লালবাগের মো. আরিফ হোসেন জমি বিক্রি করে সেই টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলেন। ফিরে আসতে হলো: শুধু টিআইএন সনদ নয়, আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ লাগবে। এ বছরের বাজেট থেকে ৩৮টি সেবায়—সঞ্চয়পত্র ও জমি নিবন্ধন থেকে ক্রেডিট কার্ড, ইউটিলিটি সংযোগ বা ট্রেড লাইসেন্স—রিটার্নের প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ লাগে। টিআইএন আছে কিন্তু রিটার্ন দেওয়ার অভ্যাস নেই, এমন বহু মানুষ একইভাবে তা টের পাচ্ছেন। ব্যক্তি করদাতার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর, আর রিটার্ন এখন ঘরে বসেই দেওয়া যায়।
কাকে দিতে হবে, কাকে কর দিতে হবে
যাঁর করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর আছে, তাঁকেই রিটার্ন দিতে হবে—কর প্রাপ্য হোক বা না হোক। কর দিতে হয় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা বাদে বছরে আয় ৩ লাখ টাকা ছাড়ালে, বা মূল বেতন মাসে ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে। সীমা নারী, ৬৫-ঊর্ধ্ব ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার ৩ লাখ ৫০ হাজার, প্রতিবন্ধী করদাতার ৪ লাখ ৫০ হাজার, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ৪ লাখ ৭৫ হাজার। রিটার্ন আগের অর্থবছরের—জুলাই থেকে জুন; ২০২২-এর রিটার্নে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের আয়। আয় সীমার নিচে হলে "শূন্য রিটার্ন", কিছু দিতে হয় না।
অনলাইনে জমা, ধাপে ধাপে
- etaxnbr.gov.bd-তে যান (nbr.gov.bd থেকে লিংক), ই-রিটার্ন বেছে নিন।
- টিআইএন আর এনআইডিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন। এসএমএসে ছয় অঙ্কের ওটিপি আসবে; দিন, শক্ত পাসওয়ার্ড ঠিক করুন।
- সাইন ইন করুন। ফরমে উৎস ধরে আয়, অনুমোদিত ব্যয়, সম্পদ ও দায়; বেতনভুকদের মূলত লাগে বেতনের সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগের কাগজ।
- শূন্য রিটার্নে কয়েক মিনিট। কর প্রাপ্য হলে সাইটই কর ও রেয়াত হিসাব করে, কত দিতে হবে দেখায়; অনলাইনে দেওয়া যায়।
- জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ ডাউনলোড করুন। ব্যাংক বা সাব-রেজিস্ট্রার ওই স্লিপটিই দেখতে চাইবে।
সাইটে রিটার্নের কপি ও কর সনদও মেলে, সময় বাড়ানোর আবেদনও করা যায়। কাগজে রিটার্ন এখনো দেওয়া যায় কর অফিসে, প্রতি নভেম্বরের আয়কর মেলায়, বা বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে।
টিআইএন এখনো নেই?
incometax.gov.bd-তে নিন: Register-এ ক্লিক, ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ, ফোনে আসা কোড দিন, তারপর লগইন অবস্থায় টিআইএন সনদের আবেদন করে তখনই ডাউনলোড। লাগে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর; প্রতিষ্ঠানের আরজেএসসি নম্বর। তারপর ই-রিটার্ন সাইটে ফিরে রিটার্ন দিন—কারণ টিআইএন পাওয়ার মুহূর্ত থেকেই রিটার্নের বাধ্যবাধকতা শুরু।
সময়সীমা পেরোলে জরিমানা আর প্রাপ্য করে সুদ; আর বাস্তবে, রিটার্ন না দেওয়া পর্যন্ত ৩৮টি দরজা বন্ধ।




