জানুয়ারির দামের প্রতিবেদন যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের পুনরাবৃত্তির অনুভূতি হবে। এ সপ্তাহে ব্র্যান্ড ও ধারণক্ষমতাভেদে ঢাকার কম্পিউটার বাজারে নির্দিষ্ট কিছু এসএসডি মডেল ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা বেশি — সাত মাস আগের ৫০০–১০০০ টাকা বৃদ্ধির চেয়ে তীক্ষ্ণ নড়াচড়া। বিক্রেতারা আবারও বলছেন বাকি সব মোটামুটি স্থিতিশীল।
যে দামগুলো নড়েনি
| যন্ত্রাংশ | মডেল | দাম (টাকা) |
|---|---|---|
| সিপিইউ | ইন্টেল কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে | ৭২,০০০ |
| সিপিইউ | ইন্টেল কোর আই৯, ১৪তম প্রজন্ম | ৫৬,০০০ |
| সিপিইউ | ইন্টেল কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে | ৩৬,০০০ |
| সিপিইউ | ইন্টেল কোর আই৭, ১৪তম প্রজন্ম | ৫০,০০০ |
| সিপিইউ | ইন্টেল কোর আই৫-১৪৬০০কেএফ | ৩৮,০০০ |
| সিপিইউ | এএমডি রাইজেন ৯ ৭৯৫০এক্স | ৪৭,৫০০ |
| সিপিইউ | এএমডি রাইজেন ৭ ৫৭০০জি | ২৩,৫০০ |
| সিপিইউ | এএমডি রাইজেন ৫ ৫৬০০জি | ১৯,০০০ |
| বোর্ড | আসুস প্রাইম এইচ৬১০এম (ডিডিআর৪) | ১০,৬০০ |
| বোর্ড | গিগাবাইট বি৭৬০এম গেমিং এক্স (ডিডিআর৪) | ২০,০০০ |
| র্যাম | করসেয়ার ভেনজেন্স এলপিএক্স ১৬ জিবি ডিডিআর৪-৩২০০ | ১৩,০০০ |
| র্যাম | জি.স্কিল ট্রাইডেন্ট জেড৫ নিও আরজিবি ৩২ জিবি ডিডিআর৫-৬০০০ | ৬৪,০০০ |
ওই তালিকায় নীরব দুটি পরিবর্তন: জুলাইয়ের পর থেকে সাশ্রয়ী এএমডি চিপের দাম বেড়েছে — রাইজেন ৫ ৫৬০০জি ১৬,০০০ থেকে ১৯,০০০ আর ৫৭০০জি ১৯,০০০ থেকে ২৩,৫০০ — যাতে ইন্টেলের মধ্যম সারির বিপরীতে তাদের মূল্য-সুবিধা ক্ষয়ে গেছে।
যে ভিন্নমুখিতা লক্ষ করার মতো
বছরজুড়ে এই কলামগুলো যাঁরা অনুসরণ করেছেন, তাঁরা দেখেছেন মেমোরির দাম কমেছে আর সঞ্চয়ের বেড়েছে। এটি এলোমেলো কিছু নয়, আর তথ্যের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি কিছু জানায়।
মেমোরি ও ফ্ল্যাশ বানায় পরস্পর জড়ানো কোম্পানিগুলো, তুলনীয় যন্ত্রপাতিতে — তাই স্বাভাবিক ধারণা হলো দুটি একসঙ্গেই নড়বে। এ বছর নড়েনি, আর কারণ হলো দুটির ক্রেতা আলাদা এবং তাঁদের চাহিদা এসেছে আলাদা সময়ে। কাজের অভ্যাসটি হলো “চিপের দাম”কে একটিমাত্র জিনিস ভাবা বন্ধ করা: ফ্ল্যাশ আর মেমোরি আলাদা বাজার, যারা কেবল কিছু কারখানা ভাগ করে নেয় — আর কোনো যন্ত্রাংশ কোনটিতে পড়ে তা জানলে শিল্প নিয়ে যেকোনো সাধারণ মন্তব্যের চেয়ে বেশি বোঝা যায়।
বিশেষ করে ফ্ল্যাশের দাম বাড়তেই থাকে কেন
বিক্রেতাদের দেওয়া স্থানীয় ব্যাখ্যা — বেশি দামে আসা আমদানির চালান — সঠিক এবং শৃঙ্খলের নিচের দিকের। এর ওপরে তিনটি জিনিস ঘটছে।
এন্টারপ্রাইজের চাহিদা ধারণক্ষমতা নিয়ে নিচ্ছে। প্রতিটি ভোক্তা এসএসডির ভেতরের ন্যান্ড ফ্ল্যাশই বড় ডেটা সেন্টারের সঞ্চয়-স্তর ভরে, আর সেগুলো যারা বানাচ্ছে তারা এন্টারপ্রাইজ ড্রাইভ কেনে এমন পরিমাণে যা কারখানার উৎপাদন কয়েক মাস আগেই বুক করে ফেলে। তারা প্রতি ইউনিটে বেশি দামও দেয় আর খুচরায় নয়, চুক্তিতে কেনে — ফলে নির্মাতা সবার আগে তাদেরই সেবা দেন। ভোক্তা ড্রাইভ পায় যা উদ্বৃত্ত থাকে, আর তাতে দাম যা দাঁড়ায় তা-ই।
