
টাকা দেওয়ার আগে তিন যাচাই
- পরিবেশকের স্টিকার। সরকারি চ্যানেলে বিক্রি হওয়া আসল গিগাবাইট পণ্যে থাকে স্মার্ট টেকনোলজিসের ওয়ারেন্টি স্টিকার, সিরিয়াল নম্বরসহ। স্টিকার নেই মানে দেশীয় ওয়ারেন্টি নেই—দোকান যা-ই বলুক।
- অনলাইনে সিরিয়াল নম্বর। গিগাবাইটের ওয়েবসাইটে ওয়ারেন্টি যাচাইয়ের পাতা আছে; বাক্স ও বোর্ডের সিরিয়াল দিন। যে কার্ড আগেই নিবন্ধিত, ওয়ারেন্টির বাইরে বা অন্য অঞ্চলে বিক্রীত দেখায়, তা নতুন নয়।
- রসিদ। মডেল ও সিরিয়াল লেখা ছাপা রসিদ চান। যে দোকান দেবে না, সে কিছু বলছে। গ্রাফিকস কার্ডে পিসিআইই কানেক্টরে ক্ষয় আর ফ্যানের বিয়ারিংয়ে শব্দও দেখুন; মাইনিংয়ের কার্ড দিনে ২৪ ঘণ্টা চলেছে।
আসল খরচ ওয়ারেন্টির ফাঁক। সরকারি গিগাবাইট মাদারবোর্ড ও গ্রাফিকস কার্ডে তিন বছরের দেশীয় সেবা; চার মাসে মরে যাওয়া গ্রে কার্ড মানে ৪০ হাজার টাকার ই-বর্জ্য। স্মার্ট-অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে কিনুন, রসিদ রাখুন, আর বাড়ি ফিরেই সিরিয়াল নিবন্ধন করুন।




