প্রযুক্তি

মেসেঞ্জারের চ্যাট বাবল আসছে হোয়াটসঅ্যাপে—অ্যান্ড্রয়েডের ছোট বদল, বড় বিরক্তির সমাধান

নতুন বার্তা দেখানো এবং যে অ্যাপেই থাকুন তার ওপরে ছোট চ্যাট উইন্ডো খোলার ভাসমান বাবল আসছে অ্যান্ড্রয়েডের হোয়াটসঅ্যাপে, জানাচ্ছে ডব্লিউএবেটাইনফো। কীভাবে কাজ করে, কিসের ওপর তৈরি, আর আইফোন ব্যবহারকারীদের কেন অপেক্ষা।

মেসেঞ্জারের চ্যাট বাবল আসছে হোয়াটসঅ্যাপে—অ্যান্ড্রয়েডের ছোট বদল, বড় বিরক্তির সমাধান

অ্যান্ড্রয়েডে ফেসবুক মেসেঞ্জারের সবচেয়ে ব্যবহৃত সুবিধা কখনোই স্টিকার ছিল না; ছিল চ্যাট হেড—পর্দার ওপর ভাসতে থাকা গোল বাবল, যার কল্যাণে মানচিত্র, ভিডিও বা স্প্রেডশিট না ছেড়েই বার্তার উত্তর দেওয়া যায়। একই কোম্পানির মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপে এটি কখনো ছিল না। ফিচার-অনুসরণকারী সাইট ডব্লিউএবেটাইনফো জানাচ্ছে, নোটিফিকেশন বাবল দিয়ে সেটি বদলাতে যাচ্ছে।

যেভাবে কাজ করবে

আপনি অন্য অ্যাপে থাকা অবস্থায় নতুন বার্তা এলে পর্দায় একটি বাবল আসবে, যাতে কন্টাক্ট বা গ্রুপের প্রোফাইল ছবির সঙ্গে ছোট হোয়াটসঅ্যাপ চিহ্ন। ট্যাপ করলে যা করছিলেন তার ওপরে একটি ছোট চ্যাট উইন্ডো খুলবে; পড়ুন, উত্তর দিন, সরিয়ে দিয়ে সরাসরি ফিরে যান। বাবলটি মেসেঞ্জারের মতোই টেনে সরানো বা ঝেড়ে ফেলা যাবে। উদ্দেশ্য: অ্যাপ ছেড়ে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা, চ্যাট খোঁজা, ফিরে আসার ঘুরপথটি মুছে দেওয়া—যা বহু মানুষের দিনে ডজনবার ঘটে।

কিসের ওপর তৈরি

হোয়াটসঅ্যাপ এখানে নতুন কিছু আবিষ্কার করছে না। অ্যান্ড্রয়েড ১১ থেকেই সিস্টেম পর্যায়ে বাবলস এপিআই আছে, ঠিক এ জন্যই যে মেসেজিং অ্যাপগুলো কোনো কারসাজি ছাড়া চ্যাট হেড দিতে পারে। মেসেঞ্জার এটি ব্যবহার করে; টেলিগ্রাম ও গুগল মেসেজেসও করে। হোয়াটসঅ্যাপের দেরিতে নেওয়া কারিগরি কৃতিত্ব নয়, অবশেষে নেওয়া একটি পণ্য-সিদ্ধান্ত—আর এর মানে সুবিধাটি আপনার হাতে থাকা সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ মানবে। বাবল বিরক্তিকর লাগলে হোয়াটসঅ্যাপের অ্যান্ড্রয়েড নোটিফিকেশন সেটিংসে চ্যাটভেদে বা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে।

আগে অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন হয়তো

সুবিধাটি প্রথমে আসছে অ্যান্ড্রয়েড বেটা ব্যবহারকারীদের জন্য, আর ডব্লিউএবেটাইনফোর ইঙ্গিত, আইফোন ব্যবহারকারীরা পরে পেতে পারেন—কিন্তু আইওএসে বাবলস এপিআইয়ের কোনো সমতুল্য নেই, আর অ্যাপল কোনো অ্যাপকে অন্য অ্যাপের ওপর ভাসতে দেয় না; আইফোন সংস্করণকে বেশ আলাদা দেখতে হবে। কোনো প্ল্যাটফর্মের জন্যই তারিখ জানানো হয়নি।

ভালো ধারণা কি

যাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ কাজে ব্যবহার করেন—ডেলিভারি সমন্বয় করা রাইডার, অন্য অ্যাপে মজুত সামলাতে সামলাতে গ্রাহকের উত্তর দেওয়া দোকানি—তাঁদের জন্য বাবল সত্যিই সময় বাঁচায়। বাকিদের জন্য এটি ফোনের বাধা দেওয়ার আরেকটি পথ। এলে সবচেয়ে ভালো পন্থা বাছাই করে ব্যবহার: যে দু-তিনটি চ্যাটে সত্যিই তাৎক্ষণিক উত্তর লাগে, শুধু সেগুলোর বাবল চালু রাখুন; পারিবারিক গ্রুপ থাকুক নোটিফিকেশন শেডেই।

আরেকটি ছোট বিষয় মনে রাখার মতো: বাবল চালু থাকলে চ্যাটের ছোট উইন্ডোটি অন্য অ্যাপের ওপরে খোলে, তাই মিটিং বা উপস্থাপনার সময় পর্দা শেয়ার করলে বার্তা অন্যদের চোখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যান্ড্রয়েডের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ চালু রাখাই নিরাপদ।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।