প্রযুক্তি

জ্যামিতির দুটি উপপাদ্য প্রমাণ করল কোয়ান্টাম কম্পিউটার: কেন এটা শোনার চেয়ে বড়, আর কী নয়

ঝেজিয়াং ও সিংহুয়ার গবেষকেরা ১২১ কিউবিটের প্রসেসরে উ-র ১৯৭৮ সালের পদ্ধতি চালিয়ে দুটি সঠিক প্রমাণ পেলেন—কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যারে প্রথম স্বয়ংক্রিয় যুক্তিপ্রমাণ। সাধারণ ল্যাপটপ তা দ্রুত পারে; কথা সেটা নয়।

জ্যামিতির দুটি উপপাদ্য প্রমাণ করল কোয়ান্টাম কম্পিউটার: কেন এটা শোনার চেয়ে বড়, আর কী নয়

ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় ও সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল বলছে, তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সমতল জ্যামিতির দুটি উপপাদ্য প্রমাণ করেছে—কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যারে স্বয়ংক্রিয় গাণিতিক যুক্তিপ্রমাণের এটিই প্রথম ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রোগ্রামযোগ্য ১২১ কিউবিটের সুপারকন্ডাক্টিং প্রসেসরটি মানুষের দেওয়া উত্তর যাচাই করেনি, প্রমাণের যুক্তিটা নিজেই করেছে—গবেষকদের প্রবন্ধ অনুযায়ী, যা এ সপ্তাহান্তে জানিয়েছে সায়েন্স অ্যালার্ট ও প্রথম আলো।

কী প্রমাণ হলো

প্রথম উপপাদ্যটি নবম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর চেনা: বর্গক্ষেত্রের কর্ণদ্বয় পরস্পর লম্ব। দ্বিতীয়টি কঠিন—পরস্পরছেদী ত্রিভুজ ও বৃত্ত নিয়ে এমন এক বিবৃতি, যা দাঁড় করাতে কয়েক লাইন বীজগণিত লাগে। প্রথমটির জন্য দলটি ব্যবহার করে উ-র পদ্ধতির হাইব্রিড, কোয়ান্টাম-প্লাস-ক্লাসিক্যাল রূপ; দ্বিতীয়টির জন্য "সিম্বলিক প্রুফ সার্চ" নামের কৌশল। প্রবন্ধের সারকথা: "মূল বিষয় এটা নয় যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দ্রুত উত্তর পেয়েছে—সাধারণ কম্পিউটারও তা পারে। মূল বিষয়, এমন জটিল যৌক্তিক নিষ্কাশন কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।"

"৪৮ বছর" কেন

শিরোনামের সংখ্যাটি উ-র পদ্ধতির—১৯৭৮ সালে চীনা গণিতবিদ উ ওয়েনজুনের প্রকাশিত। এটি জ্যামিতির বিবৃতিকে বহুপদী সমীকরণের সেটে বদলায়, তারপর বীজগণিতে দেখায় যে অনুমান থেকে সিদ্ধান্ত আসে। কম্পিউটারকে জ্যামিতির উপপাদ্য প্রমাণ করানোর এটিই প্রথম ব্যবহারিক উপায়; আশির দশকে শত শত যান্ত্রিক প্রমাণ দিয়েছে; আর কুখ্যাতভাবে ব্যয়বহুল—বহুপদীগুলো আকারে ফুলে ওঠে। নতুন কাজ পদ্ধতিটিকে এমনভাবে বদলায়, যাতে বীজগণিতের একটি অংশ কোয়ান্টাম প্রসেসর সামলায়। সমস্যাটি ৪৮ বছরের পুরোনো; অর্জন তার সমাধান কিউবিটে চালানো।

যা নয়

  • গতির রেকর্ড নয়। ল্যাপটপ দুটি উপপাদ্যই মিলিসেকেন্ডে প্রমাণ করে। প্রবন্ধ "কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ" দাবি করে না।
  • এনক্রিপশনের হুমকি নয়। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পেছনের আরএসএ চাবি ভাঙতে লাগে শোরের অ্যালগরিদম চালানো লাখ লাখ ত্রুটি-সংশোধিত কিউবিট; বর্গক্ষেত্রের কর্ণ সমকোণে কাটে তা প্রমাণ করা ১২১টি শব্দময় কিউবিট ভিন্ন জগৎ। বিকাশ নিরাপদ।
  • "এআই" নয়। কোনো ভাষা মডেল জড়িত নেই। এটি সিম্বলিক যুক্তি—পুরোনো, নির্ভুল ধরনের—নতুন ধরনের চিপে।

তবু কেন গুরুত্বপূর্ণ

কোয়ান্টাম কম্পিউটার এ পর্যন্ত একটি কাজে ভালো—পদার্থবিদ্যার অনুকরণ—আর ক্ষেত্রটির খোলা প্রশ্ন, তারা আদৌ কাঠামোবদ্ধ, যৌক্তিক কাজ পারে কি না। প্রমাণ সবচেয়ে কঠোর পরীক্ষা: প্রতিটি ধাপ সঠিক না হলে ফল মূল্যহীন। ১২১ কিউবিটের শব্দময় যন্ত্রে দুটি প্রমাণ পার করানো এই ধারণার প্রমাণ যে কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যার যুক্তির শৃঙ্খল বইতে পারে—যা কাজের জিনিসগুলোর পূর্বশর্ত: চিপের নকশা যাচাই থেকে সেই এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা পরীক্ষা, যা নিয়ে এ সপ্তাহে বাকি সবাই তর্ক করছিল। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য, যেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আছে শুধু কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে, এটি মনে করিয়ে দেয়: ক্ষেত্রটি এখনই সংজ্ঞায়িত হচ্ছে, এমন মানুষের হাতে যাঁরা জ্যামিতি শিখেছিলেন একইভাবে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।