কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু নিয়ম উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রযোজ্য হবে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর বাইরে এনআইতে এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি থাকবে যুক্তরাজ্য সরকার ও স্টরমন্টের হাতেই।
পরিধিটি ইচ্ছাকৃতভাবেই সংকীর্ণ। ইইউর নিয়ম খাটবে কেবল এআই ব্যবস্থা যুক্ত আছে এমন ভৌত পণ্যের ক্ষেত্রে।
কেন উত্তর আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যের আর কোথাও নয়
এর কাঠামো উইন্ডসর ফ্রেমওয়ার্ক—ব্রেক্সিট সমঝোতা, যা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে পণ্যের ক্ষেত্রে ইইউর একক বাজারের ভেতরে রেখেছে। পণ্যের বাজারে এনআই থেকে যাওয়ায় ইইউর পণ্যবিষয়ক নিয়ম সেখানে পণ্যের সঙ্গেই যায়—আর পণ্যের ভেতরে বসানো এআই ব্যবস্থাকে ধরা হয় পণ্যেরই অংশ হিসেবে।
ইইউর এআই আইন পাস হয় ২০২৪ সালে। ২০২৫ সালে ইউরোপীয় কমিশন প্রস্তাব করে, পণ্যসংক্রান্ত অংশগুলো এনআইতে প্রযোজ্য হোক; তখন থেকেই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সপ্তাহের ঘোষণা সেই আলোচনারই ফল, নতুন কোনো নীতি নয়।

সরকারের নিজের ভাষা, যা অস্বাভাবিক রকম স্পষ্ট
সরকার সীমারেখাটি টেনেছে তিনটি বাক্যে, যেগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার মতো।
‘ইইউর এআই আইন এনআইতে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন কোনো এআই ব্যবস্থা এনআই বাজারে আসা কোনো বাস্তব ভৌত পণ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে।’
‘কোনো এনআই প্রতিষ্ঠান কেবল কাজ সামলাতে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে বা ব্যবসায়িক কাজ চালাতে অনলাইন বা ডাউনলোডযোগ্য এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করলে সেটি এর আওতায় পড়বে না।’
‘এনআইতে সেসব সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে সেগুলোর নির্মাতাদের ওপরও কোনো বাধ্যবাধকতা আসবে না, যদি না এআই এনআই বাজারে আসা কোনো ভৌত পণ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে।’
বাস্তবে এর মানে কী
বেলফাস্টের কোনো প্রতিষ্ঠান এআই দিয়ে হিসাব রাখলে, চ্যাটবট দিয়ে খসড়া লিখলে বা মডেল দিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করলে তা আওতার বাইরে। সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেই সেই সরঞ্জামের নির্মাতাও আওতায় আসবেন না।
কিন্তু এনআই বাজারে এমন পণ্য ছাড়লে, যার সঙ্গে এআই ব্যবস্থা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, সেই নির্মাতা আওতায় পড়বেন। পার্থক্যটি এআই কতটা উন্নত বা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা নয়—পার্থক্যটি হলো, সেটি এমন কিছুর ভেতরে এসেছে কি না যা টেবিলে রাখা যায়।
মূল কাজটি করছে ‘ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত’ কথাটি। এ ধরনের ভাষা প্রান্তে স্পষ্ট, মাঝখানে বিতর্কিত—আর আধুনিক বহু যন্ত্রের বাস সেই মাঝখানেই: গৃহস্থালি যন্ত্র, গাড়ি, চিকিৎসা-সরঞ্জাম, শিল্পযন্ত্র, সঙ্গে অ্যাপ ও পেছনে মডেল আছে এমন সবকিছু।
বড় প্রসঙ্গ
ছোট ঘোষণা, কিন্তু বড় একটি বিষয় দেখায়: এআই নিয়ন্ত্রণ আসছে আলাদা এআই আইনের বদলে পণ্য-আইনের পথ ধরে। আর কোনটি বাজারে ছাড়া হলো, তা ঠিক করার পুরোনো যন্ত্রপাতি পণ্য-আইনের আছেই।
ইইউর একক বাজারে রপ্তানি করেন এমন যেকোনো নির্মাতার কাছে সেই যন্ত্রপাতি পরিচিত, আর এআই আইনকে তার পাশে নতুন করে না গড়ে ওর সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ধাক্কা প্রথমে লাগবে শিরোনামে থাকা মডেল-নির্মাতাদের নয়, বরং যাঁরা যন্ত্রে একটি চিপ আর একটি মডেল বসিয়ে পণ্যটি পাঠিয়ে দেন, তাঁদের।
বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য
সরাসরি প্রভাব এখনই নেই, তবে নজির তৈরি হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে যে পণ্যই যাক—পোশাক থেকে ইলেকট্রনিকস—তার সঙ্গে এআই যুক্ত থাকলে সেটিকে পণ্য-আইনের আওতায় দেখা হবে, আলাদা কোনো প্রযুক্তি-আইনে নয়।
অর্থাৎ যাচাই, নথিপত্র ও সম্মতির যে প্রক্রিয়া রপ্তানিকারকেরা ইতিমধ্যে চেনেন, এআই-সংক্রান্ত শর্তও সেই একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে। নতুন দপ্তরে নয়, পুরোনো ফাইলেই।