উৎপাদনের শৃঙ্খলা। উদ্বৃত্ত জোগানের সময় ফ্ল্যাশ নির্মাতারা দীর্ঘদিন খরচের নিচে বিক্রি করেছেন, আর শিল্পের জবাব ছিল গুদাম ভরতে থাকার বদলে উৎপাদন কমানো। জোগানের শৃঙ্খলা কাজ করে — এতেই উদ্বৃত্তের সময়টা শেষ হয়েছে — আর তা দুই দিকেই কাজ করে: বন্ধ করে দেওয়া ক্ষমতা দাম ওঠামাত্র ফিরে আসে না, কারণ তা আবার চালু করা ব্যয়বহুল আর পরের ধস ডেকে আনতে কেউ চায় না।
পুরোনো প্রজন্ম তুলে নেওয়া হচ্ছে। চিপে আরও বেশি স্তর বসিয়ে ফ্ল্যাশ উন্নত হয়, আর নির্মাতারা ক্রমাগত উৎপাদন সরিয়ে নেন নতুনতম, ঘনতম প্রজন্মে — কারণ প্রতি গিগাবাইটে সেগুলো বানানো সস্তা। বড় ধারণক্ষমতার ড্রাইভের জন্য এটি ভালো আর সস্তা ছোট ড্রাইভের জন্য খারাপ, কারণ সেগুলো বানানো হয় যে পুরোনো প্রক্রিয়ায়, তা গুটিয়ে আনা হচ্ছে। পুরোনো হয়ে আসা মেমোরি মানের দাম যে কারণে বাড়ে, এটি সেই একই জীবনের-শেষের প্রভাব — যন্ত্রাংশটির উন্নতি থেমে যায়, জোগান কমে, আর দাম কমার বদলে বাড়ে।
এর কোনোটিই দ্রুত উল্টে যায় না — আর এ কারণেই ২০২৬ সালে দুবার দাম বেড়েছে আর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
মোড় ঘোরার সংকেত কী হবে
কী লক্ষ করতে হবে তা জানা দরকার, কারণ “দাম একদিন কমবেই” কথাটি সত্যি এবং অকেজো।
ফ্ল্যাশ চক্রে মোড় ঘোরে যখন নির্মাতারা বন্ধ রাখা ক্ষমতা আবার চালু করেন বা নতুন কারখানা আনেন — আর দুটিই অনেক আগে ঘোষিত হয়, কারণ এগুলো বিপুল মূলধনি সিদ্ধান্ত। পরে আসা সংকেতটি হলো বড় ধারণক্ষমতার ড্রাইভের উদ্বৃত্ত: ২ টিবি ও ৪ টিবি ভোক্তা মডেলে যখন বড় ছাড় শুরু হয়, বুঝতে হবে জোগান এন্টারপ্রাইজ ক্রেতাদের ছাড়িয়ে গেছে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই বাকি বাজার তা অনুসরণ করবে।
স্থানীয় দাম যেকোনো নড়াচড়ার পেছনে থাকবে কয়েক সপ্তাহ, সেই চিরাচরিত কারণেই — দোকান বিক্রি করছে আগের দামে কেনা মজুত, কাজেই বিশ্ববাজারে দাম কমলে সেই মজুত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
এর মধ্যে কীভাবে কিনবেন
- এখন যতটা দরকার ততটাই কিনুন, ভবিষ্যতে যতটা লাগতে পারে ততটা নয়। ৫১২ জিবি বা ১ টিবি বুট ড্রাইভের সঙ্গে বিপুল ফাইলের জন্য একটি ঘূর্ণমান ডিস্ক — এখনো এটিই সবচেয়ে সস্তা কার্যকর সমন্বয়, আর ২ টিবি হার্ড ড্রাইভ এখনো প্রায় ১০,০০০ টাকা।
- সাশ্রয়ী ড্রাইভগুলো দেখুন। টিম এমপি৩৩-এর মতো মডেলের দাম প্রিমিয়াম এনভিএমই ধারার চেয়ে কম বেড়েছে, কারণ দামের চাপ জমেছে সেখানেই যেখানে এন্টারপ্রাইজের চাহিদা ভোক্তা যন্ত্রাংশের সঙ্গে মেলে। বুট ড্রাইভের ক্ষেত্রে পার্থক্যটি দামের ব্যবধান যতটা বোঝায় তার চেয়ে অনেক কম।
- টাকা বাঁচাতে এসএসডি বাদ দেবেন না। ২০২৬ সালে হার্ড ডিস্ক থেকে বুট হওয়া পিসি ব্যবহার করা যন্ত্রণাদায়ক। গ্রাফিকস কার্ড কাটুন, কেসিং কাটুন, আরজিবি কাটুন — যন্ত্রটি চালু করার প্রতিবার আপনি যেটি টের পান, সেটি এসএসডি।
- বড় ড্রাইভ দরকার হলে অপেক্ষা না করে সিদ্ধান্ত নিন। ওপরের জোগানের চিত্রে দাম কমার অপেক্ষা করা মানে এমন একটি বাজারের বিপরীতে বাজি ধরা যা এখনো সংকুচিত হচ্ছে। জানা দামে এখন কেনা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত; ছয় মাস পর অজানা দামে কেনা একটি পূর্বাভাস।




