প্রযুক্তি

যন্ত্রের আঁকা ছবির মালিক কে? যে তিনটি কপিরাইট লড়াই ঠিক করবে এআই শিল্পের দাম কত—আর তার টাকা কে পাবে

অনুমতি ছাড়া নিজেদের কাজে প্রশিক্ষণের জন্য শিল্পীরা ও গেটি ইমেজেস স্ট্যাবিলিটি এআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করছে; ইউনিভার্সাল মিউজিক চায় স্ট্রিমিং সেবা এআইকে তার গান স্ক্র্যাপ করা থেকে আটকাক; আর মার্কিন কপিরাইট অফিস মিডজার্নিতে তৈরি ছবি নিবন্ধনে অস্বীকার করেছে। প্রশিক্ষণের তথ্যের স্রষ্টারা টাকা পান কি, মেশিন লার্নিং ‘ন্যায্য ব্যবহার’ কি, আর মডেল যা বানায় তার মালিক কেউ হতে পারে কি? প্রতিটি প্রশ্ন কোথায়, আর বাংলাদেশি ডিজাইনারের জন্য এর মানে।

যন্ত্রের আঁকা ছবির মালিক কে? যে তিনটি কপিরাইট লড়াই ঠিক করবে এআই শিল্পের দাম কত—আর তার টাকা কে পাবে

যন্ত্রের বানানো লেখা, ছবি ও গান শিল্পের নতুনতম ক্ষেত্র আর এর ব্যবসার নতুনতম মাথাব্যথা। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সংবাদপত্র এআই-লেখা নিবন্ধ পরীক্ষা করে যোগ্য পেল। কর্মরত শিল্পীদের জন্য খবর ভালো নয়: একই টুল যেকোনো চিত্রশিল্পীর শৈলীর অনুকরণ সেকেন্ডে বানাতে পারে, শৈলীটি তাঁর কাজ থেকে শিখে, না জিজ্ঞেস করে। কেউ কেউ একে বলেন চুরি। জেনারেটিভ এআইয়ে শত শত কোটি ঢালা বিনিয়োগকারীরা একে বলেন পণ্য। তিনটি আলাদা বিবাদ ঠিক করবে কে ঠিক।

১. যাঁদের কাজে মডেল প্রশিক্ষিত, তাঁরা টাকা পান কি?

জানুয়ারিতে একদল শিল্পী মামলা করেন ছবি তৈরির স্টেবল ডিফিউশনের পেছনের লন্ডনের কোম্পানি স্ট্যাবিলিটি এআইয়ের বিরুদ্ধে, অভিযোগ এটি তাঁদের কাজ প্রশিক্ষণের তথ্যে ব্যবহার করেছে আর প্রতিবার অনুকরণে তাঁদের অধিকার লঙ্ঘন করে। ‘শিল্পীদের তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে তাতে তাঁদের মত থাকা উচিত, আর ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত,’ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন এক বাদী, কার্টুনিস্ট সারাহ এন্ডারসন। গেটি ইমেজেস একই কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেছে লাখ লাখ ছবির ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘনে’—তীক্ষ্ণভাবে, কারণ গেটি ইতিমধ্যে জিজ্ঞেস করা কোম্পানিকে মেশিন লার্নিংয়ে আর্কাইভ লাইসেন্স করে। ইউনিভার্সাল মিউজিক স্পটিফাই ও অ্যাপল মিউজিককে বলেছে এআই কোম্পানির তার তালিকা স্ক্র্যাপ করা থামাতে। স্ট্যাবিলিটি এআই এখনো দাবিগুলোর জবাব দেয়নি।

২. যন্ত্র প্রশিক্ষণ কি ‘ন্যায্য ব্যবহার’?

মার্কিন আইন কপিরাইটযুক্ত কাজ মন্তব্য, সমালোচনা ও ‘রূপান্তরমূলক’ উদ্দেশ্যে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করতে দেয়, আর আদালত সাধারণত কম্পিউটারের লেখা পড়াকে রূপান্তরমূলক ধরেছে। বিষয়টিতে স্ট্যানফোর্ড ল স্কুলের কর্মসূচি চালানো মার্ক লেমলি আশা করেন যন্ত্রের ফল যে শিল্পীর কাছ থেকে শিখেছে তাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলে বিচারকেরা কম সহানুভূতিশীল হবেন। তিনি নতুন মানদণ্ড প্রস্তাব করেন: শেখার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ অনুমোদিত হতে পারে; নির্দিষ্ট স্রষ্টার কাজ পুনরুৎপাদনের উদ্দেশ্যে নয়। যেভাবেই হোক অমীমাংসিত: লঙ্ঘন ঘটলে দায়ী প্রম্পট টাইপ করা ব্যবহারকারী, টুল গড়া কোম্পানি, না দুজনই?

৩. যন্ত্র যা বানায় তার মালিক কেউ হতে পারে?

কপিরাইট, এ পর্যন্ত, কেবল মানুষের। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন কপিরাইট অফিস একটি গ্রাফিক উপন্যাসের এআই-তৈরি ছবি নিবন্ধনে অস্বীকার করে মানুষের লেখা পাঠ ও বিন্যাস অনুমোদন করে—কার্যত এআইকে ভাড়া করা চিত্রশিল্পী ধরে, যার অবদান লেখক দাবি করতে পারেন না। কিছু প্রকৌশলী বলছেন তাঁরা মডেলের ফলের মালিকানা দাবি করবেন; অফিসের অবস্থান, আপাতত, না।

ঢাকার ডিজাইনারের জন্য

বাংলাদেশের কপিরাইট আইন, আমেরিকার মতো, মানুষের রচনা রক্ষা করে, আর ২০২৩-এর কপিরাইট আইনে এআইয়ের উল্লেখ নেই। দুটি ব্যবহারিক পরিণতি। পুরোপুরি মিডজার্নিতে তৈরি লোগো বা চিত্র এখানে সম্ভবত অরক্ষণীয়—যে ক্লায়েন্ট এর দাম দেন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে একই ছবি ব্যবহার থেকে আটকাতে পারেন না। আর যে বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীর শৈলী মডেল অনুকরণ করছে তাঁর, আজ, যাওয়ার কোনো আদালত নেই; ওপরের লড়াইগুলো হচ্ছে লন্ডন ও সান ফ্রান্সিসকোয়, আর তার ফল এখানে আসবে সত্য হয়ে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।