এই গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ যখন ইউরোপ পোড়াচ্ছে, তখন এক মার্কিন ব্যাটারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা লক্ষ করেন চাহিদা বাড়ছে।
যা বিক্রি হচ্ছে
সান দিয়েগোভিত্তিক ইউনিগ্রিড ঘরের জন্য বিক্রি করে নয় কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি। গরমে হাঁসফাঁস করা ইউরোপীয় বাড়ির মালিকেরা খুঁজছিলেন এমন উপায়—যাতে গ্রিড থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাওয়ার সময় তা জমিয়ে রেখে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ব্যাটারিতে এসি চালানো যায়।
সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড্যারেন ট্যান বলেন, "স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস থেকে অনুরোধ আসছে। আমরা প্রথম ১০০টি ইউনিট পাঠিয়েছি, আর বছর শেষের আগে ১ হাজার পাঠানোর আশা করছি।"
ব্যাটারিটি লিথিয়াম আয়ন নয়, সোডিয়াম আয়ন। সোডিয়াম নিয়ে শক্তি-সঞ্চয়ের বিশেষজ্ঞদের আগ্রহের কারণ, এটি বানানো ও চালানো অনেক সস্তা হতে পারে, আগুন ধরার আশঙ্কা সম্ভবত কম, আর তাপমাত্রার অনেক বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার কথা—মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
সেরা ও সবচেয়ে নিরাপদ সোডিয়াম আয়ন নকশা কোনটি, তা নিয়ে এখনো ঐকমত্য নেই; আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ক্ষেত্রের একাধিক মার্কিন কোম্পানি হোঁচট খেয়েছে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
দেশ নয়, ক্রেতাকে পড়ুন। ওই ইউরোপীয় ক্রেতারা যা চেয়েছিলেন তা পরিবেশবান্ধব পরিচয় নয়—তাঁরা চেয়েছিলেন নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবহার সস্তা সময়ে সরিয়ে নিতে। এই চাহিদা বাংলাদেশে তীব্র, আর তা মেটানো হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিজেল দিয়ে।
তিনটি কারণে সোডিয়াম রসায়ন এ দেশে লিথিয়ামের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।
তাপমাত্রা। টানা গরমে লিথিয়াম সেল দ্রুত ক্ষয়ে যায়; আর বাংলাদেশে ছাদের ঘেরাটোপে বা দোকানের পেছনের ঘরে রাখা ব্যাটারি বছরের বড় অংশ কাটায় ৩৫ ডিগ্রির ওপরে। বেশি সহনশীল রসায়ন ঠিক এই জলবায়ুতেই বছরে কম সক্ষমতা হারায়।
আগুন। বাংলাদেশে ব্যাটারিতে আগুনের সমস্যা এমনিতেই গুরুতর—অনানুষ্ঠানিক লেড-অ্যাসিড ব্যবসা, আর ইজিবাইক ও রিকশায় ক্রমেই সস্তা লিথিয়াম প্যাক, যেগুলো সারা রাত চার্জ হয় বাতাস চলাচলহীন আবাসিক ভবনে। কম দাহ্য সেল-রসায়ন এখানে বিপণনের কথা নয়; এটি নিরাপত্তার যুক্তি।
উপকরণ। সোডিয়াম প্রচুর, আর লিথিয়াম ও কোবাল্টের মতো ভূরাজনৈতিকভাবে কেন্দ্রীভূত নয়। যে দেশ ব্যবহার করা প্রতিটি সেলই আমদানি করে, তার জন্য কম বাধাবিন্দুর রসায়ন কেবল দামের কারণেই নজরে রাখার মতো।
এতে বাংলাদেশ বাস্তবে কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, তা বদলায় না—জায়গাটি সেলের পরের ধাপে: প্যাক জোড়া দেওয়া, সেগুলো সামলানোর ইলেকট্রনিকস বানানো, আর বাড়ির উঠোন ছাড়া অন্য কোথাও সেগুলো পুনর্ব্যবহার করা। সস্তা রসায়ন যা বদলায়, তা জোড়া দেওয়া জিনিসটির দাম—আর ওই দামই ঠিক করে, ছাদের প্যানেল ডিজেল জেনারেটরের জায়গা নিতে পারবে নাকি কেবল তার পাশে চলবে।
ইউরোপের নিজের চেষ্টাটি আছে ব্যাটারিতে তার দ্বিতীয় দৌড়ে, আর চাহিদার যুক্তিটি তেলের রাজ্যে সৌরবিদ্যুতের উত্থানে।




