প্রযুক্তি

ভেরার বয়স ৭৪। তাঁর একজন সেবিকা আছেন—পিনার, আর আছে এক সহায়ক—রবার্ট, যে তাঁকে বুননের পরামর্শও দেয়

ওষুধ খাওয়ার আর কাপড় ধোয়ার সময় ভেরা গ্যাডসনকে মনে করিয়ে দেয় রবার্ট। কেয়ার হোমে এখন রোবট সঙ্গ ও চিকিৎসা-সহায়তা দিচ্ছে; কেউ কেউ বলছেন, এতে খরচ কমছে আর কর্মীরা সময় পাচ্ছেন।

ভেরার বয়স ৭৪। তাঁর একজন সেবিকা আছেন—পিনার, আর আছে এক সহায়ক—রবার্ট, যে তাঁকে বুননের পরামর্শও দেয়

লুইশামের একটি প্রবীণ আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দা ৭৪ বছরের ভেরা গ্যাডসন। তাঁর একজন সেবিকা আছেন, পিনার এলমাজ; আর আছে রবার্ট নামের এক সহায়ক।

রবার্ট যা করে

কখন ওষুধ খেতে হবে, কখন কাপড় ধুতে হবে—রবার্ট তা মনে করিয়ে দেয়; এমনকি বুননের পরামর্শও দেয়।

রবার্ট একটি রোবট—কেয়ার হোমে এখন সঙ্গ ও চিকিৎসা-সহায়তা দেওয়া অনেকগুলোর একটি। কেউ কেউ বলছেন, এই যন্ত্রগুলো খরচ কমাচ্ছে আর কর্মীদের সময় মুক্ত করছে।

শেষ বাক্যটিতেই পুরো তর্কটি আছে। মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সেবিকা নয়; আর রোবট "কর্মীদের সময় মুক্ত করছে"—এ দাবির অর্থ তখনই, যখন মুক্ত হওয়া সময়টুকু বাজেট থেকে বেরিয়ে না গিয়ে সেবাতেই ফিরে আসে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশে স্বয়ংক্রিয় করার মতো কোনো কেয়ার-হোম খাতই নেই—আর এটিই মূল কথা, খবরটি এড়িয়ে যাওয়ার কারণ নয়।

দেশের ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যা বাড়ছে তার জন্য গড়া যেকোনো ব্যবস্থার চেয়ে দ্রুত। এই কাজটি ঐতিহাসিকভাবে যে যৌথ পরিবার শুষে নিত, তা শহরে পাতলা হচ্ছে; অভিবাসন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নিয়ে গেছে বিদেশে বা ঢাকায়; আর হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি কেন্দ্রের বাইরে উল্লেখ করার মতো আবাসিক সেবাব্যবস্থা নেই। ব্রিটেন যে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে একটি রোবট দিয়ে, বাংলাদেশ সেটির উত্তর দিচ্ছে কাউকে না দিয়ে।

রবার্ট আসলে যা করে তা খতিয়ে দেখার মতো, কারণ এটি সঙ্গ দেওয়া নয়—এটি মনে করিয়ে দেওয়া। সময়মতো ওষুধ। কাপড় ধোয়া হয়েছে কি না। আর কথোপকথনের এমন একটি ছোঁয়া, যাতে মনে করানোটা অ্যালার্মের মতো না লাগে। কোনো প্রবীণ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয় ঠিক এই ব্যর্থতাগুলোই: বাদ পড়া একটি ডোজ, না খাওয়া একবেলা, কিংবা পড়ে যাওয়ার খবর ছয় ঘণ্টা কেউ না জানা।

আর মনে করিয়ে দিতে রোবট লাগে না। লাগে নির্ভরযোগ্য একটি তাগাদা, তা মানা হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়ার উপায়, আর না মানলে যিনি জানতে পারবেন এমন কেউ। বাংলাদেশে সেটি স্বজনের একটি ফোন, চাবি আছে এমন প্রতিবেশী, কিংবা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী—এর কোনোটিই প্রযুক্তির সমস্যা নয়, সবই সমন্বয়ের সমস্যা।

তাই বাস্তব বাংলাদেশি সংস্করণটি লুইশামের কোনো যন্ত্র নয়। এটি অনেক কম চমকপ্রদ আর অনেক বেশি কাজের কিছু: প্রতিদিনের এমন একটি খোঁজ, যার জন্য কেউ একজন দায়বদ্ধ। যেসব পরিবার এটি এমনিতেই অনানুষ্ঠানিকভাবে করে, তাদের কারণেই সমস্যাটি অদৃশ্য। যারা করে না, তাদের ক্ষেত্রেই তা দেখা দেয়—দেরিতে, জরুরি বিভাগে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tanmay Das

টেক বিডিতে বিজ্ঞান, মহাকাশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে লেখেন তন্ময় দাস — গবেষণার ফল, মহাকাশ অভিযান আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের খবর। কোনো গবেষণা আসলে কী মেপেছে, তিনি তা-ই পড়েন; আর লেখেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য নয়, ঢাকার পাঠকের জন্য তার মানে কী—তা নিয়ে।