বছরের পর বছর জেফ বেজোস অনেক পরামর্শ দিয়েছেন, বেশির ভাগই ব্যবসা নিয়ে। যেটি সবচেয়ে ভালো টিকেছে, তা উদ্বেগ নিয়ে। কাজ অসহনীয় হয়ে উঠলে কী করেন—বারবার এ প্রশ্নে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা অন্তত ২০০১ সাল থেকে একটি ধারণায় ফিরে গেছেন: চাপ আসে না কঠোর পরিশ্রম থেকে। আসে আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু নিয়ে কাজ না করা থেকে।
তিনি আসলে কী বলেছেন
২০০১ সালে একাডেমি অব অ্যাচিভমেন্ট সামিটে বেজোসের যুক্তি ছিল, চাপ কদাচিৎ পরিশ্রম থেকেই আসে; আসে নিজের সাধ্যে থাকা সমস্যায় কাজ না করা থেকে—আর যা উপেক্ষা করা উচিত নয়, তা উপেক্ষা করা থেকে। ষোলো বছর পর, ২০১৭ সালে সিয়াটলের মিউজিয়াম অব ফ্লাইটে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরে এক শিক্ষার্থী জানতে চান, কঠিন সময়ে কী তাঁকে এগিয়ে নেয়। উত্তর: চাপ অনুভব করলে সাধারণত তার মানে, যা তাঁকে ভাবাচ্ছে তা নিয়ে তিনি কিছুই করছেন না।
পদ্ধতিটি
ব্যবস্থাপত্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট। প্রথমে চিহ্নিত করুন দুশ্চিন্তার আসল কারণ কী। তারপর তা সামলানোর দিকে একটি পদক্ষেপ নিন—পুরো সমাধান নয়, শুধু প্রথম চাল: একটি ফোনকল, একটি ইমেইল, যিনি সাহায্য করতে পারেন তাঁর সঙ্গে একটি কথোপকথন। বেজোস স্পষ্ট বলেন, সমস্যা একবারে মেটাতে হবে না; শুরু করাই চাপ কমায়। অন্যদের যুক্ত করার ওপরও তিনি জোর দেন: কঠিন সমস্যায় কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করলে পরিস্থিতির চেহারা বদলায়, আর যা চাপের উৎস হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা হয়ে উঠতে পারে এমন ভাগ করা কাজ, যা মানুষ উপভোগ করে।
মনোবিজ্ঞানীরা কেন মাথা নাড়েন
সাদামাটা পোশাকে এটিই চিকিৎসকদের ভাষায় বিহেভিয়ারাল অ্যাক্টিভেশন, আর রুমিনেশন বা অবিরাম ভাবনা নিয়ে গবেষণা যা দেখায়। উদ্বেগ বাঁচে এড়িয়ে চলায়: একটি কাজ বা মুখোমুখি হওয়া যত পেছায়, মনে তত বড় হয়, আর পিছিয়ে দেওয়ার স্বস্তি মস্তিষ্ককে আবার পিছিয়ে দিতে শেখায়। একটি বাস্তব প্রথম কাজ সেই চক্র ভাঙে এবং—গুরুত্বপূর্ণভাবে—তথ্য তৈরি করে: ইমেইলের উত্তর, কলের ফল, যা কল্পিত বিপর্যয়ের জায়গায় বসায় একটি বাস্তব, সাধারণত ছোট, সমস্যা। কাজকে একটিমাত্র পরের ধাপে ভাঙাও সেই অসাড়তার আদর্শ সমাধান, যা আসে শুরু করার পক্ষে বড় বেশি বড় মনে হওয়া কাজ থেকে।
কোথায় খাটো পড়ে
পরামর্শটি ধরে নেয়, চাপের উৎস আপনার নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের চাপের বড় অংশ তা নয়: দেরিতে দেওয়া বেতন, চিৎকার করা বস, তিন ঘণ্টা খেয়ে ফেলা যাতায়াত, যে চাকরির বাজারে অন্য কোথাও যাওয়ার নেই। সেই অবস্থার কাউকে ইমেইল পাঠাতে বলা অকেজো নয়—প্রায় সব সময়ই কোনো না কোনো ছোট কাজ থাকে, সিভি হালনাগাদ হলেও—কিন্তু অসম্পূর্ণ। বেজোসের নিয়ম দেরি করে আপনি নিজে যে উদ্বেগ তৈরি করেন, তার জন্য ভালো সরঞ্জাম; আর অন্য কেউ যে অবস্থা চাপিয়ে দেয়, তার জন্য দুর্বল। আপনি কোনটির মুখোমুখি, তা জানাই সেই প্রথম পদক্ষেপ, যা তিনি উল্লেখ করেন না।




