প্রযুক্তি

সেপ্টেম্বরে স্লোভেনিয়ায় নিবন্ধিত হয়েছে ৪৪ হাজার ওয়েব ঠিকানা। আগস্টে ছিল ২ হাজারেরও কম

ট্রাম্প চান এআইকে বলা হোক "সুপার ইন্টেলিজেন্স"—এসআই, যা কাকতালীয়ভাবে স্লোভেনিয়ার দেশীয় ডোমেইন। জাতীয় নিবন্ধক বলছে, গত বারো মাসের তুলনায় এই তৎপরতা নজিরবিহীন।

সেপ্টেম্বরে স্লোভেনিয়ায় নিবন্ধিত হয়েছে ৪৪ হাজার ওয়েব ঠিকানা। আগস্টে ছিল ২ হাজারেরও কম

এআইয়ের নাম বদলানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎপরতাই স্লোভেনিয়ায় ডোমেইন নিবন্ধনের "নজিরবিহীন" উত্থানের পেছনে থাকতে পারে—জানিয়েছে দেশটির সরকারি জাতীয় নিবন্ধক।

সংখ্যাগুলো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চান এআইকে বলা হোক "সুপার ইন্টেলিজেন্স"—এসআই; স্লোভেনীয় ওয়েবসাইটগুলো ঠিক এই দুই অক্ষরই ব্যবহার করে।

রেজিস্টার.এসআইয়ের মুখপাত্র ক্লারা হেরমান জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে .si প্রত্যয়যুক্ত ৪৪ হাজার ওয়েব ঠিকানা নিবন্ধিত হয়েছে, আর আগস্টে হয়েছিল ২ হাজারেরও কম—বৃদ্ধি ২,১০০ শতাংশের বেশি। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের তৎপরতা গত বারো মাসের তুলনায় নজিরবিহীন।

১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তৃতায় প্রযুক্তিটির নাম বদলের ডাক দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এটি একটি ছোট খবর, তবে বড় ও বারবার ফিরে আসা একটি ছক নিয়ে: দুই অক্ষরের দেশ-কোড আর দেশ নিয়ে থাকে না।

আগেও এমন হয়েছে, আর নজিরগুলো শেখার মতো। টুভালুর .tv হয়ে গেল টেলিভিশন। মন্টিনেগ্রোর .me হয়ে গেল সর্বনাম। অ্যাঙ্গুইলার .ai হয়ে উঠল ডোমেইনের ইতিহাসে সবচেয়ে মূল্যবান কাকতাল—খবর অনুযায়ী দ্বীপটির বছরে কয়েক কোটি ডলার আয়, যা তার জাতীয় বাজেটের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণ। লিবিয়ার .ly হয়ে গেল ক্রিয়াবিশেষণ—যতক্ষণ না লিবীয় নিবন্ধকের অধীনে নাম রাখার রাজনৈতিক ঝুঁকি ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোর কাছে স্পষ্ট হলো।

শেষেরটিই বাংলাদেশি পাঠ, আর তা সুযোগ নয়—সতর্কতা। .bd-র আকস্মিক কোনো ইংরেজি অর্থ নেই, তাই এ ধরনের ফাটকা চাহিদা কখনোই তাকে ঘিরে তৈরি হবে না; ধাওয়া করার মতো বাড়তি আয়ও নেই। লিবিয়ার ঘটনা যা দেখায় তা উল্টো দিকটি: ডোমেইন মানে একটি বিদেশি নিবন্ধকের নিয়ম, রাজনীতি আর সচলতার ওপর নির্ভরতা।

কথাটি স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ বাংলাদেশের নিজের নিবন্ধকের সমস্যা উল্টো। .com.bd নিবন্ধনে ঐতিহাসিকভাবে কাগজপত্র ও হাতে অনুমোদন লেগেছে—আর এ কারণেই বহু বাংলাদেশি ব্যবসা সোজা .com ব্যবহার করে। যে জাতীয় ডোমেইন পাওয়া বৈশ্বিকটির চেয়ে কঠিন, সেটি ব্যবহার হয় না; আর কেউ যদি ঝামেলায় যেতেই না চায়, তবে তা রাখার সার্বভৌমত্বের যুক্তিও মিলিয়ে যায়।

ফাটকার শিক্ষাটিও বাস্তব, আর বেশির ভাগই নেতিবাচক। ৪৪ হাজার নিবন্ধনের বিপুল অংশই বাজি, ব্যবসা নয়। বেশির ভাগই নবায়ন হবে না। বাংলাদেশে একই যুক্তিতে প্রলুব্ধ হয়ে যাঁরা গুজবে শোনা ঝোঁকের বিপরীতে নাম কিনছেন, তাঁরা আসলে কিনছেন ট্রাফিকহীন এক সম্পদের নবায়ন-দায়—ইন্টারনেটে টাকা হারানোর সবচেয়ে পুরোনো উপায় এটিই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Zayed

টেক বিডির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ লেখেন জায়েদ — নতুন মডেল, এআই নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা আর সেগুলো ঘিরে গড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ। কোনো ব্যবস্থা কী দেখাতে পারে তার চেয়ে বাংলাদেশে ব্যবহারকারীর জন্য তা কী বদলায়, সেদিকেই তাঁর আগ্রহ। লেখেন ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই।