প্রযুক্তি

লিচুগাছে ঝোলানো মডেম: টুজিতে কাজ করা মধুপুর বনের গারো ফ্রিল্যান্সাররা

নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রায় ৩৫০ গারো তরুণ-তরুণী টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের দশ কিলোমিটার ভেতরের গ্রাম থেকে ডলার আয় করেন—যেখানে নেটওয়ার্ক মেলে শুধু ঘরের বাইরে, ব্রডব্যান্ড বড়জোর ২ এমবিপিএস।

লিচুগাছে ঝোলানো মডেম: টুজিতে কাজ করা মধুপুর বনের গারো ফ্রিল্যান্সাররা

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের দশ কিলোমিটার ভেতরে একটি লিচুগাছের নিচে বসে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাজ করেন প্রাঞ্জল নকরেক। ছায়ার জন্য নয়। গাছাবাড়ি গ্রামের মাটির ঘরের ভেতরে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না, তাই গাছতলার খোলা জায়গাটুকুতেই সংযোগ টেকে। পাশের গায়রা ও ইদিলপুরে ফ্রিল্যান্সাররা ডালে আর চালে মডেম বেঁধে রাখেন যেটুকু টুজি-থ্রিজি পৌঁছায় তা ধরতে, আর রাতে বনের ভেতরে হেঁটে খোঁজেন এমন জায়গা, যেখান থেকে বিদেশের ক্লায়েন্টকে শেষ করা ফাইলটা পাঠানো যায়।

উঠানের ইনস্টিটিউট

এখানে ফ্রিল্যান্সার থাকার কারণ সুবীর নকরেক। গারো এই তরুণ ২০১৭ সালে কাজ শেখেন, প্রথম কাজে পান ৭৫ ডলার, আর কাজ একার সামর্থ্য ছাড়িয়ে গেলে নিজের উঠানে অন্যদের শেখানো শুরু করেন। তাঁর নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে; শাখা খুলেছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও জামালপুরে। বনের গ্রামগুলোর প্রায় ৩৫০ তরুণ-তরুণী এখন বিদেশি ক্লায়েন্টের ডিজাইন, ডিজিটাল বিপণন ও ডেটার কাজ করেন।

ইদিলপুরের দিনা মৃ ইনস্টিটিউটে ডিজিটাল বিপণন শিখে মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করেন। ২০২০ সালের লকডাউনে তিন মাস গ্রামে থেকে কাজ করেছেন উঠানের আমগাছে রাউটার ঝুলিয়ে; সংযোগের জন্য এখন থাকেন ময়মনসিংহ শহরে। "আমাদের কাজের আগ্রহ অনেক, কিন্তু সুযোগ কম," বলেন গায়রার মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিলিপ মৃ, যিনি ক্লাসের কারণে গ্রাম ছাড়তে পারেন না। "যখন আগ্রহ নিয়ে কাজে বসি, তখনই ইন্টারনেটের ধীরগতিতে কাজ থেমে যায়।"

হতাশার পেছনের সংখ্যা

  • গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের মোবাইল ডেটা: শুধু ঘরের বাইরে, টুজি থেকে থ্রিজি গতি।
  • স্থানীয় ব্রডব্যান্ড: জলছত্রের সংযোগদাতার দাবি ১০-২০ এমবিপিএস, ব্যবহারকারীদের হিসাবে ২-৩ এমবিপিএস—তা-ও বিদ্যুৎ থাকলে।
  • ভুক্তভোগী গ্রাম: গায়রা, কাকড়াগুনি থেকে পীরগাছা, থানারবাইদ—বিশের বেশি।

গল্পটা কেন গুরুত্বপূর্ণ

"ডিজিটাল বাংলাদেশ" আর রপ্তানি শিল্প হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে দেশে কথা হয় অনেক। মধুপুর দুটোরই পরীক্ষা। দক্ষতা আছে, ক্লায়েন্ট আছে, ডলার আছে; নেই শুধু একটি টাওয়ার আর একটি ফাইবার লাইন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামটি নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদন ঠিক মানুষের চোখে পড়েছিল।

হালনাগাদ: দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রামীণফোন গায়রায় অস্থায়ী ফোর-জি টাওয়ার বসায়; ১২ মার্চ গ্রামগুলো উৎসব করে উদ্‌যাপন করে; স্থায়ী টাওয়ার বন বিভাগের অনুমতির অপেক্ষায়। এপ্রিলে সরকার মধুপুরের ফ্রিল্যান্সারদের ল্যাপটপ দেয়।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।