প্রযুক্তি

৩৩ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার দেখলেন, বাবা জন্মদিনের কার্ড পড়তে পারছেন

দশ বছর বয়সে দৃষ্টি হারাতে শুরু করা ডেভ ক্র্যাগ ৬৫তম জন্মদিনে কিনেছিলেন এআই স্মার্ট চশমা। কাজে লাগবে বলে তিনি ভাবেননি। ফ্রেমের ক্যামেরা তাঁকে অনেক বেশি স্বাধীন করে তুলেছে।

৩৩ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার দেখলেন, বাবা জন্মদিনের কার্ড পড়তে পারছেন

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুরগি-খামারি ডেভ ক্র্যাগের ৬৫তম জন্মদিনে এআইচালিত স্মার্ট চশমা কেনার সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবারকে এমন একটি মুহূর্ত দিল, যা তারা আশা করেনি।

যা বদলাল

তাঁর বড় মেয়ে ফিলিপা উইলকক্স বলেন, "এটাই প্রথম জন্মদিন—আর আমার বয়স ৩৩—যেদিন আমি বাবাকে জন্মদিনের কার্ড পড়তে দেখলাম।"

চেশায়ারের উইবানবারির বাসিন্দা ক্র্যাগ দৃষ্টি হারাতে শুরু করেন ১০ বছর বয়সে; এখন তাঁর প্রান্তীয় দৃষ্টি খুবই সীমিত। চশমাটি কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে শুরুতে তাঁর সংশয় ছিল।

ফ্রেমের ক্যামেরাটি তাঁর ফোনের অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত; এতে তিনি আগের চেয়ে "অনেক বেশি স্বাধীন" হয়ে উঠেছেন। গোপনে ধারণের আশঙ্কায় যন্ত্রগুলো নিয়ে বিতর্কও আছে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

প্রচলিত হিসাবে বাংলাদেশে দৃষ্টিহীন মানুষ প্রায় সাড়ে সাত লাখ, আর উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা আছে কয়েক মিলিয়ন মানুষের। সহায়ক প্রযুক্তি তাঁদের প্রায় কারও কাছেই পৌঁছায় না।

এ গল্পকে কেবল উষ্ণ অনুভূতির চেয়ে বেশি কিছু করে তোলে এই যে, এতে জড়িত সক্ষমতাটির—ক্যামেরা দিয়ে লেখা পড়ে শোনানো, দৃশ্যের বর্ণনা দেওয়া, বস্তু চেনা—আর আলাদা কোনো যন্ত্র লাগে না। এটি স্মার্টফোনেরই একটি সুবিধা। বিনা মূল্যের অ্যাপই এর মূল কাজটি করে, আর কয়েকটি ইংরেজিতে ভালোই কাজ করে।

ফাঁকটি বাংলায়। প্রতিটি বড় প্ল্যাটফর্মেই বাংলা লিপিতে লেখা শনাক্তকরণ লাতিন লিপির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ—কারণ প্রশিক্ষণের উপাত্ত পাতলা আর যুক্তাক্ষর কঠিন। একজন দৃষ্টিহীন বাংলাদেশি ইংরেজি সাইনবোর্ডে ফোন তাক করে শুনতে পারেন তাতে কী লেখা; কিন্তু বাংলা ব্যবস্থাপত্র, বিদ্যুৎ বিল বা সরকারি ফরমে তাক করলে ফল খারাপভাবে নেমে যায়। এটি সমাধানযোগ্য প্রকৌশল-সমস্যা, আর সম্পদ আছে এমন কেউ এটি সমাধান করছেন না।

বাংলা ভাষার উপাত্তভান্ডারে সরকারি অর্থায়নের সবচেয়ে স্পষ্ট যুক্তিও এটি। চেনা যুক্তিটি অর্থনৈতিক—ভালো অনুবাদ, ভালো সার্চ। জোরালো যুক্তিটি এই: বাংলায় কাজ করা লেখা-শনাক্তকরণ একটি সাধারণ ফোনকে সেই যন্ত্রে পরিণত করে, ক্র্যাগ যেটি কিনেছেন—এমন এক জনগোষ্ঠীর জন্য, বিশেষায়িত পণ্য কেনার সামর্থ্য যাদের নেই।

গোপনে ধারণের উদ্বেগ বাস্তব এবং তা উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়; তবে তা প্রতিটি মানুষের হাতে এমনিতেই থাকা ক্যামেরার ক্ষেত্রেও খাটে। চশমার পার্থক্য হলো, যাঁকে ধারণ করা হচ্ছে তাঁর কাছে ধারণটি দৃশ্যমান নয়। এটি সত্যিকারের গোপনীয়তার প্রশ্ন, আর কোনো দেশেই এর সন্তোষজনক উত্তর এখনো নেই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Zayed

টেক বিডির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ লেখেন জায়েদ — নতুন মডেল, এআই নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা আর সেগুলো ঘিরে গড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ। কোনো ব্যবস্থা কী দেখাতে পারে তার চেয়ে বাংলাদেশে ব্যবহারকারীর জন্য তা কী বদলায়, সেদিকেই তাঁর আগ্রহ। লেখেন ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই।