বছরের পর বছর কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে উদ্বেগের জবাবে মেটা দিয়েছে ঐচ্ছিক সরঞ্জাম, যা অভিভাবকেরা কমই খুঁজে পেতেন আর কিশোরেরা কমই চালু রাখত। সামাজিক-মাধ্যম আসক্তি নিয়ে একটি মার্কিন মামলার নিষ্পত্তি পদ্ধতিটাই বদলে দিচ্ছে: সীমাগুলো এখন ডিফল্টে চালু থাকবে, আর কিছু কিশোর নিজে বন্ধই করতে পারবে না। নিয়মগুলো আগামী ছয় মাসে ধাপে ধাপে আসবে; বয়স যাচাইয়ের পরিবর্তনে লাগতে পারে এক বছর পর্যন্ত।
১৮-এর নিচের জন্য নতুন ডিফল্ট
- ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মিলিয়ে দিনে দুই ঘণ্টা। অভিভাবক প্যারেন্টাল কন্ট্রোলে বাড়তি সময় দিতে পারবেন; কিশোর নিজে নয়।
- রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা তালা—অ্যাপ খুলবে না।
- সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা কোনো নোটিফিকেশন নয়—স্কুলের সময়—ব্যাগের ফোন চুপ থাকবে।
- দীর্ঘ সেশনে সময়ের সতর্কবার্তা।
- অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত, মেটার আংশিক চালু করা নিয়ম আরও কড়া।
ফিডের পরিবর্তনগুলোই বড় বিষয়
শিরোনাম পাবে সময়সীমা, কিন্তু কনটেন্টের নিয়মগুলো পণ্য কীভাবে কাজ করে তার আরও গভীরে যায়। কিশোরেরা দেখবে সাধারণ ফিড—তাদের আগ্রহ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে বানানো ফিড নয়, সেই সুপারিশ-ইঞ্জিন, যাকে সমালোচকেরা দায়ী করেন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারীদের ক্রমশ সংকীর্ণ কনটেন্টে টেনে নেওয়ার জন্য। পোস্টে লাইকের সংখ্যা গোপন থাকবে—গবেষকেরা উদ্বেগের সঙ্গে যে প্রকাশ্য স্কোরবোর্ডকে জোড়েন, তা সরে যাবে—আর চেহারা বদলানো কিছু ফিল্টারে প্রবেশ সীমিত হবে। মেটা আরও জানিয়েছে, বয়স যাচাই প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করছে এবং ১৩-এর কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলা জোরদার করবে।
কেন এখন
এর কিছুই স্বেচ্ছায় নয়। পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সেই মামলা নিষ্পত্তির মূল্য, যেখানে অভিযোগ ছিল মেটা জেনেশুনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আসক্তিকর পণ্য বানিয়েছে—আর আসছে এমন সময়ে, যখন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য সামাজিক মাধ্যমে আইনি বয়সসীমা আরোপ করছে বা বিতর্ক করছে। আদালতকক্ষে সম্মত নিয়ম সাধারণত বাস্তবায়িত হয়; সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণত ভেসে যায়।
বাংলাদেশি কিশোরেরা কি পাবে
নিষ্পত্তির শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রযোজ্য কি না, মেটা বলেনি। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের সুরক্ষা বিশ্বজুড়ে চালু করেছে—আংশিক কারণ একটি পণ্যের দুটি সংস্করণ রাখা দামি, আংশিক কারণ অন্য দেশের নিয়ন্ত্রকেরা জিজ্ঞেস করেন তাঁদের শিশুরা কম কেন পাবে। বাংলাদেশে ১৮-এর নিচের ফেসবুক ব্যবহারকারী কয়েক কোটি, যাদের বড় অংশ ভুয়া জন্মসাল দিয়ে নিবন্ধিত—এ কারণেই এখানে দুই ঘণ্টার সীমার চেয়ে বয়স যাচাইয়ের অংশটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ: সীমা কাজ করে শুধু সেই অ্যাকাউন্টে, যা প্ল্যাটফর্ম জানে একজন কিশোরের। অভিভাবকদের জন্য ব্যবহারিক করণীয় আগের মতোই—অ্যাপে এখনই তত্ত্বাবধান চালু করুন, আর সন্তানের আসল বয়স অ্যাকাউন্টে ঠিক করুন, যাতে নতুন ডিফল্টগুলো সত্যিই প্রযোজ্য হয়।




