প্রযুক্তি

৫ মে থেকে আইফোন ৫এস, ৬ ও ৬ প্লাসে চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ—কেন, আর ঢাকার পুরোনো আইফোনের মালিকেরা কী করতে পারেন

৫ মে থেকে হোয়াটসঅ্যাপের দরকার আইওএস ১৫.২ বা নতুন। সেখানে পৌঁছাতে না পারা তিনটি আইফোন—৫এস, ৬ ও ৬ প্লাস, বাংলাদেশের পুরোনো ফোনের বাজারে সবই সাধারণ—অ্যাপটি চিরতরে হারাচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ কেন বারবার ন্যূনতম সীমা তোলে, নিজের সংস্করণ যাচাই করবেন কীভাবে, আর ফোন বদলালে চ্যাটের ইতিহাস রাখবেন কীভাবে।

৫ মে থেকে আইফোন ৫এস, ৬ ও ৬ প্লাসে চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ—কেন, আর ঢাকার পুরোনো আইফোনের মালিকেরা কী করতে পারেন

হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — এই লেখার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। ২০২৫ সালের ৫ মে আইফোন ৫এস, ৬ ও ৬ প্লাসে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়, আর নিচের নির্দেশনাগুলো লেখা হয়েছিল এমন কারও জন্য যাঁর হাতে তখনো চার দিন ছিল। কী ঘটল, আর আপনার নিজের ফোনের পালা কখন তা কোন নিয়মে বোঝা যায় — মূল লেখার পরেই।

৫ মে থেকে আইওএস ১৫.১ বা পুরোনো সংস্করণের কোনো আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চলা বন্ধ হবে। বেশির ভাগ আইফোন মালিকের জন্য এর মানে কিছুই না—একটি দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট, আর অ্যাপ চলতে থাকে। তিনটি মডেলের জন্য এর মানে সমাপ্তি: আইফোন ৫এস, আইফোন ৬ ও আইফোন ৬ প্লাস আইওএস ১২-এর ওপরে আপডেট হয় না, তাই নতুন ন্যূনতম আইওএস ১৫.২-এ পৌঁছাতে পারে না, আর সেগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপ স্রেফ থেমে যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপ কেন বারবার সীমা তোলে

প্রতিবছর অ্যাপটি এমন সুবিধা যোগ করে—এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ, কমিউনিটি, এইচডি মিডিয়া, পাসকি—যা অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণের সক্ষমতায় ভর করে। পুরোনো সংস্করণ সমর্থন মানে আলাদা কোড রক্ষণাবেক্ষণ, আর আরও গুরুতর, অ্যাপল যে নিরাপত্তা ছিদ্র আর সারায় না, তা মেনে নেওয়া। অ্যাপল ৫এস, ৬ ও ৬ প্লাস বানানো বন্ধ করেছে ২০১৬ সালে, নিরাপত্তা আপডেট থামিয়েছে বছর কয়েক আগে। হোয়াটসঅ্যাপের নিজের বক্তব্য, পুরোনো যন্ত্রে ‘হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদে চালানোর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাব থাকতে পারে’, আর যে ফোনের অপারেটিং সিস্টেমে জানা, অসংশোধিত দুর্বলতা আছে, সেখানে এটি বিপণনের কথা নয়।

নিজের ফোন যাচাই করুন

  1. সেটিংস → জেনারেল → অ্যাবাউট খুলে আইওএস ভার্সন লাইনটি পড়ুন।
  2. ১৫.২ বা বেশি হলে আপনি ঠিক আছেন। ১৫.০ বা ১৫.১ হলে সেটিংস → জেনারেল → সফটওয়্যার আপডেট-এ গিয়ে সর্বশেষ সংস্করণ বসান—আইফোন ৬এস বা নতুন ফোন আইওএস ১৫.৮ পর্যন্ত যেতে পারে।
  3. ফোন ৫এস, ৬ বা ৬ প্লাস হলে কোনো আপডেট সাহায্য করবে না। অ্যাপ ৫ মে পর্যন্ত চলবে, তারপর থামবে।

বাংলাদেশের দিক

এই তিনটি ফোন এখানে এখনো সর্বত্র: গুলিস্তান ও মতিঝিলের পুরোনো ফোনের দোকানে বছরের পর বছর রিফার্বিশড আইফোন ৬ বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়, প্রায়ই শিক্ষার্থীদের প্রথম আইফোন হিসেবে। এখন পুরোনো কিনলে ৬এসকে সবচেয়ে পুরোনো গ্রহণযোগ্য মডেল ধরুন—এটি আইওএস ১৫ চালায়, আরও কিছুদিন হোয়াটসঅ্যাপ রাখবে—আর মনে রাখুন, এটিও একসময় বাদ পড়বে।

