প্রযুক্তি

এক বছর মেয়াদের ডেটা প্যাক: "আনলিমিটেড" ও দৈনিক সীমার বান্ডেল অপারেটরদের ওপর চাপিয়ে দিল বিটিআরসি

৩১ মে থেকে প্রতিটি অপারেটরকে বিক্রি করতে হবে বছরব্যাপী ডেটা প্যাক আর দৈনিক সীমার মাসিক প্যাক। ঘোষিত দাম, "আনলিমিটেড" আসলে কী, আর সত্যিই কার টাকা বাঁচবে।

এক বছর মেয়াদের ডেটা প্যাক: "আনলিমিটেড" ও দৈনিক সীমার বান্ডেল অপারেটরদের ওপর চাপিয়ে দিল বিটিআরসি

প্রতিটি বাংলাদেশি মোবাইল ব্যবহারকারী অন্তত একবার যে অভিযোগ করেছেন—৭ দিনের প্যাক ৩ জিবি বাকি রেখেই শেষ—তা অবশেষে নিয়ন্ত্রকের কানে পৌঁছাল। ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন দুই ধরনের নতুন ডেটা প্যাকেজ উদ্বোধন করে, যা চার অপারেটরকেই ৩১ মের মধ্যে চালু করতে হবে: এক বছর মেয়াদের "আনলিমিটেড" প্যাক আর দৈনিক সীমাসহ নিরবচ্ছিন্ন মাসিক প্যাক।

বছরব্যাপী প্যাক ও দাম

  • গ্রামীণফোন: ১৫ জিবি ১,০৯৯ টাকা; ৫ জিবি ৪৪৯ টাকা।
  • রবি: ১০ জিবি ৩১৯ টাকা।
  • বাংলালিংক: ৫ জিবি ৩০৬ টাকা।
  • টেলিটক: ২৬ জিবি ৩০৯ টাকা; ৬ জিবি ১২৭ টাকা।

এখানে "আনলিমিটেড" মানে সময়ে সীমাহীন, পরিমাণে নয়; আর সেটিও ৩৬৫ দিনে বাঁধা—বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ জানান, কারিগরি সীমাবদ্ধতায় এর বেশি মেয়াদ সম্ভব নয়। প্যাকগুলো শুধু ডেটার; ভয়েস, এসএমএস বা সোশ্যাল প্যাক যুক্ত নেই, আর শেষে অব্যবহৃত ডেটা ফেরত আসবে না।

দৈনিক সীমার মাসিক প্যাক

গ্রামীণফোন বিক্রি করবে ৩০ দিনের ৩৯৯ টাকার প্যাক (দিনে ১ জিবি পর্যন্ত) ও ৬৪৯ টাকার (দিনে ২ জিবি পর্যন্ত), সঙ্গে দিনে ১ জিবির ৩৬৫ দিনের সংস্করণ। রবি ও বাংলালিংকের ৩০ দিনে দিনে ২ জিবি পর্যন্ত; টেলিটকের ৩০ দিনের চারটি প্যাক—দিনে ১, ২, ৩ ও ৫ জিবি। এগুলোর বেশির ভাগের দাম উদ্বোধনে জানানো হয়নি।

সত্যিই কার লাভ

বদলানোর আগে জিবিপ্রতি হিসাব করুন। গ্রামীণফোনের এক বছরের ১৫ জিবি পড়ে জিবিপ্রতি প্রায় ৭৩ টাকা; তাদের সাধারণ ৭ ও ৩০ দিনের প্যাকে জিবি পড়ে ১৫-২৫ টাকা। টেলিটকের ৩০৯ টাকায় ২৬ জিবি জিবিপ্রতি ১২ টাকার নিচে—তবে যেখানে টেলিটকের নেটওয়ার্ক আছে, শুধু সেখানে। বছরব্যাপী প্যাক কাজের হালকা ব্যবহারকারীর জন্য: মা-বাবার ফোন, বিকাশ আর ওটিপির জন্য বাঁচিয়ে রাখা দ্বিতীয় সিম, আর যাঁরা বারবার মেয়াদ শেষে ডেটা হারিয়েছেন। ভারী ব্যবহারকারীর জন্য ছোট প্যাকই ভালো, আর তার চেয়ে ভালো বাড়ির ব্রডব্যান্ড।

নিয়ন্ত্রকের মেজাজ

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সময়সীমা তুলে নিলে মানুষ "ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা" পায়, আর "বর্তমান সেবায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়"। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার আরও এক ধাপ এগিয়ে: কমিশন "অপারেটরদের প্রতি তৃপ্ত না, বিরক্ত"; মান না বাড়লে জরিমানা। এক মাস আগেই এই অপারেটরদের কাছে ১০ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকার তরঙ্গ বিক্রির পর নিয়ন্ত্রক এখন দৃশ্যমান ফল চায়।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।