গুগল ম্যাপস জানে ঢাকার প্রতিটি যানজট কোথায়, শহরের বেশির ভাগ সড়ক চিহ্ন ও বাতির খুঁটির ছবি তুলেছে, আর দুই দশক ধরে কক্ষপথ থেকে শহরটির বেড়ে ওঠা দেখেছে। এত দিন সেই জ্ঞান মূলত আপনাকে ডিনারে পৌঁছাতে ব্যবহৃত হতো। গুগল এখন তা সাজাচ্ছে শহর যাঁরা পরিকল্পনা করেন, তাঁদের জন্য: গুগল ম্যাপস প্ল্যাটফর্মের তিনটি নতুন তথ্যপণ্য সরাসরি বিগকোয়েরি—এর ক্লাউড ডেটা ওয়্যারহাউস—থেকে কোয়েরি করা যাবে, যাতে একজন পরিকল্পনাকারী মানচিত্রকে প্রশ্ন করতে পারেন, হিসাবরক্ষক যেভাবে খতিয়ানকে প্রশ্ন করেন।
তিনটি পণ্য
- ইমেজারি ইনসাইটস স্ট্রিট ভিউ ও আকাশ থেকে তোলা ছবি দিয়ে বাস্তব অবকাঠামোর অবস্থা জানায়। গুগলের উদাহরণ: টেলিকম ও বিদ্যুৎ কোম্পানি প্রতিটিতে দল না পাঠিয়ে পুরো অঞ্চলের খুঁটি ও সড়ক চিহ্ন পরীক্ষা করছে।
- রোডস ম্যানেজমেন্ট ইনসাইটস সড়কের অংশ ধরে অতীত ও বর্তমান যান চলাচলের তথ্য দেয়—কোন মোড়ে জট বাঁধে, কখন, আর ফ্লাইওভার খোলার পর তা কীভাবে বদলাল। গুগল একে তুলে ধরছে যানজট পরিকল্পনা, পথের নকশা ও জরুরি সাড়ার জন্য।
- প্লেসেস ইনসাইটস কোনো এলাকার ব্যবসা ও আগ্রহের স্থানের তথ্য একত্র করে—রেস্তোরাঁর ঘনত্ব, খোলার সময়, জায়গাগুলো কতটা ব্যস্ত—খুচরা ও সেবা পরিকল্পনার জন্য।
এগুলোর পাশাপাশি গুগলের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম আর্থ ইঞ্জিনের তথ্য এখন বিগকোয়েরি থেকে পাওয়া যায়, তাই বন উজাড়, আগুনের ঝুঁকি, ভূপৃষ্ঠের পানি ও জলবায়ুর প্রভাব একই কোয়েরিতে মাপা যায়। গুগল বলছে, লক্ষ্য শহর ও প্রতিষ্ঠানকে টেকসই উন্নয়নে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তে সাহায্য করা।
ঢাকার জন্য এর মানে
বাংলাদেশের পরিকল্পনা সংস্থাগুলো কাজ করে মূলত এমন জরিপ থেকে, যা ব্যয়বহুল, কালেভদ্রে হয়, আর প্রকাশের সময়েই পুরোনো। শুধু রোডস ম্যানেজমেন্ট ইনসাইটস দিয়েই ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছরের বাস্তব তথ্যে দেখতে পারত, একটি ইউ-টার্ন প্রকল্প বিলম্ব কমাল নাকি সরাল; ইমেজারি ইনসাইটস বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে ল্যাপটপ থেকে মিরপুরের খুঁটি-ধরে-খুঁটি নিরীক্ষা দিতে পারত; আর্থ ইঞ্জিন ইতিমধ্যে মৌসুম ধরে দেখায় শহরের কতটা জলাভূমি ভরাট হয়েছে। তথ্য বিনা মূল্যে নয়—বিগকোয়েরির বিল কোয়েরিপ্রতি, ম্যাপসের পণ্য লাইসেন্সে—আর কী সংগ্রহ হবে, তা ঠিক করে গুগল, সরকার নয়। কিন্তু বিকল্পটি ভালো তথ্য নয়। বিকল্প হলো কোনো তথ্য নয়, আর তবু সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সূত্র: দ্য ভার্জ, প্রথম আলোর বরাতে।




