নিজেদের রোবোটিকসের অলিম্পিক বলা কিশোর-তরুণদের প্রতিযোগিতা ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়নে, আর মাঠে থাকা ১৯০ দেশের একটি বাংলাদেশ। ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকায় দ্য টেক একাডেমির কার্যালয়ে—যে প্রতিষ্ঠান জাতীয় দল বাছাই, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করে—"টিম বাংলাদেশ: রোড টু এফজিসি ২০২৬ সাউথ কোরিয়া" আয়োজনে টিম বাংলাদেশের আট শিক্ষার্থী নিজেদের রোবটের সক্ষমতা দেখালেন।
কাজ: দাবানল
প্রতিবছর এফজিসি একটি বৈশ্বিক সমস্যাকে খেলা বানায়। এবারের প্রতিপাদ্য "ইগনাইটিং ইনোভেশন: ফোকাসিং অন ওয়াইল্ডফায়ার প্রিভেনশন, মিটিগেশন অ্যান্ড রিকভারি", আর মাঠ সাজানো এমনভাবে যে রোবট পয়েন্ট পায় কৃত্রিম আগুনের সঙ্গে লড়ে। টিম বাংলাদেশ এর জন্য বানিয়েছে তিনটি "শুটার রোবট": দূর থেকে আগুনে কার্বন ডাই-অক্সাইডভরা বল ছুড়তে পারে, দরকারে পাইপ বেয়ে উঠতে পারে—যাতে ভেতরে না ঢুকেই আগুন নেভানো যায়। রোবটগুলো এফজিসির স্ট্যান্ডার্ড কিটে তৈরি, যা প্রতিটি দেশ পায়; তাই দলের পার্থক্য বাজেটে নয়, নকশা, প্রোগ্রামিং আর চালানোয়।
যাচ্ছেন যাঁরা
দলের সদস্য মাহরুজ মোহাম্মদ, মো. মুহতাসাম মুশাররফ, মো. ইশমাম শাহরুজ চৌধুরী, সুহানা মান্নান, নূরাজ হোসেন, সারিম আহমেদ, নুজহাত জাহান ও সন্দীপন কুণ্ডু; মেন্টর রায়হান আহমেদ, সিফাত সামিয়া ইসলাম, মুহাম্মদ আহসান, ফায়েজ আলম ও তাহা কাইজার দিসাওয়ালা। গোল্ড স্পনসর মিডল্যান্ড ব্যাংক। "ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ সাধারণ কোনো রোবোটিকস প্রতিযোগিতা নয়," বললেন প্রধান মেন্টর মোহাম্মদ শামস জাবের। "এটি ১৯০ দেশের রোবোটিকস শিক্ষার্থী ও মেন্টরদের মিলনমেলা—আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা, নতুন করে শেখা আর প্রায় সব দেশের মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ।"
এফজিসি যেভাবে চলে
বেশির ভাগ প্রতিযোগিতার মতো নয়, এফজিসি প্রতিটি ম্যাচে দেশগুলোকে এলোমেলো জোটে জোড়ে; তাই বাংলাদেশের রোবট এক রাউন্ডে ব্রাজিলের সঙ্গে, পরেরটিতে ভুটানের সঙ্গে কাজ করতে পারে। পয়েন্ট আসে খেলার কাজ থেকে, কিন্তু পদক যায় সহযোগিতা, প্রকৌশলের নথি আর প্রচারেও—সে কারণেই জাতীয় দলের বিচার হয় রোবটের স্কোরের মতোই অচেনাদের সঙ্গে কাজ করার সামর্থ্যে। প্রতিযোগিতার শুরু ২০১৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে, যেখানে বাংলাদেশ ছিল, আর এরপর প্রতিবছর দেশ দল পাঠিয়েছে; একই সপ্তাহে বিবিসি খবর দিয়েছে ইংল্যান্ডের ফোকস্টোনের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের দলের, যারা একই ইনচিয়ন ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এখানে কেন গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক রোবোটিকসে বাংলাদেশের রেকর্ড বাড়ছে—২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের ব্রোঞ্জ থেকে ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয় দল। এফজিসি ধরনে আলাদা: মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, একই কিট, আর এমন এক সমস্যা—দাবানল—যা দেশের নেই কিন্তু অর্ধেক প্রতিদ্বন্দ্বীর আছে। বিষয়টা ট্রফি নয়। বিষয় আট কিশোর-কিশোরী, যাঁরা ১৮৯ দেশের সমবয়সীদের পাশে একটি যন্ত্র বানিয়ে, ত্রুটি সারিয়ে, চালিয়ে ঘরে ফিরবেন—আর একটি জাতীয় কর্মসূচি, যা এখন প্রতিবছর চলে।




