প্রযুক্তি

পাঁচ দিনে ৫ লাখ ৬২ হাজার অনুসারী: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন ফেসবুক পেজ দক্ষিণ এশিয়ায় কোথায় দাঁড়ায়

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় চালু করে ভেরিফায়েড ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। ফেসবুক পেজ কয়েক দিনেই ৫ লাখ ৬২ হাজার অনুসারী ছাড়িয়েছে; ইনস্টাগ্রাম অনেক পেছনে। ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পাশে সংখ্যাগুলো কোথায়, আর প্ল্যাটফর্ম বাছাই কেন গুরুত্বপূর্ণ।

পাঁচ দিনে ৫ লাখ ৬২ হাজার অনুসারী: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন ফেসবুক পেজ দক্ষিণ এশিয়ায় কোথায় দাঁড়ায়

সরকার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে সেখানেই, যেখানে নাগরিকেরা আগে থেকে আছেন—আর বাংলাদেশে সেটি ফেসবুক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে তাদের ভেরিফায়েড পেজ পিএমও বাংলাদেশ। রোববার সন্ধ্যার মধ্যে অনুসারী ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৬২ হাজার—দেশের খুব কম ব্র্যান্ডই এই গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে—প্রতিটি পোস্টে গড়ে ১০ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন, সভার ছোট ক্লিপে কয়েক লাখ ভিউ।

পেজটি কী করছে

বিষয়বস্তু সচেতনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভা—মুখের কথায় নয়, উচ্চমানের ছবি ও সম্পাদিত ভিডিওতে। ফলাফল: সরকারের কর্মদিবস দৃশ্যমান হচ্ছে এমন এক ফরম্যাটে, যা মানুষ এমনিতেই স্ক্রল করে—যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি কেউ পড়ে না, তার থেকে এটি আলাদা।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি (pmo.bd) ছোট গল্প বলে: এ লেখা পর্যন্ত ১৯টি পোস্ট, অনুসারী সাত হাজারের সামান্য বেশি। এই ব্যবধান চেষ্টার ঘাটতি নয়, বরং বাংলাদেশি দর্শক আসলে কোথায় আছেন, তার মানচিত্র।

আঞ্চলিক স্কোরবোর্ড

কার্যালয়ফেসবুক অনুসারী
পিএমও ইন্ডিয়া≈ ১ কোটি ৪০ লাখ
নরেন্দ্র মোদি (ব্যক্তিগত পেজ)≈ ৫ কোটি ৪০ লাখ
পিএমও পাকিস্তান≈ ৬ লাখ ৭৩ হাজার
পিএমও বাংলাদেশ (৫ দিন বয়স)≈ ৫ লাখ ৬২ হাজার
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী (ব্যক্তিগত পেজ; কার্যালয়ের পেজ নেই)≈ ৩ লাখ ৪৫ হাজার
পিএমও ভুটান≈ ২ লাখ ১৭ হাজার

ভারত নিজেই একটি আলাদা শ্রেণি, আর মোদির ব্যক্তিগত পেজ তাঁর কার্যালয়ের পেজকেও বামন বানিয়ে দেয়। কিন্তু ছোট প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশের কার্যালয়ের পেজ এক সপ্তাহ না পেরোতেই পাকিস্তানের কাছাকাছি, ভুটানের অনেক ওপরে।

বাংলাদেশের জন্য এটি কেন নতুন

২০২৪ সালের আগস্টের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজই ছিল না। কার্যালয়ের হালনাগাদ প্রকাশিত হতো ক্ষমতাসীন দলের পেজ, সরকারের আইসিটি বিভাগ, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনসহ নানা জায়গা থেকে। দাপ্তরিক যোগাযোগকে একটি ভেরিফায়েড, কার্যালয়ের নামের চ্যানেলে আনা একটি ছোট পরিবর্তন, তবে ব্যবহারিক সুবিধা আছে: পিএমওর নামে চালানো কিছু আসল কি না, নাগরিক ও সাংবাদিকদের যাচাইয়ের একটিই জায়গা—যে দেশে বিকৃত স্ক্রিনশট দ্রুত ছড়ায়, সেখানে কাজের ঢাল।

নজর রাখার মতো

অনুসারীর সংখ্যা সহজ অংশ। কঠিন পরীক্ষা হলো পেজটি দ্বিমুখী চ্যানেল হয় কি না—প্রশ্নের উত্তর, ভুল তথ্যের সংশোধন, নথি প্রকাশ—নাকি সুনির্মিত হাইলাইট রিল হয়েই থাকে। ইনস্টাগ্রামের সংখ্যাও এমন একটি দর্শকের ইঙ্গিত দেয়, যাদের কাছে কার্যালয় এখনো পৌঁছায়নি: তরুণ, শহুরে, আর ক্রমশ ফেসবুকের বাইরে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।