প্রযুক্তি

"এআই ফোর্স", এআই জার আর বেইজিংয়ের সঙ্গে হটলাইন: যে সপ্তাহে ওয়াশিংটন ঠিক করল চীনের সঙ্গে দৌড়টা কেমন হবে

এ সপ্তাহের ট্রাম্প-সি বৈঠকের আগে মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তারা এআই ঘটনার "নোটিফিকেশন ব্যবস্থা" নিয়ে আলোচনা করলেন—ট্রাম্পের এআই ফোর্সের প্রতিশ্রুতি আর নিরাপত্তার আশঙ্কাকে "ভাঁওতা" বলার কয়েক দিন পর। কী ঠিক হলো, কী হলো না, বাংলাদেশ কোথায়।

"এআই ফোর্স", এআই জার আর বেইজিংয়ের সঙ্গে হটলাইন: যে সপ্তাহে ওয়াশিংটন ঠিক করল চীনের সঙ্গে দৌড়টা কেমন হবে

তিন দিনে দুটি ঘোষণা দেখিয়ে দিল, এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দুই নেতার বৈঠকের আগে বিশ্বের দুই এআই শক্তি কোন দিকে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বললেন, তাঁর প্রশাসন একটি "এআই ফোর্স" গড়বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জার নিয়োগ দেবে, আর শিল্পের প্রবৃদ্ধি "কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা রুদ্ধ করবে না"। রোববার নিউইয়র্কে চীনা ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানালেন, দুই পক্ষ জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন এআই ঘটনার জন্য নতুন একটি "নোটিফিকেশন ব্যবস্থা" নিয়ে আলোচনা করেছে।

বেসেন্ট যা প্রস্তাব করলেন

"যেকোনো আন্তসীমান্ত কার্যকলাপের মতোই, বিশ্বের এক নম্বর আর দুই নম্বর এআই শক্তির মধ্যে অস্বচ্ছতা থেকে আরও স্বচ্ছতায় যাওয়া খুব জরুরি," সফল বলে বর্ণনা করা আলোচনার পর সাংবাদিকদের বলেন বেসেন্ট। ধারণাটা এমন একটি চ্যানেল, যাতে প্রতিটি পক্ষ নিরাপত্তার তাৎপর্য আছে এমন এআই ঘটনার খবর অপরকে জানাবে—আগের যুগের পারমাণবিক ও সামরিক হটলাইনের আদলে। সিনহুয়া আলোচনাকে বলেছে "খোলামেলা, গভীর ও গঠনমূলক", এআই আলোচনায় ছিল বলে নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে শুল্ক কমানোর ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে একটি "বোর্ড অব ট্রেড"ও আলোচিত হয়; যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কযুদ্ধের বিরতি শেষ হচ্ছে ১০ নভেম্বর, আর মে মাসে বেইজিংয়ের বৈঠকে বোয়িং বিমান ও কৃষিপণ্যের বিনিময়ে শুল্ক কমেছিল।

ট্রাম্প যা ঘোষণা করলেন

শনিবারের পোস্টে তিনি এআইকে বললেন "পরবর্তী শিল্পবিপ্লব, বা ইন্টারনেট, কিন্তু আরও বড়", "সম্ভবত আমাদের দেশের জিডিপির ২৫ শতাংশ পর্যন্ত", আর যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। এআই ফোর্স আর জার সেই দৌড় জেতার জন্য, ধীর করার জন্য নয়; দুষ্কৃতকারীদের, তাঁর কথায়, সামলাবে বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত। এআইয়ের বিপদের উদ্বেগকে তিনি আবার "ভাঁওতা" বললেন। পোস্টটি এল এমন এক সপ্তাহের শেষে, যখন অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই শিল্পজুড়ে গতি কমানো ও স্বাধীন নজরদারির আহ্বান জানান, স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্ক একমত হন, অ্যানথ্রপিকের জ্যাক ক্লার্ক তৃতীয় পক্ষের যাচাইযোগ্য বাধ্যতামূলক "কিল সুইচ"-এর কথা বলেন, আর গুগল জানায় তাদের জেমিনি মডেল পরীক্ষায় নিজে নিজেই তিন কোম্পানি হ্যাক করেছে। এ নিয়ে শুক্রবার প্রশ্ন করা হলে এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব এগোনো উচিত।"

সামনের সপ্তাহ

বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটনে আসছেন সি চিন পিং; শুক্রবার হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে হুয়াং ও অল্টম্যানের থাকার কথা। এরপর অল্টম্যান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিফ করবেন। নোটিফিকেশন ব্যবস্থা সই করা ব্যবস্থায় দাঁড়ায় কি না—দেখার মতো ঠোস জিনিস সেটিই; বাকি সব অবস্থান নেওয়া।

বাংলাদেশ কোথায়

বাংলাদেশ এআই কেনে দুই পক্ষ থেকেই: এক দিকে এনভিডিয়া ও গুগলের চিপ ও ক্লাউড, অন্য দিকে হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক আর সস্তা চীনা মডেল। এআই ঘটনার যুক্তরাষ্ট্র-চীন চ্যানেল এখানে সরাসরি কিছু বদলায় না, কিন্তু যে দৌড়কে তা আনুষ্ঠানিক করে, সেটি বদলায়। চিপের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ঠিক করে ঢাকার ডেটা সেন্টার কী বসাতে পারবে; যে দেশের মডেল আধিপত্য করে, তা ঠিক করে টুলগুলো কোন ভাষায় কথা বলবে—আর বাংলা দুজনের কাছেই পরে-ভাবা বিষয়। দেশের নিজের খসড়া এআই নীতি দুই বছর ধরে পরামর্শে পড়ে আছে। দুই শক্তি অন্তত এটুকুতে রাজি হয়েছে যে তাদের মডেল বেয়াড়া হলে পরস্পরকে জানাবে। বাংলাদেশ এখনো ঠিক করেনি, সে কাকে জানাবে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।