চ্যাট রাখুন

পুরোনো ফোন যাওয়ার আগে ব্যাকআপ নিন: হোয়াটসঅ্যাপ → সেটিংস → চ্যাটস → চ্যাট ব্যাকআপ → ব্যাক আপ নাউ (আইক্লাউডে জায়গা ও ওয়াই-ফাই লাগে)। নতুন আইফোনে একই অ্যাপল আইডি ও নম্বরে সাইন-ইন করে রিস্টোরের প্রস্তাব গ্রহণ করুন। অ্যান্ড্রয়েডে যাওয়া হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব ট্রান্সফারে সম্ভব, কিন্তু দুটো ফোন হাতে ও একটি কেব্‌ল লাগে—তাই পুরোনোটি বেচার আগে করুন, পরে নয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল, প্রথম আলোর বরাতে।

কী ঘটল, আর পরেরটির জন্য এর মানে কী

ঘোষণা অনুযায়ীই সময়সীমা কার্যকর হয়। আইফোন ৫এস, ৬ ও ৬ প্লাসে — এবং প্রয়োজনীয় আইওএস সংস্করণে পৌঁছাতে না পারা অন্য যেকোনো যন্ত্রে — হোয়াটসঅ্যাপ চলা বন্ধ হয়ে যায়। যাঁরা ব্যাকআপ নেননি, তাঁদের কিছুই আর ফেরানো যায়নি — এসব সময়সীমার স্বাভাবিক পরিণতি এটিই, আর এ কারণেই এই হালনাগাদ পরামর্শ নয়, তারিখ দিয়ে শুরু হচ্ছে।

এখন কাজের প্রশ্নটি ওই তিনটি ফোন নিয়ে নয়। প্রশ্নটি হলো, আগেভাগে কীভাবে জানবেন আপনার ফোনের পালা কখন।

র‌্যাচেটটি, আর এটি খামখেয়ালি নয় কেন

ন্যূনতম অপারেটিং সিস্টেমের শর্ত কেবল একদিকেই নড়ে, আর নড়ে এমন একটি কারণে যা বোঝা দরকার — কারণ তাতেই মোটামুটি বোঝা যায় আপনার ক্ষেত্রে এটি কখন ঘটবে।

পুরোনো ওএস সংস্করণ সমর্থন করতে হলে অ্যাপকে তার জন্য আলাদা কোড বয়ে বেড়াতে হয়, এরপর আসা কোনো সুবিধাই ব্যবহার করা যায় না, আর — যে অংশটি আসলে সিদ্ধান্তে বাধ্য করে — এমন একটি ব্যবস্থায় চলতে হয় যেটিতে নির্মাতা আর প্যাচ দিচ্ছে না। কোনো যন্ত্র নিরাপত্তা হালনাগাদ পাওয়া বন্ধ করলে তাতে এরপর পাওয়া প্রতিটি ত্রুটি স্থায়ীভাবে খোলা থেকে যায়। জানা, অসংশোধিত দুর্বলতাসহ অপারেটিং সিস্টেমে চলা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সে যা দাবি করে তা দিচ্ছে না — কারণ এনক্রিপশন মজবুত, আর তার নিচের যন্ত্রটি নয়।

কাজেই ক্রমটি সব সময়ই একই: নির্মাতা কোনো যন্ত্রের নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ করে, যন্ত্রটি পুরোনো ওএস সংস্করণে আটকে যায়, আর কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর অ্যাপগুলো নিজেদের ন্যূনতম শর্ত তার ওপরে তুলে দেয়। অ্যাপের ঘোষণাটি শেষ ধাপ, আর আসল ঘটনাটি — নিরাপত্তা হালনাগাদ বন্ধ হওয়া — ঘটে গেছে অনেক আগেই, সাধারণত কারও চোখে না পড়েই।

নিজের ফোনের অবস্থা যেভাবে দেখবেন

দুটি তথ্যই সব ঠিক করে দেয়, আর কোনোটিই ফোনের বয়স নয়।

১. কোন ওএস সংস্করণে আছে, আর সেটিই এর সর্বোচ্চ কি না। আইফোনে বর্তমান সংস্করণের জন্য সেটিংস → জেনারেল → অ্যাবাউট, আর নতুন কিছু আছে কি না দেখতে সেটিংস → জেনারেল → সফটওয়্যার আপডেট। অ্যান্ড্রয়েডে সেটিংস → অ্যাবাউট ফোন, যেখানে অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ও সিকিউরিটি প্যাচ লেভেল আলাদা করে দেওয়া থাকে — গুরুত্বপূর্ণ হলো প্যাচ লেভেলটি, আর এক বছরের বেশি পুরোনো তারিখই সতর্কসংকেত।

