গুগল ম্যাপস জানে শহরের কোথায় কোথায় যানজট জমে, বেশির ভাগ সড়ক-সংকেত ও বাতিস্তম্ভের ছবি তুলে রেখেছে, আর দুই দশক ধরে কক্ষপথ থেকে শহরটির বেড়ে ওঠা দেখেছে। এর প্রায় সবটুকু এত দিন কাজে লেগেছে একেকজনকে রাতের খাবারের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে। এবার গুগল এটি সাজিয়ে দিচ্ছে যাঁরা শহরটির পরিকল্পনা করেন তাঁদের জন্য — আর ঘোষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি তিনটি নতুন পণ্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেগুলো কোথায় বসছে।
পরিবর্তনটি তথ্যে নয়, সরবরাহের ধরনে
গুগল ম্যাপস প্ল্যাটফর্ম বরাবরই একটি এপিআই: আপনার সফটওয়্যার একটি ঠিকানা, একটি পথ বা একটি জায়গা নিয়ে প্রশ্ন করে, একটি উত্তর পায়, আর প্রতি অনুরোধে বিল হয়। অ্যাপের জন্য এই গড়ন ঠিক, বিশ্লেষণের জন্য ভুল। পাঁচ বছরে চারশো মোড়ে গড় বিলম্বের কী হলো, তা এপিআইকে জিজ্ঞেস করা যায় না — তাতে চার লাখ অনুরোধ পাঠিয়ে উত্তরটি নিজেকেই জোড়া লাগাতে হবে।
তিনটি নতুন পণ্য আসছে গুগলের ক্লাউড ডেটা ওয়্যারহাউস বিগকোয়েরি-র ভেতরে ডেটাসেট হিসেবে। এতে সেগুলো জোড়া লাগানো যায় — একটির সঙ্গে আরেকটি, আর্থ ইঞ্জিনের উপগ্রহ তথ্যের সঙ্গে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানের নিজের টেবিলের সঙ্গে। পরিকল্পনাকারী একদিকে ওয়ার্ডের সীমানা, একটি বাজেট খাত বা অভিযোগের তালিকা রেখে অন্যদিকে গুগলের বিশ বছরের যানজটের ইতিহাস বসিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। এই সক্ষমতাটিই আগে ছিল না, আর এটি যেকোনো একক ডেটাসেটের চেয়ে বড় পরিবর্তন।
তিনটিতে আসলে কী আছে
- ইমেজারি ইনসাইটস স্ট্রিট ভিউ ও আকাশচিত্র থেকে ভৌত অবকাঠামোর অস্তিত্ব ও অবস্থা বের করে আনে। গুগলের নিজের উদাহরণ: একটি ইউটিলিটি কোম্পানি প্রতিটি জায়গায় দল না পাঠিয়ে গোটা অঞ্চলের খুঁটি ও সাইনবোর্ড পরীক্ষা করছে।
- রোডস ম্যানেজমেন্ট ইনসাইটস সড়কখণ্ড ধরে অতীত ও বর্তমানের যানজটের তথ্য দেয় — কোন মোড়ে, কোন সময়ে যানজট হয়, আর উড়ালসড়ক চালুর পর তা কেমন বদলেছে। সরকারি খাতে এটির ব্যবহারই সবচেয়ে স্পষ্ট, কারণ এটি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে যে প্রশ্নে সড়ক প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় কখনোই হয় না: কাজ হয়েছিল কি?
