সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফান্ডেডনেক্সট পেয়েছে ‘বেস্ট ফিনটেক ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’, যা দিয়েছে এন্টারপ্রেনিউর মিডল ইস্ট—যুক্তরাষ্ট্রের এন্টারপ্রেনিউর ম্যাগাজিনের দুবাইভিত্তিক আঞ্চলিক ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা এ অঞ্চলের ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের খবর প্রকাশ করে।
পুরস্কারটি
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ের আল হাবতুর প্যালেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ; সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রোডাক্ট অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার ডানা ম্যাসি ও চিফ লিগ্যাল অফিসার আনাক্লদিয়া ফিলাদোরো।
জায়েদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বহু দক্ষ ট্রেডার থাকলেও সঠিক মূলধনের অভাবে তাঁরা নিজেদের কৌশল কাজে লাগাতে পারেন না। সেই আর্থিক ব্যবধান ঘোচাতেই ফান্ডেডনেক্সটের জন্ম।’
২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা ফান্ডেডনেক্সট নেক্সট ভেঞ্চারসের ফ্ল্যাগশিপ পণ্য। এখন তাদের সেবা ১৭০টির বেশি দেশে বিস্তৃত। নেক্সট ভেঞ্চারসের অধীনে এফএনমার্কেটস নামের একটি নিয়ন্ত্রিত ব্রোকারেজ হাউসও আছে। সদর দপ্তর আমিরাতে, আর আঞ্চলিক কার্যক্রম মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও শ্রীলঙ্কায়—মূল ব্যাক-অফিস হাব হিসেবে ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে এর মানে কী
শেষ তথ্যটিই আসল খবর, আর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সেটিকেই চাপা দেয়।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি-কাজের বড় অংশ আসলে এ আকারেই হয়: কোম্পানি নিবন্ধিত বিদেশে, ব্র্যান্ড বিদেশি, আয় লেখা হয় অন্য মুদ্রায়, আর কাজটি করা মানুষগুলো এখানে। এটি পুরোনো অর্থে আউটসোর্সিং নয়—এঁরা ব্রিফ নেওয়া ঠিকাদার নন। এটি বিদেশি করপোরেট খোলসের ভেতরে একটি বাংলাদেশি পরিচালন-কেন্দ্র।
উদ্যোক্তারা কেন এভাবে গড়েন, তার ভালো কারণ আছে; বিচার না করেই তা বলা দরকার: আন্তর্জাতিক লেনদেনের পথে প্রবেশাধিকার, বৈশ্বিক ক্লায়েন্টদের চেনা নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, আর বাংলাদেশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের ঝক্কি ছাড়াই বিদেশি মুদ্রা রাখা ও সরানোর সক্ষমতা। যে ব্যবসার গ্রাহকেরা একশ দেশ থেকে ডলারে টাকা দেন, তার জন্য ঢাকায় নিবন্ধন সত্যিকারের প্রতিবন্ধকতা।
বাংলাদেশের ক্ষতিটিও সমান স্পষ্ট। কাজ হয় এখানে; স্বীকৃতি মেলে অন্যত্র। পুরস্কারে লেখা থাকে দুবাই। করভিত্তি এখানে নয়, মেধাস্বত্ব এখানে নয়; আর কোম্পানিটি কখনো বিক্রি হলে সেই অর্থও এখানে নয়।
যা এটি বদলাত, তা সাদামাটা ও সুপরিচিত: বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে আন্তর্জাতিক অর্থ গ্রহণ আর প্রতিটি লেনদেনে তর্ক ছাড়াই বিদেশি মুদ্রা রাখা বাস্তবে সম্ভব করা। তার আগপর্যন্ত এ ধরনের প্রতিটি সাফল্যই থেকে যাবে বাংলাদেশি ইঞ্জিনসহ বিদেশি সাফল্য হিসেবে—আর দেশ নিজের কাজের খবর পড়তে থাকবে অন্য কারও পুরস্কারের তাকে।
এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মঞ্চে থাকা আরেক বাংলাদেশি দলের খবর আছে এমআইটিতে স্পেসএক্সের চ্যালেঞ্জ জেতা দুই শিক্ষার্থীর লেখায়।




