গত বছর ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে আপেল তোলার প্রথম দিনটি যখন এল, ফল পেকে গেছে আর শ্রমিকেরাও প্রস্তুত। আবহাওয়ার পরিকল্পনা ছিল অন্য রকম।
সমস্যাটি
ওকানাগান স্পেশালটি ফ্রুটসের জোয়েল কার্টার মনে করেন, "তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রির মতো… ওই গরমে মানুষের কাজ করা নিরাপদ নয়। সকাল ১০টাতেই আমাদের থামতে হয়েছিল।"
তিনি বলছেন, আবহাওয়া হিসাবে নিয়ে ফসল তোলার আদর্শ দিন আগাম জানানো এআই মডেল কাজে লাগবে। "শুধু কখন ফল পাকবে তা জানলেই হয় না। তোলার জন্য হাতে কত সময় আছে? এখানেই এই মডেলগুলো সত্যিই কাজে দেয়।"
কার্টারের প্রতিষ্ঠানের আছে ১,২৫০ একরের বেশি আপেলের বাগান; ফল ফলানো হয় কেটে রাখা আপেলের জন্য, যা বিক্রি হয় হোটেল ও স্কুলে। গাছ বা লতায় থাকা ফল গুনে বিশ্লেষণ করা আর কখন ফসল পাকবে তা আগাম বলা নতুন সরঞ্জাম আসছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফলের দাম—বিশেষত স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরির মতো উচ্চমূল্যের বেরির—প্রচণ্ড ওঠানামা করে। ফসল তোলার দিন ভুল হলে অপ্রয়োজনেই মৌসুমি শ্রমিক বুক করতে হয়, আর সবচেয়ে বড় মুনাফাটুকু হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
প্রযুক্তিটি এখানে কাজে লাগার অংশ নয়। দেখার ভঙ্গিটি কাজে লাগে, আর তা বাংলাদেশের কৃষির সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মানানসই।
কার্টারের উপলব্ধি হলো, কাজের প্রশ্নটি "কখন পাকবে" নয়, "আমার সুযোগটা কত দিনের"। বাংলাদেশি কৃষক এই প্রশ্নের উত্তর এখন দিতে পারেন না, আর উত্তর না থাকার খরচ বিপুল। এ দেশে ফল ও সবজির ফসল-পরবর্তী ক্ষতি আনুমানিক এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ—পাকা নিয়ে অজ্ঞতার কারণে নয়, বরং ফসল তোলার সময়, শ্রমিক, পরিবহন আর হাটের দিন একসঙ্গে না মেলায়।
গরমের খুঁটিনাটিটি আক্ষরিকভাবেই খাটে। বাংলাদেশে গরমে সারা দেশে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে; আর ৩৮ ডিগ্রির দিনে সকাল ১০টায় কাজ থেমে যাওয়া এখানে ওয়াশিংটনের সমস্যা নয়—এটি এপ্রিল আর মে মাস। এ দেশের জন্য বানানো যেকোনো ফসল-পরিকল্পনা মডেলকে কাজের সময়কে আবহাওয়ানির্ভর ধরতেই হবে, যা পশ্চিমা সরঞ্জামগুলো সবে শিখছে।
আসলে যা কাজে দিত, তা বাগানের কম্পিউটার ভিশনের চেয়ে অনেক সহজ। বাংলাদেশে মূল বাধা হলো—হাতে গোনা কয়েকটি করিডরের বাইরে প্রায় অস্তিত্বহীন শীতল সরবরাহ শৃঙ্খল, বাজারদরের তথ্য যা ব্যাপারীর পর কৃষকের কাছে পৌঁছায়, আর আগে থেকে নয়—সেদিনই বুক করা পরিবহন। দিন ধরে পাকার সময় বলে দেওয়া মডেলের দাম সামান্যই, যদি ট্রাকটিই অনিশ্চিত হয়।
তবু সস্তা সংস্করণটি এখনই সম্ভব, আর কেউ তা করছে না: আবহাওয়ানির্ভর ফসল-তোলার সুযোগের পূর্বাভাস, এসএমএসে পাঠানো, সেই গুটিকয় ফসলের জন্য যেখানে সময়ই দাম ঠিক করে—চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, দিনাজপুরের লিচু, মুন্সিগঞ্জের আলু। তথ্যটি আছে আবহাওয়া অধিদপ্তরে। যা নেই, তা হলো সেটিকে খামারের নির্দেশে অনুবাদ করা।




