প্লাস্টিক দূষণ এ যুগের অন্যতম গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা; কোটি কোটি টন বর্জ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পিইটি প্লাস্টিক থেকে মূল্যবান গ্রিন হাইড্রোজেন জ্বালানি বানানোর একটি সৌরচালিত পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
কাজ করে যেভাবে
পানি বা অন্যান্য প্রচলিত উৎসের বদলে এ প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে হাইড্রোজেন তৈরি হয়। প্লাস্টিককে ছোট টুকরো করে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে মেশানো হয় এবং ১৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় রাখা হয় তিন দিন। এতে প্লাস্টিক ভেঙে আলাদা হয় ইথিলিন গ্লাইকল নামের উপাদান, যা পরে দেওয়া হয় সৌর প্যানেল রিঅ্যাক্টরে।
প্যানেলগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। বরং সেগুলো ঘটায় ফটোরিফর্মিং নামের একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া: প্যানেলের ওপরের ফটোক্যাটালিস্ট প্রলেপ সূর্যের আলো শোষণ করে আর তা কাজে লাগিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে।
গবেষকেরা প্রথমে ছোট প্যানেলে সফল হন, পরে চারটি বড় প্যানেল দিয়ে বানান ১০.৮ বর্গফুটের একটি বহিরাঙ্গন রিঅ্যাক্টর—যাতে প্রমাণ হয়, পদ্ধতিটি অর্থবহ পরিসরেও কাজ করতে পারে। এখন তাঁরা এমন প্যানেল বানাচ্ছেন, যা একই সঙ্গে হাইড্রোজেন ও বিদ্যুৎ দিতে পারবে: বর্তমান পরীক্ষামূলক প্যানেলটি মূলত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে কাজ করে, ফলে দৃশ্যমান আলোর অংশটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য থেকে যায়।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর দুটি প্লাস্টিক বর্জ্য আর আমদানি করা জ্বালানি; আর এটি এমন এক গবেষণাগারের ফল, যা দুটিকেই ছোঁয়। তাই উচ্ছ্বাস নয়, সতর্কতার সঙ্গেই এটি জানানো দরকার।
আগে বাস্তব দূরত্বটি। পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইডে ৮০ ডিগ্রিতে তিন দিনের প্রাক্-প্রক্রিয়া রসায়ন, সংগ্রহ নয়; আর প্রদর্শনী রিঅ্যাক্টরটি মোটামুটি একটি দরজার সমান। এর কিছুই মোতায়েনের কাছাকাছি নয়, আর উৎপাদিত হাইড্রোজেন কোথায় যাবে—সে জন্য বাংলাদেশে বিতরণ, সঞ্চয় বা ব্যবহারের কোনো অবকাঠামোই নেই। যে কেউ একে দুই সমস্যার যেকোনোটির নিকট-ভবিষ্যতের সমাধান বলে উপস্থাপন করলে তিনি বাড়িয়ে বলছেন।
সত্যিই প্রাসঙ্গিক যা, তা কাঁচামাল। প্রক্রিয়াটি চলে পিইটিতে—যা বাংলাদেশে মানে পানির আর কোমল পানীয়ের বোতল; দেশের সবচেয়ে বেশি সংগৃহীত, সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হওয়া আর সবচেয়ে দৃশ্যমান বর্জ্য প্লাস্টিক। ঠিক এই উপকরণ ঘিরেই হাজার হাজার সংগ্রাহক ও বাছাইকারীর একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ইতিমধ্যেই গড়ে উঠেছে। যে প্রযুক্তির কাঁচামাল সেই প্লাস্টিক—বাংলাদেশ যেটি জোগাড় করায় এমনিতেই দক্ষ—কেবল এ কারণেই তা নজরে রাখার মতো।
দ্বিতীয় প্রাসঙ্গিক কথাটি, গবেষণাটি কিসের জায়গা নেয়। গ্রিন হাইড্রোজেন সাধারণত বানানো হয় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে পানি ভেঙে—যা ব্যয়বহুল আর গ্রিডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বর্জ্যকে কাঁচামাল বানানো পথটি এমন এক প্রযুক্তির অর্থনীতি বদলে দেয়, বাংলাদেশ যেটি না হলে কেবল আমদানিই করত।
সৎ উপসংহারটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরাই যা বলত: এটি অনুসরণ করার মতো ফল, গ্রহণ করার মতো পরিকল্পনা নয়। বাংলাদেশের কাজের জবাব কোনো পাইলট প্ল্যান্ট নয়—বরং এটুকু নিশ্চিত করা যে দেশের কোনো উপকরণ বা রসায়ন বিভাগে কেউ এই গবেষণাপত্রগুলো পড়ছেন; কারণ এখানে দেশের তুলনামূলক সুবিধা বর্জ্যের প্রবাহ, আর তা মূল্যে রূপ নেয় কেবল তখনই—যখন স্থানীয় কেউ তা কাজে লাগানোর অবস্থানে থাকেন।
সূর্যের আলো থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের অন্য পথটি আছে তেলের রাজ্যে সৌরবিদ্যুতের উত্থানে।




