বিক্রেতারা বলছেন এ সপ্তাহে কিছুই নড়েনি, আর শান্ত বর্ষা পেরিয়ে ক্রেতারা ফিরেছেন ভালো সংখ্যায়। তবে মে মাসের তালিকার পাশে রাখলে দেখা যায় অনেক কিছুই সরে গেছে—আর তা একসঙ্গে দুই বিপরীত দিকে।
প্রসেসর: সবখানেই নিচে
তালিকার প্রতিটি ইন্টেল যন্ত্রাংশের দাম কমেছে, আর সবচেয়ে বেশি কমেছে শীর্ষের চিপটির। কোর আই৯ ১৪তম প্রজন্ম এখন ৫৫ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৭২ হাজার—১৭ হাজার টাকার কাটছাঁট।
- কোর আই৭ ১৪তম প্রজন্ম — ৪৮,৫০০ → ৪৪,৫০০ (−৪,০০০)
- কোর আই৭ ১৩তম প্রজন্ম — ৪৩,০০০ → ৪০,০০০ (−৩,০০০)
- কোর আলট্রা ৫ ২৪৫কেএফ — ৩৭,৫০০ → ৩৪,৫০০ (−৩,০০০)
- কোর আই৫ ১৪তম প্রজন্ম — ৩২,০০০ → ২৯,০০০ (−৩,০০০)
- কোর আই৫ ১৩তম প্রজন্ম — ২২,৫০০ → ২০,৫০০ (−২,০০০)
- রাইজেন ৯ ৭৯০০এক্স — ৪২,০০০ → ৩৯,০০০ (−৩,০০০)
- রাইজেন ৭ ৫৭০০জি — ১৭,০০০ → ১৫,০০০ (−২,০০০)
- রাইজেন ৫ ৫৬০০জি — ১৩,২০০ → ১৪,৮০০ (+১,৬০০, একমাত্র ব্যতিক্রম)
শীর্ষে নতুন: কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে ৭২ হাজার টাকায় আর কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে ৪৪ হাজার ৫০০ টাকায়; সঙ্গে আসুস প্রাইম জেড৮৯০-প্লাস সিএসএম বোর্ড (ডিডিআর৫, ওয়াই-ফাই ৭) ৩৮ হাজার টাকায়।
মেমোরি: উঠছে, আর দ্রুত
এবারের মূল খবর র্যাম। করসেয়ার ভেনজেন্স এলপিএক্স ১৬ জিবি ডিডিআর৪ ৩২০০ এখন ৬ হাজার টাকা, মে মাসে যা ছিল ৩ হাজার ৯০০—চার মাসে ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি। জি.স্কিল ট্রাইডেন্ট জেড ৮ জিবি ডিডিআর৪ গেছে ৩,৩০০ থেকে ৪,১০০-তে; টুইনমস ৮ জিবি ২,৩০০ থেকে ৩,০০০-এ।
তাকে এখন ডিডিআর৫-এর পুরো একটি সারি: ট্রান্সসেন্ড জেটর্যাম ৮ জিবি ৩,৫০০, ১৬ জিবি ৬,৫০০, ৩২ জিবি ১২,০০০; করসেয়ার ভেনজেন্স আরজিবি ১৬ জিবি ৬০০০ মেগাহার্জ ৯,০০০।
স্টোরেজও গেছে একই দিকে—স্যামসাং ৯৮০ এনভিএমই ৫০০ জিবি ৬,৭৫০ থেকে ৭,৩০০, ৮৭০ ইভো ৬,৮০০ থেকে ৭,২০০, ডব্লিউডি মাই পাসপোর্ট ১ টিবি ৭,০০০ থেকে ৮,০০০। আর গ্রাফিকসের শীর্ষে এমএসআই আরটিএক্স ৫০৮০ গেছে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজারে।
দুই দিক কেন
যেকোনো একক সংখ্যার চেয়ে এ অংশটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুই গতির কারণ সম্পর্কহীন—আর তার একটিই কেবল উল্টো দিকে ফিরবে।
প্রসেসর কমছে পণ্যচক্রের কারণে। নতুন যন্ত্রাংশ আসার আগে ইন্টেল ১৪তম প্রজন্মের মজুত ছাড়ছে, আর এ কারণেই কাটছাঁট সবচেয়ে গভীর সারির ওপরের দিকে—যেখানে নতুন কোর আলট্রা চিপগুলো প্রতিযোগিতা করছে। এ ছাড়ের একটি শেষ তারিখ আছে: পুরোনো মজুত ফুরোলে দামটিও ফুরোবে।
মেমোরি বাড়ছে এআইয়ের কারণে। নির্মাতারা উৎপাদনক্ষমতা সরাচ্ছেন এআই সার্ভারের ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরির দিকে, ফলে সাধারণ ডিডিআর৪ ও ডিডিআর৫-এর জন্য লাইনের সময় কমছে। এটি স্থানীয় ঘাটতি নয়, মৌসুমিও নয়—এটি এমন এক শিল্পের বিশ্বজোড়া চাহিদা, ভোক্তা বাজার যার চেয়ে বেশি দাম দিতে পারে না।
ঢাকা এটি টের পায় আগে আর পুরো মাত্রায়, কারণ প্রতিটি স্টিকই আমদানি করা—দেশে উৎপাদন নেই যে ধাক্কাটা শুষে নেবে, আর তার ওপর আছে বিনিময় হার।
কিনতে চাইলে এর মানে কী
এ প্রান্তিকে চেনা পরামর্শটি উল্টে গেছে। র্যাম এখনই কিনুন, প্রসেসর অপেক্ষা করতে পারে।
মজুত ছাড়ার কারণে কমা সিপিইউর দাম আগামী মাসেও থাকবে, আরও কমতেও পারে; বিশ্বজোড়া উৎপাদনক্ষমতার সরে যাওয়ায় দাম বাড়া মেমোরি সস্তা হবে না, আর এর মধ্যেই দেখা ৫৪ শতাংশ ইঙ্গিত দেয় গতিটির আরও পথ বাকি। বছরের শেষের পরীক্ষার আগে বিল্ড করতে চাইলে আগে নিশ্চিত করার জিনিসটি মেমোরি—বেশির ভাগ মানুষ যে ক্রমে বিল্ড সাজান, ঠিক তার উল্টো।
বাজার ঘুরে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রথম আলোর। ওপরের তালিকায় নেই এমন সবকিছুর দাম মে মাস থেকে অপরিবর্তিত।