২. ওই মডেলের জন্য নির্মাতা এখনো নিরাপত্তা হালনাগাদ দিচ্ছে কি না। এটি প্রকাশিত তথ্য, আর বাকি সবকিছুর পূর্বাভাস দেয় এই একটিমাত্র তথ্যই। অ্যাপল আইফোনে দীর্ঘদিন নিরাপত্তা হালনাগাদ দেয়, তবে আগেভাগে শেষ তারিখ জানায় না। অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতারা এখন স্পষ্ট করে সমর্থনের মেয়াদ প্রকাশ করে, আর একই ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ ও সাশ্রয়ী মডেলের মধ্যে সেটি বিপুলভাবে আলাদা।

আপনার যন্ত্রটি যদি তার সর্বোচ্চ সম্ভব ওএস সংস্করণে থাকে এবং নির্মাতা হালনাগাদ দেওয়া বন্ধ করে থাকে, তবে খোলা প্রশ্ন কেবল একটিই: কোন অ্যাপটি আগে বাদ দেবে।

সেকেন্ড-হ্যান্ড কেনার সময় এর মানে

পরামর্শটি এখানেই সবচেয়ে মূল্যবান, কারণ সেকেন্ড-হ্যান্ড বাজার ফোনের দাম ঠিক করে অবস্থা আর মডেলের নাম দেখে — আর কোনোটিই বলে না ফোনটি কত দিন ব্যবহারযোগ্য থাকবে।

চমৎকার অবস্থার রিফার্বিশড একটি হ্যান্ডসেট দুই মাস পরেই আটকে যেতে পারে, আবার আঁচড় লাগা অন্য ধারার একটি ফোনে চার বছরের হালনাগাদ বাকি থাকতে পারে। পর্দা দেখে কিছুই বোঝা যায় না; সমর্থনের মেয়াদ দেখে সবই বোঝা যায়। ব্যবহৃত যেকোনো ফোন কেনার আগে দেখে নিন ঠিক ওই মডেলটি কবে নিরাপত্তা হালনাগাদ পাওয়া বন্ধ করবে, আর বাকি বছরগুলোকেই আসল স্পেসিফিকেশন ধরুন — সঞ্চয়, অবস্থা বা ক্যামেরার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শেষ পর্যন্ত ফোনটি নিজের কাজ করবে কি না তা এটিই ঠিক করে।

বাস্তব নিয়ম: দুই বছরের কম নিরাপত্তা সমর্থন বাকি থাকা ফোন দাম যা-ই হোক স্বল্পমেয়াদি কেনাকাটা, আর সেভাবেই এর দাম ধরা উচিত।

পুরোনো ফোন বাতিল বা বিক্রির আগে

যন্ত্র বদলানোর সময় ধাপগুলো সব সময়ই একই, আর ফোনটি অকেজো হয়ে যাওয়ার পরে নয়, আগেই এগুলো করা সহজ।

  1. আলাপ ব্যাকআপ করুন। হোয়াটসঅ্যাপে: সেটিংস → চ্যাটস → চ্যাট ব্যাকআপ → ব্যাক আপ নাউ। এতে ক্লাউডে জায়গা আর ওয়াই-ফাই লাগে, আর যে ব্যাকআপ কখনো পরীক্ষা করা হয়নি সেটি ব্যাকআপ নয়, আশা।
  2. নতুন যন্ত্রে পুনরুদ্ধার করুন — একই অ্যাকাউন্ট ও নম্বরে সাইন ইন করে, আর পুনরুদ্ধারের বার্তা এলে তা গ্রহণ করে। বার্তাটি আসে একবারই, সেটআপের সময়; এড়িয়ে গেলে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়।
  3. প্ল্যাটফর্ম বদলালে, অর্থাৎ আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডের মধ্যে, ভেতরে থাকা ট্রান্সফার ব্যবস্থার জন্য দুটি ফোনই হাতে আর একটি কেব্‌ল লাগে। পুরোনোটি বিক্রির পরে নয়, আগেই করুন — মানুষ এই ধাপটির কথা জানে বড্ড দেরিতে।
  4. সাইন আউট করে মুছে ফেলুন ফোনটি হাতছাড়া হওয়ার আগেই, সঙ্গে যে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে এটি যুক্ত সেখান থেকেও সরিয়ে দিন — যাতে হ্যান্ডসেট হাতে পাওয়া কেউ ফ্যাক্টরি রিসেট ফিরিয়ে আনতে না পারেন।

সূত্র: WhatsApp support documentation, Apple security update history, Tech BD archive (May 2025), updated October 2026

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।