প্রযুক্তি

বাংলাদেশে প্রথমবার চালু হলো স্টারলিংক—বিনিয়োগ সম্মেলনে ২২০ এমবিপিএস, আর যে প্রশ্নের উত্তর স্টলের কেউ দিতে পারলেন না

ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের দর্শনার্থীরা স্যাটেলাইট কোম্পানির স্টলে কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রথমবার স্টারলিংকের স্বাদ পেলেন: ফোনে ১৭০ থেকে ২২০ এমবিপিএস, একসঙ্গে প্রায় ৪৫ জন যুক্ত। সেবাটির এখন বিডার নিবন্ধন আছে, চালুর জন্য ৯০ কার্যদিবস। পরীক্ষা কী দেখাল, আর কী দেখাল না—প্রধানত দাম।

বাংলাদেশে প্রথমবার চালু হলো স্টারলিংক—বিনিয়োগ সম্মেলনে ২২০ এমবিপিএস, আর যে প্রশ্নের উত্তর স্টলের কেউ দিতে পারলেন না

এ সপ্তাহে কয়েক দিন ঢাকার সবচেয়ে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ ছিল একটি মেলার স্টলে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড তাদের স্টলে একটি স্টারলিংক টার্মিনাল আর পাশে একটি কিউআর কোড রাখে, আর যে কেউ স্ক্যান করে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করতে পেরেছেন—দেশে সেবাটি চালু হওয়ার প্রথম ঘটনা।

পরীক্ষা যা দেখাল

ফোনে চেষ্টা করা জাহিদুর রাব্বী প্রথম আলোকে বলেন, একসঙ্গে প্রায় ৪৫ জন যুক্ত থাকা অবস্থায় ফাস্টডটকমে মাপা গতি ১৭০ থেকে ২২০ এমবিপিএস। সেটি একটি বাসাবাড়ির টার্মিনাল, ভিড়ে ভাগ করা, তবু রাজধানীতে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ ফাইবার প্যাকেজের চেয়ে দ্রুত। সংযোগটি স্থানীয় অবকাঠামোর বদলে গেছে স্টারলিংকের মালয়েশিয়ার গেটওয়ে হয়ে—কোনো দেশে গ্রাউন্ড স্টেশন হওয়ার আগে কোম্পানি এভাবেই সেবা দেয়। সম্মেলন প্রাঙ্গণজুড়ে কাভারেজ ছিল, আর রিসিভার, রাউটার ও বসানোর যন্ত্রাংশ প্রদর্শিত হচ্ছিল।

যা দেখাল না

সম্মেলনে আসা প্রযুক্তি পেশাজীবী জারিফ ফাইয়াজ অনুপস্থিত অংশটি সরাসরি বললেন: স্টলের কেউ বলতে পারলেন না সেবাটি বাসাবাড়িতে কবে মিলবে, বা খরচ কত হবে। জরুরি প্রশ্ন এই দুটোই, আর এখনো এগুলোর মীমাংসা হয়নি। মীমাংসা হয়েছে কাগজপত্রের। স্টারলিংক ২৯ মার্চ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে বিনিয়োগ নিবন্ধন পেয়েছে, কার্যক্রম শুরুর জন্য ৯০ কার্যদিবস, আর সরকার বলেছে, সেবাটি দ্রুত চালু চায়।

দামের একটি অনুমান

নিকটতম তুলনা ভুটান, যেখানে স্টারলিংক এ বছরের শুরুতে চালু হয়েছে: আবাসিক সেবা মাসে ৪ হাজার ২০০ গুলট্রাম, প্রায় ৫ হাজার ৮০০ টাকা, সঙ্গে যন্ত্রের কিট, যা বেশির ভাগ বাজারে কয়েক শ ডলারে বিক্রি হয়। এটি ঢাকার সাধারণ ব্রডব্যান্ড লাইনের দশ গুণ দাম, আর একটি ছোট অফিসের ডেডিকেটেড সংযোগের তুলনীয়। এই সংখ্যায় স্টারলিংক বাংলাদেশে গণভোক্তার পণ্য হবে না। হবে সেই জায়গার পণ্য, যেখানে ফাইবার কখনো পৌঁছায়নি—হাওর, পাহাড়ি জেলা, চর, গভীর সমুদ্রের জাহাজ—আর সেই প্রতিষ্ঠানের, যাদের এমন সংযোগ দরকার, যা কোনো স্থানীয় অপারেটর, কোনো স্থানীয় বন্ধের আদেশ নিভিয়ে দিতে পারে না।

এরপর কী দেখার

তিনটি জিনিসে নজর রাখুন: বিটিআরসির লাইসেন্সের শর্তে স্থানীয় গেটওয়ে বাধ্যতামূলক হয় কি না (হলে মালয়েশিয়া হয়ে যাওয়া বন্ধ হবে, আর তদারকির প্রশ্ন উঠবে), আবাসিক প্যাকেজের দাম ভুটানের নিচে নামে কি না, আর প্রথম কিটগুলো কারা পায়—ঢাকার প্রযুক্তিপ্রেমীরা, নাকি সুনামগঞ্জের হাওরের স্কুল। উত্তরগুলো বলে দেবে, এটি বিলাসদ্রব্য হবে নাকি অবকাঠামো।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।