বিশ্ব প্রযুক্তি

স্কুলগুলোকে গুগল বলছে, এআই বন্ধ করলে সার্চও বন্ধ হয়ে যাবে

নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় স্কুল ঠিক করতে পারবে শিক্ষার্থীরা গুগলের এআই কতটা ব্যবহার করবে। জটিলতা হলো, এআই পুরোপুরি বন্ধ করলে গুগল সার্চও সরে যাবে—যে ক্রোমবুক ব্যবহার করে কোটি কোটি শিক্ষার্থী।

স্কুলগুলোকে গুগল বলছে, এআই বন্ধ করলে সার্চও বন্ধ হয়ে যাবে

শিক্ষার্থীরা গুগলের এআই সরঞ্জাম কতটা ব্যবহার করতে পারবে, তা স্কুলকে নিয়ন্ত্রণ করতে দিতে নতুন ব্যবস্থা আনছে গুগল। এর সঙ্গে জুড়ে থাকা একটি শর্তই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়—কোনো স্কুল এআই পুরোপুরি বাদ দিলে গুগল সার্চ-এর সুবিধাও হারাবে।

বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায় পরিসর দেখে। গুগলের ক্রোমবুক ব্যবহার করে কোটি কোটি শিক্ষার্থী, কোথাও কোথাও কিন্ডারগার্টেন থেকেই। তাদের অনেকের কাছে স্কুলে কিছু খুঁজে দেখা মানেই গুগল সার্চ।

আসলে বদলাচ্ছে কী

মঙ্গলবার গুগল জানায়, কে-১২ শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টে তাদের এআই-নির্ভর সেবা—জেমিনাই সহকারী ও গুগল সার্চসহ—আগে থেকেই বন্ধ থাকবে, যতক্ষণ না স্কুল কর্তৃপক্ষ ‘স্পষ্টভাবে চালু করে’।

এটি আগস্টের সিদ্ধান্তের উল্টো, যখন গুগল ক্লাসরুমে জেমিনাই আগে থেকেই চালু করে রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের বেশি নিয়ন্ত্রণের দাবির জবাবেই এই পরিবর্তন।

দাবিটি বাস্তব। স্ক্রিনে কাটানো সময় ও এআই ব্যবহারে কড়াকড়ির দাবি উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়—আশঙ্কা, প্রযুক্তিটি শেখার ক্ষমতা ভোঁতা করে দিতে পারে বা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ কয়েকটি বড় স্কুল জেলা এ শিক্ষাবর্ষে বহু বা সব শিক্ষার্থীর জন্য জেনারেটিভ এআই নিষিদ্ধ করেছে।

এআই বন্ধ করলে সার্চও বন্ধ
গুগল বলছে দুটি গভীরভাবে যুক্ত, তাই কোনো স্কুল এআই পুরোপুরি বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের চিরচেনা সার্চ ইঞ্জিনটিও হারাবে। গ্রাফিক: টেক বিডি।

যে বাক্যটি জটিলতা তৈরি করল

গুগলের শিক্ষাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘সার্চ আর এআই গভীরভাবে যুক্ত’, আর যেসব স্কুল এআই নিষিদ্ধ করবে ‘তারা সার্চের সুবিধা পাবে না, এবং স্কুলের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দেখবে যে এটি পাওয়া যাচ্ছে না’।

কারিগরিভাবে দাবিটির ভিত্তি আছে। বছরের পর বছর ধরে গুগল সার্চের কেন্দ্রে এআই বসিয়েছে—ফলাফলের ওপরে এআই ওভারভিউ, দীর্ঘ প্রশ্নের জন্য বড় সার্চ বাক্স। দুটিকে আলাদা করা সহজ নয়।

তবে কারিগরি ব্যাখ্যা আর নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা এক নয়। কার্যত দাঁড়াচ্ছে, এআই এড়ানোর সবচেয়ে সস্তা উপায়টিই সার্চ ইঞ্জিন হারানোর উপায়—আর তাতে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার খরচ দেখানোর চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়।

এরপর অবস্থান কিছুটা নরম হলো

নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করবে জানতে চাইলে গুগল সিএনএনকে দেখিয়ে দেয় সেদিন বিকেলেই এক্সে দেওয়া একটি পোস্ট, যেখানে বলা হয়েছে এই পরিবর্তনে স্কুল পাবে ‘কম নয়, বরং বেশি পছন্দের সুযোগ’, আর জেমিনাই, জেমিনাই নোটবুক ও সার্চ—তিনটিই আলাদাভাবে চালু-বন্ধ করা যাবে।

দুটি বক্তব্য সহজে মেলে না। তিনটি যদি আলাদা করে বন্ধ করা যায়, তবে এআই নিষিদ্ধ করলেই সার্চ যাওয়ার কথা নয়, আর ফিলিপসের সতর্কবার্তাটিও খাটে না। আর সত্যিই যদি আলাদা করা না যায়, তবে এক্সের পোস্টটি এমন সুযোগের কথা বলছে যা নেই।

গুগলের ব্লগ পোস্ট এর নিষ্পত্তি করে না। নিয়ন্ত্রণ কীভাবে কাজ করবে বা এআই বন্ধ থাকা স্কুল থেকে সার্চ করতে গেলে শিক্ষার্থী কী দেখবে—কোনোটিরই বিস্তারিত সেখানে নেই; বলা হয়েছে, পরিবর্তন চালুর আগে ‘আগামী মাসগুলোতে স্কুলগুলোকে আরও বিস্তারিত জানানো হবে’।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কেন গুরুত্বপূর্ণ

ক্রোমবুক আর গুগল ওয়ার্কস্পেস ফর এডুকেশন কেবল আমেরিকার ব্যাপার নয়, আর একই ডিফল্ট সেগুলোর সঙ্গেই যাবে। শ্রেণিকক্ষে এআই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসা যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থাকে এখন দ্বিতীয় একটি প্রশ্নও করতে হবে—অনুমতি দেব কি না, শুধু তা নয়; সুইচটির সঙ্গে আর কী বাঁধা আছে।

পণ্য একসঙ্গে বেঁধে বিক্রি করা পুরোনো বাণিজ্যিক চর্চা, যার নিয়ন্ত্রক ইতিহাসও দীর্ঘ। নতুন যেটি, তা হলো এই বাঁধন দেখা যাচ্ছে এমন একটি সরঞ্জামে, যাকে স্কুল মৌলিক অবকাঠামো হিসেবেই ধরে—আর যার শর্ত এখনো প্রকাশিত নয়।

সূত্র: সিএনএন

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।