বিশ্ব প্রযুক্তি

তিন বছরের শিশুর জন্য বিক্রি হওয়া এআই টেডি নিজে থেকেই বলল, ‘তোমাকে মারতে আমি সাহায্য করতে পারব না’

শিশু কীভাবে জন্মায় জানতে চাওয়ার সময় কথাটি বলে খেলনাটি। ব্ল্যাক ফ্রাইডের আগে এআই খেলনা তুলে নিতে বলছেন এমপি ও পিয়াররা, আর নিয়মের দাবি তুলছেন এআই খেলনা নির্মাতা নিজেই।

তিন বছরের শিশুর জন্য বিক্রি হওয়া এআই টেডি নিজে থেকেই বলল, ‘তোমাকে মারতে আমি সাহায্য করতে পারব না’

তিন বছরের শিশুর জন্যও ‘উপযুক্ত’ বলে বিক্রি হওয়া একটি এআই টেডি বিয়ার বলেছে, ‘তোমাকে মারতে আমি সাহায্য করতে পারব না’—কেউ না চাইতেই, আর প্রশ্নটি ভুল শুনে।

কথাটি এসেছে এআই খেলনা নিয়ে বিবিসির এক অনুসন্ধানের সময়। দোবাও নামের টেডিটি এ কথা বলে, যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল শিশু কীভাবে জন্মায়।

এই ক্রমটি যা বলে দেয়

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ভুল শোনা। মারা নিয়ে কেউ খেলনাটিকে কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। জন্ম নিয়ে একটি প্রশ্ন ভুলভাবে শনাক্ত হয়েছে, আর ব্যবস্থাটি যা শুনেছে বলে ধরে নিয়েছে, তার উত্তরে এসেছে মারায় সাহায্য করতে অস্বীকৃতি।

এটি সুনির্দিষ্ট ও শিক্ষণীয় এক ব্যর্থতা। অস্বীকৃতিটি আসলে নিরাপত্তাব্যবস্থার কাজ করারই প্রমাণ—ক্ষতিকর অনুরোধে মডেলের না বলা। গোলমাল হয়েছে তার আগে: খেলনাটি এমন কিছু শুনেছে যা বলাই হয়নি, আর তারপর সেই অস্বীকৃতি উচ্চ স্বরে শুনিয়েছে এমন এক শিশুকে, যে সাধারণ একটি প্রশ্ন করেছিল।

কল্পিত অনুরোধে চালু হয়ে যাওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা শিশুর ঘরে নিরাপদ নয়। সেটি এমন এক যন্ত্র, যে ‘শিশু’ শব্দটি তালগোল পাকিয়ে তিন বছরের একজনকে ‘মারা’ শব্দটি শোনায়।

‘তোমাকে মারতে আমি সাহায্য করতে পারব না’
তিন বছরের শিশুর জন্যও উপযুক্ত বলে বিক্রি হওয়া এক টেডি বিয়ারের না-চাইতেই বলা কথা, প্রশ্নটি ভুল শোনার পর। গ্রাফিক: টেক বিডি।

নির্মাতাকে কেউ জিজ্ঞাসাই করতে পারেনি

দোবাওয়ের নির্মাতাদের খুঁজে বের করতে বিবিসি বারবার চেষ্টা করেও পারেনি, তাই টেডিটি কেন এ কথা বলল তা জানতে চাওয়া যায়নি।

যুক্তি বলে, এটিই বেশি গুরুতর আবিষ্কার। ব্রিটিশ ঘরে বিক্রি হওয়া একটি খেলনা, সঙ্গে মাইক্রোফোন ও ভাষা মডেল, অথচ তার আচরণ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো নাগালে কোনো নির্মাতা নেই। সংশোধনী দেওয়ার কেউ নেই, ফিরিয়ে নেওয়ার কেউ নেই, আর পরেরবার সে কী বলবে তার জন্য দায়ী কেউ নেই।

খাতটি নিজেই নিয়ন্ত্রণ চাইছে

নিয়মের দাবি কেবল প্রচারকর্মীদের কাছ থেকে আসছে না। নিজেই এআই খেলনার প্রতিষ্ঠান গড়া পল ক্লার্ক বলেছেন, খাতটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘আকুল হয়ে আছে’—একই দাবি তুলেছেন ওয়েলসের শিশুবিষয়ক কমিশনারও।

নির্মাতারা যখন নিয়ন্ত্রণ চান, তার অর্থ সাধারণত একটিই: দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান সেসবের সঙ্গে পেরে ওঠে না যারা নিরাপত্তায় ফাঁকি দেয়, আর একটি মানদণ্ড সেই ফাঁকি ঠেকাত। কথাটি স্বার্থপ্রণোদিত, আবার সঠিকও।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে ও বড়দিনের আগে এআই খেলনা বিক্রি থেকে তুলে নিতে খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এমপি ও পিয়াররা। যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা সব সময়ই অগ্রাধিকার পাবে, আর তারা উদ্ভাবনকে সমর্থন করে পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই—এমন এক বাক্য, যা সুনির্দিষ্ট কিছুরই প্রতিশ্রুতি দেয় না।

বাংলাদেশেও এটি কেন প্রাসঙ্গিক

এ ধরনের পণ্য এ দেশে আসে আমদানিকারক ও অনলাইন বাজারের হাত ধরে, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্য দিয়ে নয়—আর প্রায়ই পশ্চিমা সংবাদচক্র সমস্যাটি সামনে আনার পর। ব্রিটেনে যে খেলনার নির্মাতাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ঢাকা থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।

যেকোনো অভিভাবকের জন্য বাস্তব পরীক্ষাটি সহজ, কারিগরি জ্ঞান লাগে না—খেলনাটিতে মাইক্রোফোন আছে কি, সে যা শোনে তা কোনো সার্ভারে পাঠায় কি, আর এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান আছে কি যার সঙ্গে সত্যিই যোগাযোগ করা যায়? প্রথম দুটির উত্তর হ্যাঁ আর তৃতীয়টির না হলে বুঝতে হবে, খেলনাটি আপনার শিশুকে উত্তর দিচ্ছে—আর সেই উত্তরের পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে নেই।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।