বাংলাদেশ প্রযুক্তি

হায়দরাবাদে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের এশিয়া-প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতল তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে তৃতীয় হয়েছে টিম ব্লুপ্রিন্ট। তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় চারটি দল; ফিউচার ইনোভেটরস সিনিয়রে সপ্তম হয়েছে টিম অডিসি এক্স।

হায়দরাবাদে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের এশিয়া-প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতল তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

বিশ্বের সম্মানজনক রোবোটিকস প্রতিযোগিতাগুলোর একটি ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের এশিয়া-প্যাসিফিক ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্ট।

ফলাফল

২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে তৃতীয় হয়েছে দলটি। সদস্যরা হলেন সৈয়দ সুবেহ-সাদিক, মো. আজমাইন শেখ রুবায়েদ ও সাম্মান রাহিন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফলাফল জানিয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।

তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় চারটি দল—টিম ব্লুপ্রিন্ট, টিম অডিসি এক্স, টিম নেবুকোডার্স ও টিম রোবোম্যানিয়া। আবিদা ওয়াদুদ ও সাদমান আল হকের টিম অডিসি এক্স ফিউচার ইনোভেটরস সিনিয়র ক্যাটাগরিতে হয়েছে সপ্তম।

আজমাইন শেখ রুবায়েদ বলেন, 'আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করা আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। প্রতিযোগিতার পুরো সময় বিভিন্ন দেশের দক্ষ দলগুলোর সঙ্গে কাজ ও প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতাও যাচাই করতে পেরেছি।'

আন্তর্জাতিক বিচারক রেদওয়ান ফেরদৌস বলেন, 'এবারের যাত্রা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ দল তাদের মেধা, দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে অন্যান্য দেশের শক্তিশালী প্রতিযোগীদের সঙ্গে দারুণভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তৃতীয় স্থান অর্জন তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সেরই স্বীকৃতি।'

বাংলাদেশে এর মানে কী

দশ দিনে এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রোবোটিকস ফল, আর কেবল উদ্‌যাপন নয়—এগুলোর ভেতরের ছকটি লক্ষ করার মতো।

দুটি ফলই এসেছে ছোট, নিজেরা গড়া দলের কাছ থেকে; পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পাইপলাইন নয়, একটি স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক। বিডিওএসএন বছরের পর বছর এ কাজ করছে, বড়ভাবে নিজের উদ্যোগেই। এটি শক্তি—চটপটে, আর স্পষ্টতই ফল দিয়েছে—আবার ভঙ্গুরতাও, কারণ এটি কাঠামোগত কিছুর ওপর নয়, হাতে গোনা কয়েকজন নিবেদিত সংগঠকের ওপর দাঁড়িয়ে।

ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিটি কাজের একটি খুঁটিনাটি। এটি স্বয়ংচালিত যানের ট্র্যাক: দলগুলোকে এমন একটি স্বচালিত মডেল গাড়ি বানাতে হয়, যা নির্দিষ্ট পথ পেরিয়ে নিজে পার্ক করবে; আর মূল্যায়ন হয় দৌড়ের পাশাপাশি প্রকৌশল নথিপত্রের ওপরও। এটি গুরুতর কাজ। এতে লাগে কম্পিউটার ভিশন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আর সংস্করণ-নিয়ন্ত্রিত কোড—আর স্কুলপর্যায়ের রোবোটিকসে এটিই প্রকৃত শিল্প-প্রকৌশল চর্চার সবচেয়ে কাছের জিনিস।

এ থেকেই বোঝা যায় সহায়তা কোথায় দরকার। এই প্রতিযোগিতা জেতার মতো শিক্ষার্থী বাংলাদেশের স্কুলগুলো তৈরি করে। যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নেই, তা হলো সাদামাটা মাঝখানটুকু: যন্ত্রাংশের নিয়মিত জোগান, নিজে কিছু বানিয়েছেন এমন পরামর্শক, যথেষ্ট আগে ঠিক হওয়া ভ্রমণের অর্থ, আর পদকের পরের ধাপ। হায়দরাবাদের ব্রোঞ্জের দাম অনেক বেশি হবে, যদি দুই বছর পর এই তিনজনের অপেক্ষায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার বা কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে।

এ মাসের অন্য দলটি আছে এমআইটিতে স্পেসএক্সের চ্যালেঞ্জ জেতা দুই বাংলাদেশির খবরে, আর আগেরটি দক্ষিণ কোরিয়ায় অগ্নিনির্বাপক রোবট নিয়ে যাওয়া আট শিক্ষার্থীর খবরে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।