প্রযুক্তি

গুগল ম্যাপস বলল স্কটল্যান্ডের মহাসড়ক বন্ধ; তিন দিন ধরে কোচ আর ক্যাম্পারভ্যান পাঠাল এমন গলিতে, যেখানে পাশ কাটানোর জায়গাই নেই

এ৯ সড়ক পুরো সময়ই খোলা ছিল। ম্যাপস পার্থশায়ারের তিন গ্রামের এক লেনের রাস্তায় ঘণ্টায় ৪০ মাইল গতিতে গাড়ি পাঠাল; বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরোতে পারলেন না, আর সমাধান এল এক আন্দোলনকর্মী গুগলে ফোন করার পর। ঢাকার প্রতিটি চালক এই অনুভূতি চেনেন।

গুগল ম্যাপস বলল স্কটল্যান্ডের মহাসড়ক বন্ধ; তিন দিন ধরে কোচ আর ক্যাম্পারভ্যান পাঠাল এমন গলিতে, যেখানে পাশ কাটানোর জায়গাই নেই

গত সপ্তাহে তিন দিন ধরে গুগল ম্যাপস স্কটিশ হাইল্যান্ডসের প্রধান সড়ক এ৯-এর চালকদের বলেছে, ডানকেল্ড থেকে পিটলখরি পর্যন্ত অংশটি বন্ধ, আর দেখিয়েছে "বিকল্প পথ"। সড়কটি পুরো সময়ই খোলা ছিল। বিকল্পটি ছিল ইউ১৬৩—এক লেনের আঁকাবাঁকা রাস্তা, পাশ কাটানোর কোনো জায়গা নেই, পার্থশায়ারের বালিনলুইগ, টুলিমেট ও গাই গ্রামের ভেতর দিয়ে যায়—আর শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সেই পথে নেমেছে ক্যাম্পারভ্যান, পূর্ণ আকারের কোচ, নৌকা টানা গাড়ি, আর ফোনকে বিশ্বাস করা বাকি সবাই।

"কেউ পাশ কাটাতে পারছিল না, সবাইকে পেছাতে হচ্ছিল"

"মানুষ শুধু গুগল যা বলছিল তা-ই করছিল, কিন্তু গতিটা ছিল অবিশ্বাস্য," গাই গ্রামের বাসিন্দা জোয়ান বয়েন বিবিসি স্কটল্যান্ড নিউজকে বলেন। ট্রাক্টরের জন্য বানানো রাস্তায় তিনি ঘণ্টায় ৪০ মাইল গতিতে গাড়ি চলতে দেখেছেন, বাঁকগুলো ঢাকা ঝোপঝাড়ে। "দুই দিক থেকেই গাড়ি আসছিল, তাই যেখানে কেউ পাশ কাটাতে পারে না, সেখানে পৌঁছে সবাইকে পেছাতে হচ্ছিল।"

তিন মাইল দূরে ওই রাস্তার ধারেই থাকেন তাঁর মা-বাবা; শুক্রবার থেকে সোমবার তাঁরা ঘর থেকে বের হননি, হাঁটতেও না, কারণ বাইরের রাস্তা ছিল বিপজ্জনক। তাঁদের খোঁজ নিতে দশ মিনিটের পথ লেগেছে ৪৫ মিনিট। গায়ে গায়ে লেগে থাকা গাড়ির সারি নিয়ে গ্রামগুলোর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল একটাই: অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়ি ঢুকতে পারত না।

ঠিক হলো যেভাবে

সড়ক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট স্কটল্যান্ড শনিবার এক্স-এ লেখে, ম্যাপস এ৯ বন্ধ বলে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তাতে কিছু ঠিক হয়নি। এ৯ ডুয়াল অ্যাকশন আন্দোলন গোষ্ঠীর লরা হ্যান্সলারের ভাষ্য, সমাধান এসেছে তাঁদের এক সদস্য লন্ডনে গুগল ম্যাপস দলের কাছে পৌঁছাতে পারার পর। মন্তব্যের জন্য গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। হ্যান্সলার বলেন, এর আগেও ম্যাপস একই সড়কে ভুল গতিসীমা দেখিয়েছে, আর এ৯-এ ডাইভারশন দেখলে চালকেরা "ধরেই নেন, নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছে"। ট্রান্সপোর্ট স্কটল্যান্ড তাঁকে জানিয়েছে, গুগল বা অন্য কোনো স্যাটন্যাভ সংস্থার সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো তথ্যসংযোগ নেই—আর এটাই সমস্যার মূল: রাস্তা খোলা কি না যে সংস্থা জানে, লাখো মানুষ যে ম্যাপ মেনে চলে তাতে তার কোনো তার নেই।

ম্যাপ ভুল করে কেন

কোনো রাস্তা বন্ধ কি না, গুগল ম্যাপস ঠিক করে কয়েকটি উৎস মিলিয়ে: যেখানে আছে সেখানে সরকারি ফিড, অ্যাপে "রোড ক্লোজড" চাপা চালকদের রিপোর্ট, আর কোনো অংশে ফোনগুলো থেমে গেলে তার নিজের অনুমান। পুলিশের একটি চেকপোস্ট, ধীর একটি সারি বা কয়েকটি ভুল রিপোর্ট সেই অনুমানকে "বন্ধ"-এ ঠেলে দিতে পারে; আর ম্যাপস একবার বিশ্বাস করলে প্রতিটি ফোন একই পথে ঘুরে যায়—পুরো মহাসড়কের গাড়ি নামে ম্যাপে সবচেয়ে ছোট যে রেখা, তাতে; কোচ সেখানে আঁটে কি না, তা বিবেচ্য নয়।

ঢাকার সংস্করণ

বাংলাদেশের প্রতিটি চালককেই ম্যাপস কখনো না কখনো এমন গলিতে পাঠিয়েছে, যার শেষে খাল; কিংবা মহাসড়ক জ্যাম ভেবে ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়ক থেকে ভালুকায় নামিয়ে দিয়েছে গ্রামের রাস্তায়। এখানে এক্স-এ লেখার মতো ট্রান্সপোর্ট স্কটল্যান্ডও নেই; সওজ, বিআরটিএ বা সিটি করপোরেশনের কোনো তথ্যফিড ম্যাপসে যায় না, আর বাংলাদেশের রাস্তা নিয়ে ম্যাপসের ধারণা দাঁড়িয়ে আছে প্রায় পুরোটাই ব্যবহারকারীর ফোনের ওপর। তিনটি অভ্যাস কাজে দেয়: ট্রাফিক লেয়ার চালু রাখুন, যাতে দেখা যায় সে কেন ঘুরিয়ে নিচ্ছে; ডাইভারশন মহাসড়ক ছেড়ে অচেনা রাস্তায় নামালে মোড় নেওয়ার আগে "রাস্তা বন্ধ" দাবিটা নিজের চোখে যাচাই করুন; আর ভুল হলে রুটের রেখা চেপে ধরে Report a problem চাপুন। পার্থশায়ারের গ্রামগুলো নিজেদের রাস্তা ফিরে পেয়েছে, কারণ একজন শেষ কাজটি করেছিলেন।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।