মো. জহিরুল ইসলাম চালান স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড, দেশের বৃহত্তম দুই-তিনটি কম্পিউটার পরিবেশকের একটি—এলিফ্যান্ট রোড ও আইডিবি ভবনের তাকের ল্যাপটপ, মনিটর ও যন্ত্রাংশের বড় অংশের পেছনের কোম্পানি। বাজারের অবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর পল্লব মোহাইমেনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সম্পাদিত অংশ।
এখনকার বাজার নিয়ে
‘মোটামুটি ভালো। তবে পুরোনো পণ্যে বাজার সয়লাব। কাস্টমসে নানাভাবে ফাঁকি দিয়ে এসব পুরোনো পণ্য আনা হচ্ছে। এমনিতে বাজার দ্রুতই বাড়বে।’
দাম কেন দ্বিগুণ
‘নতুন ল্যাপটপে কর ও ডলারের দাম বাড়ায় ল্যাপটপের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যে মানের ল্যাপটপ ৪০ হাজার টাকায় কেনা যেত, এখন সেটির দাম ৭০ হাজার। এ কারণে পুরোনো ল্যাপটপ বাজারে ঢুকছে—যেগুলো দ্রুতই নষ্ট হয়। তবে কম্পিউটার বিক্রি বাড়বেই। ব্যাক গিয়ারে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
সংখ্যা তাঁকে সমর্থন করে। ২০২৩–২৪ বাজেট বিদ্যমান শুল্কের ওপর ভ্যাটমুক্ত থাকা আমদানি করা ল্যাপটপে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে, আর ২০২২ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে টাকা ডলারপ্রতি ৮৫ থেকে ১১৮-এ নামে। দুটি মিলে তাঁর বর্ণনা করা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি প্রায় হুবহু ব্যাখ্যা করে।
ক্রেতারা কী চান
‘ন্যায্য ও সঠিক দামে কেনার আগ্রহ আছে। ব্যাংক অনেক পণ্যে ভোক্তা ঋণ দেয়—কিন্তু কম্পিউটারে দেয় না। কম্পিউটারের ঋণ শিক্ষার্থীদের খুব সুবিধা হতো; ৫০ হাজার টাকা হলেই হয়। তাঁরাই তো ভবিষ্যৎ। পাকিস্তান ১০ লাখ ল্যাপটপ বিনা মূল্যে দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার কেনার ঋণসুবিধাও নেই। জাতি গঠনে এমন সুবিধা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশে কম্পিউটার তৈরি নিয়ে
‘প্রয়োজন তো আছেই—কিছুটা কম দামে পণ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু সরকারের নীতিমালা উৎপাদনবিরোধী। কম্পিউটার কারখানার আমদানি করা কাঁচামাল দেখলেই কাস্টমস অনেক বেশি কর বসায়। কাস্টমসের আইন ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমরাও হাইটেক পার্কে একটি কারখানা করেছি, শিগগিরই উৎপাদনে যাব, কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিদ্যমান নীতিমালায় কাজটি কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ড্যাফোডিলও সেখানে কারখানা দিয়েছে, একই সমস্যায়। তবে ওয়ালটন কারখানা চালু রেখেছে।’
আইসিটিতে হার্ডওয়্যারের জায়গা
‘সফটওয়্যার খাত রপ্তানি করে—বলা হয় বছরে ১০০ কোটি ডলারের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা। হার্ডওয়্যারের কোনো রপ্তানি নেই। তবে স্থানীয় বাজার আছে, বড়ও হচ্ছে, তাই স্থানীয় কম্পিউটার কারখানা করা যায়। করতে দিতে হবে; তাহলে তথ্যপ্রযুক্তি খাত আরও এগোবে।’
তিনি যে কথাটি বলছেন
বাংলাদেশ ফোন সংযোজন করে—স্যামসাং, ওয়ালটন, সিম্ফনি ও অন্যরা এখানে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ হ্যান্ডসেট বানায়—কারণ ২০১৭-র বাজেট তৈরি ফোনের চেয়ে যন্ত্রাংশ আমদানি সস্তা করে। ল্যাপটপ কখনো সে সুবিধা পায়নি: তৈরি ল্যাপটপ ও ল্যাপটপের মাদারবোর্ডে প্রায় একই শুল্ক, তাই সংযোজনের কারণ নেই। ইসলামের যুক্তি, ফোনের নীতি কাজ করেছে আর তা নকল করা উচিত। এনবিআরের পাল্টা যুক্তি রাজস্ব: ল্যাপটপ ৪ হাজার কোটি টাকার আমদানি আর এর ভ্যাট সহজে আদায় হয়। দুইয়ের মাঝে বসে আছেন একজন শিক্ষার্থী, যে যন্ত্র দুই বছর আগে ৪০ হাজার ছিল তার জন্য ৭০ হাজার টাকা দিচ্ছেন।




