হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অপরিবর্তিত। ঘোষণার ভাষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি ছিল “ইন্টারঅপারেবল”, আর সেটিই কেন গোটা ব্যাপারটির কেন্দ্র, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।
মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
'হোয়াইট লেবেল কিউআর' হলো একটি কোডভিত্তিক ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট অ্যাকসেপ্টটেন্স সুল্যশন, যেটি বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনলাইনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আরো বেশি সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে "লেস ক্যাশ সোসাইটি" গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
এর আগে, ২০১৯ সালে এমটিবি'র মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে বাংলা কিউআর কোড চালু-তে পাইওনিয়ার ভূমিকা পালন করেছিল মাস্টারকার্ড ও এমটিবি। এবার নতুন সুবিধা যোগ হবার ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন আরো সহজ হবে, যেখানে যেকোনো মাস্টারকার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে তারা রিয়েল-টাইম কনটাক্টলেস পেমেন্টের সুযোগ পাবেন।
এসএসএল-এর হোয়াইট লেবেল অ্যাকুয়ারিং সুল্যশনের 'স্ক্যান টু পে' অপশনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী সহ সারা দেশের মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা আরো সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহারকারীদেরকে তাদের ব্যাংক অ্যাপে মাস্টারকার্ড কিউআর অপশনে প্রবেশ করে মার্চেন্ট ওয়েবসাইট বা চেকআউট কাউন্টারে প্রদর্শিত নির্দিষ্ট কোডটি স্ক্যান করতে হবে। এরপর তারা যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে চান, সেটি উল্লেখ করলেই লেনদেনটি সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মোঃ মেজবাউল হক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এসএসএলকমার্জের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন অধ্যায় শুরু করলাম। এসএসএলকমার্জ, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পেমেন্ট সলিউশন প্রদানকারী হিসেবে, সবসময় দেশে ব্যবসার মানোন্নয়নে সবচেয়ে আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সলিউশন দিয়ে আসছে। এই যাত্রায় মাষ্টারকার্ড এবং এমটিবি-কে আমাদের সহযোগী হিসেবে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কিউআর পেমেন্ট একটি আধুনিক ও নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এটির জন্য বিক্রেতাদের দোকানে আলাদা করে কোন ডিভাইস বা প্রিন্টার রাখতে হবে না, এমনকি বিদ্যুৎ না থাকলেও কোন সমস্যা নেই। শুধুমাত্র একটা কিউআর কোড কাগজে ছাপিয়ে রেখে দিলেই হবে, যা মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করে ক্রেতারা পেমেন্ট করতে পারবেন। সামনের দিনগুলোতে একজন ক্রেতা সামান্য টং দোকানের চায়ের বিল অথবা বাসার পাশের মুদি দোকানের বিলও কিউআর স্ক্যান করে দিতে পারবেন। কারণ ক্রেতারা তাদের মোবাইল ফোনে থাকা ব্যাংকের অ্যাপ দিয়ে খুব সহজেই পেমেন্ট করতে পারবেন। তাই ক্রেতার সাথে কোন কার্ড বা নগদ অর্থ না থাকলেও কিউআর পেমেন্ট করতে কোন অসুবিধা হবে না। কিউআর পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, সরবরাহকারী, ডিস্ট্রিবিউটর এবং কারখানা মালিকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন। শুধু ঢাকা শহরে নয়; সারা দেশে আমরা এই স্বপ্নটাকে খুব দ্রুত বাস্তবে পরিণত করতে চাই।"
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের গ্রুপ এমডি এবং সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, "দিন বদলের এই প্রচেষ্টায় মাস্টারকার্ড ও এসএসএলকমার্জ-কে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি যে, গ্রাহকদের অর্থ লেনদেনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই উদ্যোগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।"
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, "এসএসএলকমার্জ ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশীপের ভিত্তিতে কিউআর-ভিত্তিক অ্যাকসেপ্টটেন্স সুল্যশন চালু করতে পেরে মাস্টারকার্ড আনন্দিত। এটি কার্ডহোল্ডারদের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরো সহজ ও দ্রুততর করবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিশ্বস্ত পার্টনার হিসেবে মাস্টারকার্ড আগামীতেও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান প্রদানের পাশাপাশি আরো সহজ, স্মার্ট ও নিরাপদ 'কনটাক্টলেস পেমেন্ট' সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।"
“ইন্টারঅপারেবল” মানে কী
কিউআর কোড দিয়ে টাকা নেওয়া নতুন ছিল না। নতুন ছিল একটিই কোডে সব ব্যাংক ও ওয়ালেট থেকে টাকা নেওয়া।
এর আগে প্রতিটি সেবাদাতা নিজের কিউআর দিত। ফলে দোকানের কাউন্টারে পাঁচ-ছয়টি স্টিকার সাঁটা থাকত, আর ক্রেতা ভুল স্টিকার স্ক্যান করলে লেনদেন হতো না। ছোট দোকানির জন্য এটি কেবল অগোছালো নয়, খরচেরও বিষয়—প্রতিটি সেবাদাতার সঙ্গে আলাদা চুক্তি, আলাদা নিষ্পত্তি, আলাদা হিসাব।
বাংলা কিউআর সেই জায়গায় একটি সাধারণ মান দাঁড় করায়: একটি কোড, যেকোনো অ্যাপ। দোকানির দিক থেকে এটিই আসল সুবিধা—পিওএস যন্ত্র কিনতে হয় না, যার দাম আর মাসিক ভাড়াই এত দিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কার্ড লেনদেনের বাইরে রেখেছিল। একটি ছাপানো স্টিকারের খরচ কার্যত শূন্য।
এরপর যা হলো
বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরকে জাতীয় মান হিসেবে এগিয়ে নেয়, আর ব্যাংক ও সেবাদাতারা ধাপে ধাপে যুক্ত হয়। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবার নিজস্ব কিউআর নেটওয়ার্কগুলোও বড় হতে থাকে, কারণ সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংক অ্যাপের চেয়ে ওয়ালেট অ্যাপই বেশি পরিচিত।
ফলে প্রশ্নটি দাঁড়ায় মান নিয়ে নয়, অভ্যাস নিয়ে। প্রযুক্তিগতভাবে কোডটি সবার জন্য খোলা; বাস্তবে ক্রেতা কোন অ্যাপ খোলেন, সেটিই ঠিক করে দেয় লেনদেন কার নেটওয়ার্কে যাবে।
যে সংখ্যাটি দেখা উচিত
এ ধরনের ঘোষণায় সব সময় বলা হয় কতগুলো মার্চেন্ট পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে। সেটি কাজের সংখ্যা নয়।
কাজের সংখ্যা হলো, এক বছর পর ওই পয়েন্টগুলোর কতগুলো মাসে অন্তত একটি লেনদেন নিচ্ছে। কাউন্টারে স্টিকার সাঁটা থাকা আর স্টিকারটি ব্যবহৃত হওয়া এক জিনিস নয়, আর নিবন্ধনের হিসাব প্রথমটিই গোনে।
রিকশা থেকে মুদিদোকান—ক্ষুদ্রতম স্তরে ডিজিটাল পেমেন্ট কেমন চলছে, তা নিয়ে আছে ডিজিটাল পেমেন্ট নেবে রিকশাওয়ালাও লেখাটি।




