২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় একটি ফ্রন্ট খুলল—যা ল্যাপটপ থাকলেই যে কেউ দেখতে পারেন। শনিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ টুইট করেন: "আমরা একটি আইটি আর্মি তৈরি করছি। সাইবার ফ্রন্টে আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।" টুইটে যুক্ত ছিল একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংক, যেখানে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা: রুশ সরকারি ওয়েবসাইট, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, জ্বালানি কোম্পানি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট।
স্বেচ্ছাসেবীরা যা করল
কয়েক দিনে চ্যানেলের সদস্য ছাড়ায় এক লাখ। প্রথম কাজ ছিল ডিডস—কোনো সাইটে এত ট্রাফিক পাঠানো যে তা বসে যায়; সপ্তাহান্তে ক্রেমলিনের নিজস্ব সাইট kremlin.ru ও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সাইট থেমে থেমে অচল ছিল। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দেশীয় হ্যাকারদের রুশ সেনার গতিবিধির তথ্য সংগ্রহেরও আহ্বান জানান। কোনো সরকার এভাবে প্রকাশ্যে এমন কিছু আগে সংগঠিত করেনি।
যা আগে ঘটেছিল
সাইবার যুদ্ধ ইউক্রেনের ডাকে শুরু হয়নি। আগ্রাসনের আগের সপ্তাহে ডিডস হামলায় অচল হয় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট; যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রকাশ্যে দায়ী করে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে। ২৩ ফেব্রুয়ারি অ্যান্টিভাইরাস প্রতিষ্ঠান ইসেট ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কম্পিউটারে তথ্য মুছে ফেলার ম্যালওয়্যার পায়—পরে যার নাম হয় হারমেটিকওয়াইপার—ট্যাংক এগোনোর সঙ্গে সময় মিলিয়ে ছাড়া।
বাংলাদেশ থেকে যোগ না দেওয়ার কারণ
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশি ফেসবুক গ্রুপে টেলিগ্রাম লিংকটি ছড়ায়, কেউ কেউ জানতে চান কীভাবে "সাহায্য" করা যায়। ট্যাব বন্ধ করার তিনটি কারণ:
- এখানে এটি বেআইনি। লক্ষ্য যা-ই হোক, ডিডস-এ অংশ নেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ, আর আইএসপির লগ থেকে আপনাকে চিহ্নিত করা সহজ।
- টুলগুলো উল্টো কামড়ায়। আইটি আর্মির নামে ছড়ানো কয়েকটি "ডিডস কিটে" পরে পাওয়া যায় পাসওয়ার্ড চুরির ম্যালওয়্যার—লক্ষ্য স্বেচ্ছাসেবীরাই।
- পার্শ্বক্ষতি সত্যি। রুশ ব্যাংক ও পেমেন্ট নেটওয়ার্কে হামলার ধাক্কা লাগে সাধারণ মানুষের গায়ে—রাশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদেরও।
বাংলাদেশের জন্য ভালো শিক্ষা প্রতিরক্ষামূলক। ওয়াইপার ও ডিডস কৌশল সীমান্ত মানে না; ব্যাংক থেকে বিদ্যুৎ গ্রিড—দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাও একই সফটওয়্যারে চলে। জাতীয় ইনসিডেন্ট রেসপন্স দল বিজিডি ই-গভ সার্ট ওই সপ্তাহে নিজেরাই সতর্কতা জারি করে: প্যাচ করুন, অফলাইনে ব্যাকআপ রাখুন, অস্বাভাবিক ট্রাফিকে নজর রাখুন। এখানে আসলে সেটিই সাইবার ফ্রন্ট।




