যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে অনুষ্ঠিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়েছেন ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও মো. তানভীর ইবনে আলম।
তাঁরা যা বানিয়েছেন
তাঁদের প্রকল্প স্কুটারিস সেরা দুটি প্রকল্পের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তাঁরা পাচ্ছেন স্পেসএক্সের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ।
আশরাফুল ইসলাম বলছেন, স্কুটারিস একটি এআইচালিত অরবিটাল সেফটি প্ল্যাটফর্ম। এটি পৃথিবীর চারপাশে থাকা স্যাটেলাইট ও মহাকাশ-বর্জ্যের সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে বের করে এবং গুরুত্বপূর্ণগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরে। এতে ব্যবহার হয়েছে সেলেসট্র্যাক থেকে নেওয়া ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ঝুঁকিগুলো খুঁজে বের করে; এরপর স্পেসএক্সএআইয়ের গ্রোক পাঁচ ধাপে তা বিশ্লেষণ করে, সম্ভাব্য করণীয় জানায়, নিরাপত্তার দিকগুলো যাচাই করে ভিজ্যুয়াল প্রতিবেদন তৈরি করে। ত্রিমাত্রিক পৃথিবীতে দেখা যায় স্যাটেলাইটের অবস্থান, কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব ও ঝুঁকির মাত্রা।
১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হ্যাকএমআইটিতে অংশ নেন ৩৬ দেশের ১ হাজার ১০০-র বেশি শিক্ষার্থী। চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল স্পেসএক্স, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই ও এনভিডিয়া। তানভীর বলেন, "আমরা স্পেসএক্সএআইয়ের দেওয়া চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছিলাম।" নির্দেশনা ছিল আইডিই হিসেবে কার্সর, ছবির জন্য গ্রোক ইমাজিন, পরিকল্পনার জন্য গ্রোক বট আর মহাকাশের বাস্তব তথ্য ব্যবহার করা।
আশরাফুল কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও এআই ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা করেছেন; তানভীর ট্রুম্যানের ইমার্জিং ইনোভেটর রিসার্চ প্রোগ্রামে নির্বাচিত হয়েছেন এবং নাসার কেপলার ও টেস মিশনের তথ্য দিয়ে ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে কাজ করছেন।
বাংলাদেশে এর মানে কী
এ খবরের সহজ পাঠটি জাতীয় গর্ব, আর তা প্রাপ্যও। বেশি কাজের পাঠটি হলো—এই জয় আসলে কী দেখিয়ে দিল।
স্কুটারিস মহাকাশের যন্ত্রপাতিতে বিশেষ প্রবেশাধিকার নিয়ে বানানো হয়নি। এটি বানানো হয়েছে উন্মুক্ত তথ্য দিয়ে—সেলেসট্র্যাক যে কারও জন্যই কক্ষপথের উপাত্ত প্রকাশ করে—সঙ্গে সাধারণ সার্চ প্রযুক্তি আর একটি বাণিজ্যিক মডেল, দুই দিনে। এটি একটি ছক, আর ঢাকার কোনো শিক্ষার্থীর জন্য তা আজ রাতেই খোলা। দুর্লভ উপাদানটি টাকা বা যন্ত্র ছিল না। ছিল উপাত্তভান্ডারটির অস্তিত্ব জানা, আর নামার সাহস।
দ্বিতীয় কথাটি অস্বস্তিকর, তবু স্পষ্ট করে বলা দরকার। দুই বিজয়ীই পড়ছেন মিজৌরিতে। এই মানের শিক্ষার্থী বাংলাদেশ নিয়মিতই তৈরি করে; যা নির্ভরযোগ্যভাবে তৈরি করে না, তা হলো এমন পরিবেশ—যেখানে সপ্তাহান্তের একটি প্রকল্প স্পেসএক্সের প্রকৌশলীদের বিচারে পড়ে। এ দেশে হ্যাকাথন যথেষ্টই হয়, কিন্তু খুব কমটিতেই থাকে সত্যিকারের শিল্প-চ্যালেঞ্জ, পেশাজীবীদের সামনে লাইভ ডেমো, আর নগদ নয়—সুযোগ আকারে পুরস্কার।
এই ফাঁক পূরণযোগ্য, আর সস্তাও। হ্যাকাথনের মূল্য চ্যালেঞ্জের মান আর ফলাফল কে পড়ছে তাতে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এই ফল চায়, তাদের পরিশ্রম যাওয়া উচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমস্যা ঠিক করানো ও বিচারকের আসনে বসানোয়—মিলনায়তনে নয়।
এ মাসেই একই ধরনের মঞ্চে গেছে আরেকটি বাংলাদেশি দল—দেখুন দক্ষিণ কোরিয়ায় অগ্নিনির্বাপক রোবট নিয়ে যাওয়া আট শিক্ষার্থীর খবর।




