প্রযুক্তি বাংলাদেশ

ঢাকায় আজ শুরু এআই বিজনেস সামিট, আর আগ্রহের জায়গা হলো কারা আছেন সেখানে

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬, যার আয়োজক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এআই ঠিক কোথায় কাজে লাগবে, সে বিষয়ে কর্মসূচিটি অস্বাভাবিক রকম সুনির্দিষ্ট।

ঢাকায় আজ শুরু এআই বিজনেস সামিট, আর আগ্রহের জায়গা হলো কারা আছেন সেখানে

ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬। যৌথ আয়োজক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। প্রতিপাদ্য ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’, আর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় যা গড়ার কথা বলছে

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজ দাঁড়িয়ে আছে চারটি স্তম্ভের ওপর—প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো; গবেষণার ফল তত্ত্বে আটকে না রেখে সরাসরি বাজারে ব্যবহারযোগ্য করা; গবেষক, বিনিয়োগকারী ও বাজারের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি; এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে আলাদা কাজ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সামিটটিকে দেখিয়েছেন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব অর্থনীতি এআইকে ঘিরে নতুন করে সাজছে, আর শিল্প-বাণিজ্যে দায়িত্বশীল এআই গ্রহণে মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চারটি স্তম্ভ, তিনটি অধিবেশন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আর ডিসিসিআই ঢাকায় যা সামনে আনছে—স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষা থেকে পোশাক ও ব্যাংকিং খাতে এআই এজেন্ট পর্যন্ত। গ্রাফিক: টেক বিডি।

ব্যবসায়ীদের দিক থেকে বক্তব্য

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বিষয়টি দেখেছেন প্রতিযোগিতার চোখে। তাঁর ভাষ্য, এআই ইতিমধ্যে ব্যবসা, শিল্পোৎপাদন, আর্থিক সেবা ও যোগাযোগে বড় পরিবর্তন এনেছে, আর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে টিকে থাকতে এর ব্যবহার এখন অপরিহার্য। তাঁর চাওয়াগুলো সুনির্দিষ্ট—কার্যকর নীতি ও সহায়তা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন।

সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সতর্কবার্তাটি এসেছে ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসি-র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রাইসুল কবিরের কাছ থেকে। তিনি বলেন, এআইকে কেবল নতুন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি বরং ব্যবসার কাজের ধরন, উৎপাদনশীলতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া বদলে দেওয়ার বড় সুযোগ। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তাঁর পরামর্শ চেনা ক্রমটিকে উল্টে দেয়—আগে নিজেদের প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা চিহ্নিত করুন, তারপর সেখানে এআই কাজে লাগান। কারিগরি সক্ষমতা, দক্ষ জনবল, তথ্যনিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার—চারটিতেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

তিন অধিবেশন, আর আসল পরীক্ষা প্রদর্শনীতে

কর্মসূচিতে আছে তিনটি অধিবেশন—অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ; শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং গবেষণার বাণিজ্যিক প্রয়োগ; এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপটে এআই ও এআই এজেন্টের ব্যবহারিক প্রয়োগ।

পাশাপাশি থাকছে প্রযুক্তি প্রদর্শনী, যেখানে প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তারা এআইনির্ভর পণ্য দেখাবেন। প্রদর্শনী হবে স্বাস্থ্যসেবা, তৈরি পোশাক, উৎপাদন ও ব্যাংকিং খাতে।

এই তালিকাটি একটু থেমে দেখার মতো। তৈরি পোশাক দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত ও সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক নিয়োগদাতা। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবাতেই তথ্যসুরক্ষার প্রশ্ন সবচেয়ে তীক্ষ্ণ। এই চারটিকে প্রদর্শনীর মেঝেতে আনার মানে, আলোচনাকে জাতীয় কৌশলের স্তরে না রেখে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এআই ঠিক কোথায় লাগার কথা।

ঘোষণায় যা নেই

আগাম কোনো অর্থের অঙ্ক, নীতিগত পদক্ষেপ বা চুক্তির ঘোষণা আসেনি। এ পর্যন্ত যা এসেছে, সবই আহ্বান—নীতি-সহায়তার, শিক্ষা সংস্কারের, অবকাঠামোর, আর শিল্প-বিশ্ববিদ্যালয়-প্রযুক্তি খাতের সমন্বয়ের। চাওয়াগুলো যথার্থ, তবে কোনোটিই নিজে থেকে বাস্তবায়িত হয় না।

সামিটের মূল্য বোঝা যাবে তিনটি অধিবেশন ও প্রদর্শনী থেকে কী বেরিয়ে আসে তা দেখে—আর প্রতিষ্ঠানগুলো যে সমস্যাগুলো নিয়ে আসবে, সেগুলো রাইসুল কবিরের বলা প্রকৃত সমস্যা কি না, নাকি কেবল দেখাতে সুবিধাজনক সমস্যা।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।