- প্লেসেস ইনসাইটস কোনো এলাকার ব্যবসা ও আগ্রহের জায়গাগুলোর সমষ্টিগত চিত্র দেয় — ঘনত্ব, শ্রেণি, খোলার সময়, কখন কতটা ভিড় — খুচরা বিপণন ও সেবা পরিকল্পনার জন্য।
এগুলোর পাশাপাশি আর্থ ইঞ্জিন-এর তথ্যও একই ওয়্যারহাউস থেকে পাওয়া যায়, ফলে বন উজাড়, ভূপৃষ্ঠের পানি, অগ্নিঝুঁকি ও তাপ একই প্রশ্নে যানজটের সঙ্গে মিলিয়ে মাপা যায়।
প্লেসেস ইনসাইটসে সমষ্টিগত শব্দটি খেয়াল করুন। এটি আসল ভারটি বইছে। মূল সংকেত আসে একেকজনের ফোন থেকে, আর প্রকাশের আগে গুগলকে সেগুলো ঝাপসা করে গণনায় পরিণত করতে হয় — না হলে তারা একটি নজরদারি পণ্য বিক্রি করত। এই সমষ্টিকরণের কারণেই তথ্যটি ধরনের প্রশ্নের ভালো উত্তর দেয় আর নির্দিষ্ট জায়গার প্রশ্নের খারাপ।
ঢাকার মতো শহরে এটি কী বদলাত
দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ পরিকল্পনা সংস্থা চলে এমন জরিপের ওপর, যা ব্যয়বহুল, কালেভদ্রে হয় এবং প্রকাশিত হওয়ার আগেই পুরোনো হয়ে যায়। যানবাহন গণনা মানে শুকনো মৌসুমের তিন দিন ধরে মোড়ে ক্লিকার হাতে কয়েকজন মানুষ। রোডস ম্যানেজমেন্ট ইনসাইটস সেটির জায়গায় বসায় ধারাবাহিক পরিমাপ, যা এমনিতেই সংগ্রহ হচ্ছিল।
বাস্তব ফলাফলগুলো সুনির্দিষ্ট। পরিবহন কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছরের প্রকৃত তথ্য থেকে দেখতে পারত, ইউ-টার্ন ব্যবস্থাটি বিলম্ব কমিয়েছে নাকি কেবল এক কিলোমিটার সরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ল্যাপটপ থেকে গোটা থানার খুঁটি পরীক্ষা করতে পারত। আর্থ ইঞ্জিন এখনই মৌসুম ধরে ধরে দেখায়, শহরের কতটা জলাভূমি ভরাট হয়ে গেছে — যে প্রশ্নটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ঠিক এই কারণেই যে কেউ একে সংখ্যা দিয়ে মীমাংসা করতে পারেনি।
যে অংশ নিয়ে তর্ক হওয়া উচিত
এর কোনোটিই বিনা মূল্যে নয়, আর খরচ কেবল বিলের অঙ্কই নয়। বিগকোয়েরিতে প্রতি প্রশ্নে বিল হয় এবং ম্যাপসের ডেটাসেটগুলো লাইসেন্সের আওতায়, ফলে একটি পরিকল্পনা দপ্তরের প্রমাণভিত্তি হয়ে দাঁড়ায় এমন একটি পরিচালন ব্যয়, যা বারবার নবায়ন করতে হয়।
গভীরতর সমস্যা হলো, প্রমাণটি নিরীক্ষা করা যায় না। জরিপ যত স্থূলই হোক, তার একটি পদ্ধতি থাকে যা পরীক্ষা করা যায় ও পুনরাবৃত্তি করা যায়। বিক্রেতার ডেটাসেটের পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাকে কেবল জানানো হয়। পরিকল্পনার কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে — আর সড়ক ও ভূমির সিদ্ধান্ত সব সময়ই পড়ে — “গুগলের তথ্য তা-ই বলছে” এমন যুক্তি, যা পরাজিত পক্ষ যাচাই করতে পারে না, আর চুক্তি শেষ হয়ে গেলে সংস্থাটি নিজেও আর তৈরি করতে পারে না।
এটি কাল্পনিক আশঙ্কা নয়। মহামারির সময় গুগল কোভিড-১৯ কমিউনিটি মোবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো তার ওপর বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিল, আর ২০২২ সালে গুগল সেটি বন্ধ করে দেয়। তথ্যটি দরকারি ছিল, বিনা মূল্যে ছিল, এবং চলে গেল; চালিয়ে যেতে কেউ বাধ্য ছিল না। যে ডেটাসেট আপনার নয়, তার দাম বদলে যেতে পারে, সংজ্ঞা বদলে যেতে পারে, কিংবা দুই পরিকল্পনা চক্রের মাঝখানেই তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তবু সৎ সিদ্ধান্তটি এটি ব্যবহারের পক্ষেই। বেশির ভাগ শহরে বাস্তব বিকল্পটি আরও ভালো, স্বাধীন তথ্য নয়; বিকল্পটি হলো কোনো তথ্য না থাকা, আর সভায় যিনি সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসে যুক্তি দিলেন তাঁর ভিত্তিতেই একই সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে যে সংস্থা এটি নেবে, তার উচিত অন্য যেকোনো একক-সরবরাহকারী নির্ভরশীলতার মতোই এর সঙ্গে আচরণ করা: যা ব্যবহার করছে তা রপ্তানি করে নিজের কাছে রাখা, কোন প্রশ্নের উত্তর নেওয়া হচ্ছে তা লিখে রাখা, এবং অন্য কারও বিশ বছরের যানজটের ইতিহাসকে নিজের একমাত্র নথি হয়ে উঠতে না দেওয়া।




