অ্যাপলের সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান, নাম ‘ওয়ান্ডারলাস্ট’, শুরু হলো মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অ্যাপল পার্কে টিম কুককে নিয়ে আর শেষ হলো, প্রত্যাশামতো, বিশ্লেষকদের ঠিক প্রমাণ করে। চারটি নতুন আইফোন, আর প্রতিটিতে ইউএসবি-সি পোর্ট। ২০১২ সালে আইফোন ৫-এর সঙ্গে আসা লাইটনিং কানেক্টর শেষ—পছন্দে নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে, যার অভিন্ন-চার্জার আইন পরের বছর কার্যকর। অ্যাপল ব্রাসেলসের নাম একবারও নেয়নি।
আইফোন ১৫ ও ১৫ প্লাস
৬.১ ও ৬.৭ ইঞ্চি, ১২৮ জিবিতে ৭৯৯ ও ৮৯৯ ডলার থেকে। দুটিই পায় গত বছরের প্রো সুবিধা: নচের জায়গায় ডায়নামিক আইল্যান্ড, মূল ক্যামেরা ৪৮ মেগাপিক্সেলে টেলিফটোর মতো কাজ করা ২× ক্রপসহ, আর চিপ গত বছরের এ১৬। পেছনে পাঁচটি নরম রঙে রং-মেশানো ফ্রস্টেড কাচ। ইউএসবি-সি পোর্ট চলে ইউএসবি ২ গতিতে, লাইটনিংয়ের মতোই।
আইফোন ১৫ প্রো ও প্রো ম্যাক্স
৯৯৯ ডলার (৬.১ ইঞ্চি, ১২৮ জিবি) ও ১,১৯৯ ডলার (৬.৭ ইঞ্চি, এখন ২৫৬ জিবি থেকে) থেকে। ফ্রেম স্টিলের বদলে টাইটানিয়াম, লক্ষণীয়ভাবে হালকা, পাতলা বেজেলসহ। মিউট সুইচের জায়গায় কাস্টমাইজযোগ্য অ্যাকশন বাটন—ক্যামেরা, টর্চ, ভয়েস মেমো, একটি শর্টকাট। এ১৭ প্রো চিপ ৩-ন্যানোমিটার প্রক্রিয়ার প্রথম, হার্ডওয়্যার রে ট্রেসিং পারা জিপিইউসহ; অ্যাপল এতে কনসোল গেম চালিয়ে দেখাল। প্রো ম্যাক্স পায় ৫× পেরিস্কোপ টেলিফটো। প্রোর ইউএসবি-সি পোর্ট চলে ইউএসবি ৩, ১০ জিবিপিএসে, বাইরের ড্রাইভে প্রোরেস ভিডিও রেকর্ডের মতো দ্রুত। অ্যাপল একে তার সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন বলে, যা প্রতিবছর সত্য।
ঘড়ি ও এয়ারপডস
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৯, ৩৯৯ ডলার থেকে: নতুন এস৯ চিপ, সিরিজ ৮-এর দ্বিগুণ পর্দার উজ্জ্বলতা, ঘড়িতেই প্রক্রিয়া হওয়া সিরি, আর ডাবল ট্যাপ—বুড়ো আঙুল ও তর্জনী ছুঁইয়ে কল ধরা, টাইমার থামানো বা গান বদলানো, পর্দা না ছুঁয়ে। ওয়াচ আলট্রা ২, ৭৯৯ ডলার: একই এস৯, ৩,০০০ নিটের পর্দা (অ্যাপলের উজ্জ্বলতম), ৭২ ঘণ্টা ব্যাটারি, ৯৫ শতাংশ রিসাইকেল টাইটানিয়ামের কেস। এয়ারপডস প্রো পায় ইউএসবি-সি কেস আর, সফটওয়্যারে, অ্যাডাপটিভ অডিও ও কনভারসেশন অ্যাওয়ারনেস। ওয়াচওএস ১০ আসে ১৮ সেপ্টেম্বর; সব বিক্রিতে ২২ সেপ্টেম্বর।
ঢাকার ক্রেতার জন্য
ডলারে দাম গত বছরের মতোই, যা টাকার এক বছরের পতনের পর মানে গ্রে বাজারে আইফোন ১৫ প্রো মোটামুটি ১.৭–১.৯ লাখ টাকা আর অনুমোদিত রিসেলারে বেশি, অক্টোবরে মজুত এলে। কেব্লের প্রশ্নটি ব্যবহারিক: বাক্সে ইউএসবি-সি টু ইউএসবি-সি কেব্ল আর কোনো চার্জার নেই, তাই ঢাকার প্রতিটি বাড়ির লাইটনিং কেব্ল ও ২০ ওয়াটের অ্যাপল ব্রিক এখনো কাজ করে—ব্রিকে ইউএসবি-সি সকেট—কিন্তু লাইটনিং কেব্ল করে না। গত পাঁচ বছরের যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড চার্জার আইফোন ১৫ চার্জ করবে। মঞ্চে অ্যাপল যা বলেছে তার চেয়ে এটিই বেশির ভাগ মানুষের জন্য বদলায়।




