বিশ্ব প্রযুক্তি

নতুন এক স্নাতক এখন সামলান প্রায় ত্রিশটি এআই এজেন্ট, প্রশ্ন হলো তিনি কী শিখছেন না

স্নাতকদের চাকরি কমার জন্য এআইকে দায়ী করা হয়, আবার এআই নতুন ধরনের প্রথম চাকরিও তৈরি করছে—কাজটি নিজে না করে এজেন্টদের দিয়ে করানো ও যাচাই করা। প্রশ্ন হলো, যাঁরা সেখান থেকে শুরু করছেন তাঁদের কী হবে।

নতুন এক স্নাতক এখন সামলান প্রায় ত্রিশটি এআই এজেন্ট, প্রশ্ন হলো তিনি কী শিখছেন না

লটি আন্ডারউড একজন জনসংযোগ নির্বাহী, যিনি জনসংযোগের কাজ করার চেয়ে বেশি সময় কাটান এআই ব্যবহার করে। বয়স ২৫, বিপণনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে গত নভেম্বরে যোগ দিয়েছেন লন্ডনের প্রতিষ্ঠান ফাইট অর ফ্লাইটে, আর তাঁর পদবি ‘এআই অ্যাসোসিয়েট’।

তিনি আছেন একটি আলাদা এআই দলে, যারা বানিয়েছে প্রায় ৩০টি এআই এজেন্ট। সেগুলো করে খাতভিত্তিক গবেষণা, ক্লায়েন্ট প্রতিবেদন, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, ক্লায়েন্টদের স্পষ্ট ব্রিফ লিখতে সহায়তা আর ছবি তৈরি।

তাঁর কাজ এই এজেন্টগুলো সামলানো, সেগুলোর তৈরি জিনিস যাচাই করা, আর ফল পৌঁছে দেওয়া সেই সহকর্মীদের কাছে, যাঁরা সরাসরি ক্লায়েন্ট ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করেন। আরেকটি দায়িত্ব—চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাইসহ নানা সরঞ্জামের উত্তরে ক্লায়েন্টরা কীভাবে আসছেন, তা নজরে রাখা। তিন বছর আগেও এমন কোনো কাজ ছিল না।

তাঁর ভাষায়, ‘বড় একটি অংশ হলো ক্লায়েন্ট বৈঠক ও কলে থেকে বুঝে নেওয়া, এই এজেন্টগুলোর কাছ থেকে আসলে কোন জিনিসটা সবচেয়ে কাজে লাগবে।’

সামলাতে হয় ৩০টি এজেন্ট
জনসংযোগের কাজ না করে ২৫ বছর বয়সী এক স্নাতক যা সামলান—গবেষণা, প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, ব্রিফ আর ছবি তৈরি। গ্রাফিক: টেক বিডি।

দুটি কথাই একসঙ্গে সত্য

স্নাতক নিয়োগ কমার জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয় এআইকে। আবার একই সময়ে এআই এমন স্নাতক-পদও তৈরি করছে, যেগুলো নির্দিষ্টভাবে এআই নিয়েই—আন্ডারউডের পদটি তারই একটি।

এই দুটি তথ্য সাধারণত আলাদা আলাদা করে আসে, বিপরীত পক্ষ নেওয়া মানুষের হাত ধরে। দুটিকে একসঙ্গে রাখলে ছবিটি বেশি নির্ভুল হয়—প্রবেশস্তরের চাকরির সংখ্যা চাপে আছে, আর যেগুলো টিকে আছে সেগুলোর ধরন বদলে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় উদাহরণ দিলান প্যাটেল। ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক এই তরুণ দেড় বছর আগে প্রকৌশল সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইডে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিয়ে কাজ পান একটি অভ্যন্তরীণ চ্যাটবট বানানোর, যার উদ্দেশ্য ছিল অবসরে যেতে থাকা এক জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর জ্ঞান ধরে রাখা।

দায়িত্বটি অনেক কিছু বলে দেয়। কাজ ছিল একজন মানুষের কয়েক দশকে জমা বিচারবোধ বের করে এনে এমন জায়গায় রাখা, যেখান থেকে প্রশ্ন করে জানা যাবে—আর সেই কাজ দেওয়া হলো এমন একজনকে, যিনি অফিসে এসেছেন সপ্তাহ কয়েক আগে।

আসল প্রশ্নটি

দুশ্চিন্তা এই নয় যে চাকরিগুলো খারাপ। বরং বেশির ভাগ মাপকাঠিতেই ভালো—দৃশ্যমান, কৌশলগত, ক্লায়েন্টের কাছাকাছি, আর ফটোকপি ও পত্রিকা কাটার সেই পুরোনো ধরনের প্রথম জনসংযোগ-চাকরির চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

দুশ্চিন্তা হলো, বাদ পড়ছে কী। চিরাচরিত প্রথম চাকরি আসলে কম গুরুত্বের কাজের ছদ্মবেশে শিক্ষানবিশি। আপনি নীরস বিজ্ঞপ্তিটি লেখেন, আর পঞ্চাশটি লিখতে লিখতে শেখেন খবর জিনিসটা কী। সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিতে বসে থেকে শেখেন সাংবাদিক আসলে কী জিজ্ঞাসা করেন।

এজেন্ট যদি পঞ্চাশটি বিজ্ঞপ্তি লেখে আর স্নাতক সেগুলো যাচাই করেন, ফল হয়তো ভালোই হবে। কিন্তু যাচাই করতে যে বিচারবোধ লাগে, পঞ্চাশটি বিজ্ঞপ্তি লিখেই তা তৈরি হতো। দক্ষতাটি চাওয়া হচ্ছে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে আগে সেটি অর্জিত হতো।

এখানে এর মানে কী

আউটসোর্সিং, বিপণন ও সফটওয়্যার সেবায় ঢোকা বাংলাদেশি স্নাতকদের জন্য—যেখানে প্রবেশস্তরের বিপুল কাজই ঠিক সেই ধরনের, যা এখন এজেন্ট করতে পারে—এটি দূরের কোনো বিতর্ক নয়। যে পদগুলো টিকবে, সেগুলোতে কাউকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফলটি ঠিক হলো কি না।

তাতে কাজ তৈরি করার ক্ষমতার চেয়ে কাজ বিচার করার ক্ষমতা বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে। আবার সেটি অর্জন করাও কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ সেই বিচারবোধে পৌঁছানোর চেনা পথটি ছিল আগে কাজটি নিজে করা।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।