২০২২ সালের ৯ নভেম্বর বুধবার মার্ক জাকারবার্গ মেটার কর্মীদের জানালেন, তাঁদের ১১ হাজার জন—প্রায় ১৩ শতাংশ—চাকরি হারাচ্ছেন; কোম্পানির ১৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম গণছাঁটাই। মহামারিতে অনলাইন কার্যকলাপের উল্লম্ফন টিকে থাকবে—এই বাজি নিয়ে তিনি লিখলেন, "আমি ভুল করেছি, দায় আমার।" পাঁচ দিন পর এল হার্ডওয়্যারের কাটছাঁট: ১৪ নভেম্বরের খবর, মেটা তাদের ভিডিও কলিং পর্দা পোর্টাল বানানো বন্ধ করছে, আর ২০২৩ সালে আনার জন্য তৈরি হতে থাকা দুটি স্মার্টওয়াচ বাতিল।
যা যাচ্ছে
- পোর্টাল। ২০১৮ সালে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের ঘরোয়া ভিডিও কলিং যন্ত্র হিসেবে আসা পণ্যটি কখনো গণবাজার পায়নি; জুনে ভোক্তা সংস্করণ তুলে ব্যবসার দিকে ঘোরানোর সিদ্ধান্ত এখন পুরো গুটিয়ে ফেলায়।
- দুটি স্মার্টওয়াচ। খোলা যায় এমন ক্যামেরা ও ভিডিও কলিংয়ের সাংকেতিক নামের প্রকল্প, পরের বছরের জন্য পরিকল্পিত—পুরোপুরি বাতিল।
যা থাকছে
কোয়েস্ট ২ ও নতুন ১,৫০০ ডলারের কোয়েস্ট প্রো হেডসেট, আর তৈরি হতে থাকা অগমেন্টেড রিয়েলিটির চশমা। জাকারবার্গ বলেছেন, "মেটাভার্স" গড়া বিভাগ রিয়েলিটি ল্যাবসে খরচ চলবে—যা ২০২২ সালের প্রথম নয় মাসে লোকসান করেছে ৯৪০ কোটি ডলার, পরের বছর আরও বেশি হওয়ার কথা। অর্থাৎ কাটছাঁট পড়ছে সবকিছুর ওপর—শুধু যেটি বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে কাটাতে চেয়েছিলেন, সেটি ছাড়া।
কেন এখন
তিনটি শক্তি এক হলো। আইফোনে অ্যাপলের ২০২১ সালের গোপনীয়তার বদলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপন লক্ষ্য করা কঠিন হয়, বছরে আনুমানিক ১ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি। ২৫-এর নিচের মনোযোগ নিয়ে গেল টিকটক। আর মহামারির পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা, সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, সবখানে বিজ্ঞাপনের বাজেট কাটল। মেটার আয় পরপর দুই প্রান্তিকে কমে, শেয়ারের দাম এক বছরে প্রায় ৭০ শতাংশ পড়ে, আর দুই বছরে ২৭ হাজার নিয়োগ দেওয়া কোম্পানি উল্টো পথ ধরে। একা নয়: ৪ নভেম্বর টুইটার অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে, অ্যামাজনের প্রায় ১০ হাজার কাটার খবর।
এখানে এর মানে
বাংলাদেশে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কিছু বদলাচ্ছে না; ওগুলোই লাভজনক পণ্য, যা বাঁচাতে কাটছাঁট। ছাঁটাই দেশকে ছোঁয় দুইভাবে। মেটার যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরের অফিসের বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে, আর নিয়োগ স্থগিতে আপাতত বন্ধ বুয়েট ও দেশের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার স্নাতকদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যগুলোর একটি। আর সরকারি অনুরোধ, নির্বাচনের সততা ও বাংলা ভাষার মডারেশন সামলানো মেটার আঞ্চলিক দলগুলো একই ১৩ শতাংশের অংশ; তারা কতটা পাতলা হয়, তার উত্তর দেবে পরের নির্বাচনের বছর।




