প্রযুক্তি বাংলাদেশ

মুক্ত পে চালু করল বাংলালিংক, আর যে অংশটি সবচেয়ে দূর পৌঁছায় তাতে স্মার্টফোনই লাগে না

যেকোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত একটি ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বাংলালিংক, সঙ্গে আছে আলাদা মার্চেন্ট অ্যাপ ও বাংলা কিউআর যুক্ত করার পরিকল্পনা। প্রথম তিন মাস টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধে বাড়তি খরচ নেই।

মুক্ত পে চালু করল বাংলালিংক, আর যে অংশটি সবচেয়ে দূর পৌঁছায় তাতে স্মার্টফোনই লাগে না

দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য মুক্ত পে নামের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বাংলালিংক। বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সেবার তালিকাটি পরিচিত—টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল পরিশোধ, যেকোনো অপারেটরের নম্বরে মোবাইল রিচার্জ, আর ব্যাংক হিসাব বা কার্ড থেকে ওয়ালেটে টাকা যোগ করা। অ্যাপের ভেতর থেকেই বাংলালিংকের নিজস্ব সেবার বিলও দেওয়া যাবে।

ঢোকার দুটি পথ, আর দ্বিতীয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে গুগল প্লে ও আইওএস অ্যাপ স্টোরে, আর নিবন্ধনের জন্য লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর। শুধু বাংলালিংক নয়, যেকোনো অপারেটরের গ্রাহক নিবন্ধন করতে পারবেন।

দ্বিতীয় পথটিই বেশি লক্ষ করার মতো। বাংলালিংক গ্রাহকেরা ইন্টারনেট ছাড়াই, সাধারণ ফিচার ফোন থেকে *৫২৫# ডায়াল করে সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

*৫২৫#
ইন্টারনেট ছাড়া সাধারণ ফিচার ফোনে মুক্ত পে চালু করার কোড—উদ্বোধনের যে অংশটি সবচেয়ে দূর পর্যন্ত পৌঁছায়। গ্রাফিক: টেক বিডি।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডিজিটাল আর্থিক সেবার বাইরে থাকা মানুষের হাতেই নির্ভরযোগ্য ডেটা সংযোগসহ স্মার্টফোন থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। যে সেবা কেবল অ্যাপ হিসেবে থাকে, সেটি গ্রাহক নিবন্ধনের আগেই গ্রাহক বাছাই করে ফেলে। ইউএসএসডি কোড তা করে না—সবচেয়ে সস্তা হ্যান্ডসেটে, দুর্বল নেটওয়ার্কে, ডেটা ব্যালান্স ছাড়াই এটি চলে।

সীমাবদ্ধতা হলো, এই পথটি কেবল বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য, অথচ অ্যাপটি সবার জন্য খোলা। অর্থাৎ স্মার্টফোন থাকলে প্ল্যাটফর্মটি অপারেটর-নিরপেক্ষ, না থাকলে অপারেটর-নির্ভর—যেখানে নাগাল বাড়ানোর কথা ভাবলে ঠিক উল্টোটাই হওয়া উচিত ছিল।

মার্চেন্ট, আর কিউআরের প্রশ্ন

আলাদা একটি মার্চেন্ট অ্যাপে ব্যবসায়ীরা নিবন্ধন করে গ্রাহকের পেমেন্ট নিতে পারবেন এবং এক ড্যাশবোর্ড থেকেই সব লেনদেনের হিসাব দেখতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জাতীয় কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা বাংলা কিউআর যুক্ত হলে গ্রাহকেরা বাংলা কিউআর-সমর্থিত যেকোনো দোকানে মুক্ত পে দিয়ে পরিশোধ করতে পারবেন।

এটি এখনো সুবিধা নয়, পরিকল্পনা—আর তালিকার সবচেয়ে ফলদায়ক অংশ এটিই। জাতীয় মানের মাধ্যমে আন্তঃসংযোগই ঠেকায় নতুন ওয়ালেটকে এমন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে ওঠা থেকে, যেখানে গ্রাহককে আলাদা করে টাকা ভরতে হয়।

প্রতিষ্ঠান যা বলছে

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, বাংলালিংক এখন কেবল সংযোগে নয়, গ্রাহকের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও যুক্ত; মুক্ত পে হবে বৃহত্তর ডিজিটাল আর্থিক সেবার ভিত্তি, বিশেষ করে এখনো সেসব সেবার বাইরে থাকা মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য।

চিফ ফিনটেক অফিসার দিমিত্রি কাশতানভ গেছেন নামটির দিকেই—মূল ভাবনা স্বাধীনতা, আর ‘মুক্ত মানে স্বাধীন’। মুক্ত পে-র প্রধান নির্বাহী কে এম জাকারিয়া বলেন, শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল এমন সেবা, যা প্রথম লেনদেন থেকেই দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য এবং সব অপারেটরের গ্রাহক ব্যবহার করতে পারবেন।

যে সংখ্যাটি দেখার, আর যেটি নেই

চালুর পর প্রথম তিন মাস টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধে কোনো বাড়তি খরচ নেই। এরপর কী হবে, সে বিষয়ে কোনো অঙ্ক জানানো হয়নি; লেনদেনের সীমাও প্রকাশ করা হয়নি।

প্রারম্ভিক ছাড় স্বাভাবিক ব্যাপার, আর তা থেকে বোঝার কিছু থাকে সামান্যই। যে বাজারে গ্রাহক ক্যাশ-আউট খরচ দশমিকের দুই ঘর পর্যন্ত মিলিয়ে দেখেন, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হতে যাওয়া খরচের তালিকাই ঠিক করবে এ সপ্তাহে খোলা হিসাবগুলো মুক্ত পে ধরে রাখতে পারবে কি না।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।