প্রযুক্তি

স্কুলে গুলির ঘটনায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করল কানাডার এক প্রদেশ। মূল প্রশ্ন: চ্যাটবট কোম্পানি কখন পুলিশকে জানাতে বাধ্য

টাম্বলার রিজের হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট বন্দুক-সহিংসতার উল্লেখের জন্য ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা দল চিহ্নিত করেছিল আট জনকে হত্যার কয়েক মাস আগে, কাউকে জানায়নি। স্যাম অল্টম্যান ক্ষমা চেয়েছেন; এবার প্রদেশটি আদালতের কাছে জানতে চায়, কোম্পানির দায় কী ছিল।

স্কুলে গুলির ঘটনায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করল কানাডার এক প্রদেশ। মূল প্রশ্ন: চ্যাটবট কোম্পানি কখন পুলিশকে জানাতে বাধ্য

ফেব্রুয়ারিতে টাম্বলার রিজে গণহত্যার ঘটনায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডার প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া; ওই হামলায় ১৮ বছরের জেসি ভ্যান রুটসেলার আট জনকে হত্যা করে, যাদের ছয়জন শিশু। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার এক মার্কিন ফেডারেল আদালতে করা মামলাটি দাঁড়িয়ে আছে এমন এক তথ্যের ওপর, যা ওপেনএআই এরই মধ্যে স্বীকার করেছে: হামলার কয়েক মাস আগে তাদের নিরাপত্তা দল হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট বন্দুক-সহিংসতার উল্লেখের জন্য চিহ্নিত করেছিল, কিন্তু কোম্পানি পুলিশকে জানায়নি।

প্রদেশ যা চাইছে

অ্যাটর্নি জেনারেল নিকি শর্মা বলেন, মামলাটি প্রশ্ন তোলে "গুরুতর সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি সম্পর্কে জানার পর প্রযুক্তি কোম্পানির দায়িত্ব" নিয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা করা হয়েছে কারণ অ্যাকাউন্টটি রিপোর্ট না করার সিদ্ধান্ত সেখানেই নেওয়া হয়। শর্মা জানান, ক্ষতিপূরণ পেলে তা যাবে শহরটির মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে। নিহত ও আহতদের পরিবার আলাদাভাবে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

"আজ পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া মানুষ, পরিবার আর টাম্বলার রিজ সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসনে ওপেনএআই অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি," শর্মা বলেন। "সুরক্ষা জোরদার করে, স্বচ্ছতা বাড়িয়ে আর ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে জবাবদিহি দেখানোর সুযোগ কোম্পানিটির এখনো আছে।" সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হামলাকারীর চ্যাট তিনি পড়েননি: "আমরা ওপেনএআইকে এই চ্যাটগুলো প্রকাশ করতে বলেছি। তারা অস্বীকার করেছে। আমাদের সবার তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত: কেন?"

ওপেনএআই যা বলেছে

এপ্রিলে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এক খোলা চিঠিতে নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। "আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আমরা সতর্ক করিনি, এর জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত," লেখেন তিনি। নতুন মামলা নিয়ে বিবিসি ওপেনএআইয়ের মন্তব্য চেয়েছে। কোম্পানিটি আগে বলেছে, অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করার ব্যবস্থা তাদের ব্যবহারনীতি প্রয়োগের জন্য, পুলিশকে জানানোর চ্যানেল নয়—ঠিক এই ফাঁকটাই প্রদেশ আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করতে চায়।

কানাডার বাইরে মামলাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

চ্যাটবট হলো প্রথম গণবাজারের পণ্য, যার কাছে মানুষ স্বীকারোক্তি দেয়। একশ কোটি ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিকে এমন কথা বলে, যা সার্চ ইঞ্জিনকে বলত না, আর কোম্পানির নিজের ফিল্টার তার সবটাই পড়ে। এতে এমন এক দ্বিধা তৈরি হয়, যার জন্য কেউ আইন করেনি: মডেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি সিদ্ধান্ত নেয় কোনো ব্যবহারকারী মানুষ গুলি করার কথা বলছে, তখন কোম্পানি কি দর্শক, সাক্ষী, নাকি জানাতে বাধ্য পক্ষ? কম জানালে টাম্বলার রিজ; বেশি জানালে একটি বেসরকারি কোম্পানি একটি অ্যালগরিদমের ভরসায় কিশোরদের চ্যাট পুলিশের কাছে পাঠাচ্ছে। মামলাটি বিশ্বের জন্য প্রশ্নটার মীমাংসা করবে না, কিন্তু শোকার্ত পরিবার নয়, একটি সরকার প্রথমবার এটি আদালতে তুলল।

বাংলাদেশের দিক

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন মানুষ কী পোস্ট করে তা নিয়ে, হুমকি দেখলে প্ল্যাটফর্মের করণীয় নিয়ে নয়; আর কোনো এআই কোম্পানির এখানে আইনি প্রতিনিধি নেই যার হাতে নোটিশ ধরানো যায়। তাতে কানাডার মামলাটি কম নয়, বরং বেশি প্রাসঙ্গিক: ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত শেষ পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের ওপর যে দায় চাপাবে, তা তাদের সফটওয়্যারে সর্বত্র প্রয়োগ হবে—বাংলাদেশের লাখ লাখ চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি অ্যাকাউন্টেও—স্থানীয় কোনো আইন তার নাগাল পাওয়ার অনেক আগে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।