৩ জানুয়ারি ম্যানডিয়ান্টের এক্স অ্যাকাউন্ট—গুগল যে থ্রেট-ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠানকে ৫৪০ কোটি ডলারে কিনেছে, যার কাজ আক্ষরিক অর্থেই এই ধরনের জিনিস শনাক্ত করা—একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের লিংক পোস্ট করতে শুরু করল। এটি ম্যানডিয়ান্ট ছিল না। আক্রমণকারীরা অ্যাকাউন্টটি নিয়ে একটি বৈধ ক্রিপ্টো প্রকল্পের নামে নাম বদলে কয়েক ঘণ্টা ধরে কোম্পানির ১ লাখ ২০ হাজার অনুসারীর কাছে ওয়ালেট-খালি-করা সাইট ঠেলেছে। দ্য হ্যাকার নিউজ জানাচ্ছে, এটি এমন দখলের একটি ধারার অংশ: সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় এক কানাডীয় সিনেটর, এক ব্রাজিলীয় রাজনীতিক ও একটি অলাভজনক সংস্থার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাক হয়েছে ক্রিপ্টো প্রতারণা ও ফিশিং পাতার প্রচারে।
ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট কেন
এক্স তার টিক বিক্রি করে: প্রিমিয়ামে টাকা দেওয়া ব্যক্তির জন্য নীল, সরকারি সংস্থা ও কর্মকর্তার জন্য ধূসর, প্রতিষ্ঠানের জন্য সোনালি। টিকের মানে হওয়ার কথা পরিচয় যাচাই হয়েছে, আর পাঠকেরা টিকওয়ালা অ্যাকাউন্টের পোস্টকে বিশ্বাসযোগ্য ধরেন—প্রতারক ঠিক যা চায়। টোকেন লঞ্চ বা এয়ারড্রপ ঘোষণা করা সোনালি-টিক অ্যাকাউন্ট এমন ক্লিক পায়, যা বেনামি অ্যাকাউন্ট কখনো পেত না। চুরি যাওয়া পরিচয়পত্র কেনাবেচাও হয়: প্রতিবেদন বলছে, হ্যাকাররা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের প্রবেশাধিকার অন্য অপরাধীদের কাছে বেচে, অনুসারীর সংখ্যার সঙ্গে দাম বাড়ে।
অ্যাকাউন্ট যেভাবে নেওয়া হয়
মূলত পুরোনো পথে। এক্সের নিজের নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির নকল ফিশিং ইমেইল; অন্য ফাঁস হওয়া সাইট থেকে পুনর্ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড; আর ম্যানডিয়ান্টের ক্ষেত্রে, এক্সে অথেনটিকেশন নীতির বদলের সময় অ্যাকাউন্টটির দুই-ধাপের সুরক্ষা ফুরিয়ে গিয়েছিল—পাসওয়ার্ডে ব্রুট-ফোর্স আক্রমণ বাকিটা করে। এক্স গত বছর অ-প্রদায়ী ব্যবহারকারীদের জন্য এসএমএস দুই-ধাপ যাচাই তুলে নেয়, যাতে কিছু অ্যাকাউন্ট আদৌ দ্বিতীয় ধাপ ছাড়া রয়ে যায়।
যা করবেন
- অথেনটিকেটর অ্যাপ বা সিকিউরিটি কি দিয়ে দুই-ধাপের যাচাই চালু করুন (সেটিংস → সিকিউরিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট অ্যাকসেস → সিকিউরিটি → টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন)। এসএমএসে ভরসা করবেন না।
- পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে তৈরি এক্সের জন্য অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
- সংযুক্ত অ্যাপ পর্যালোচনা করে অচেনা সব সরান; তৃতীয় পক্ষের টুল একটি সাধারণ পেছনের দরজা।
- প্রতিষ্ঠানের জন্য: নিষ্ক্রিয় ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট মুছুন, অন্তত সুরক্ষিত করুন—অব্যবহৃত সোনালি টিক কেনার অপেক্ষায় থাকা প্রতারণা।
বাংলাদেশে একই ধরন চলে ফেসবুকে, যেখানে সংবাদমাধ্যম ও তারকাদের ভেরিফায়েড পেজ মাঝেমধ্যেই হাইজ্যাক হয় মোবাইল ফোনের ‘অফার’ ও জুয়ার সাইট বেচতে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা এক: ব্যাজ পাঠককে অ্যাকাউন্টে আস্থা রাখতে বলে, তাই ব্যাজে আস্থা রাখা যত সহজ, অ্যাকাউন্ট চুরি তার চেয়ে কঠিন হতে হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, প্রথম আলোর বরাতে।




