প্রযুক্তি

টাওয়ার ছাড়াই দেড় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারবে ইনফিনিক্সের দুটি ফোন

আলট্রালিংকে একই ব্র্যান্ডের দুটি ফোন মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কল, বার্তা ও ছবি আদান-প্রদান করতে পারে। খোলা জায়গায় বাধা না থাকলে পরীক্ষিত দূরত্ব দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত।

টাওয়ার ছাড়াই দেড় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারবে ইনফিনিক্সের দুটি ফোন

কাছাকাছি থেকেও কারও নাগাল না পাওয়া মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলে চেনা সমস্যা; আবার দুর্বল সিগন্যালে জরুরি ফোনকল করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যার সমাধানে নিজেদের ফোনে আলট্রালিংক নামের সুবিধা যুক্ত করেছে ইনফিনিক্স।

যা করে

ব্র্যান্ডটির আলট্রালিংক-সুবিধাযুক্ত দুটি ফোন মোবাইল টাওয়ারের সাহায্য ছাড়াই কল, বার্তা ও ছবি আদান-প্রদান করতে পারে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, খোলা পরিবেশে কোনো বাধা না থাকলে দুটি ফোনের মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। তাদের নিজেদের এক গবেষণায় ইনফিনিক্স হট ৭০ প্রো ৫জি মডেলে সুবিধাটি পাওয়া গেছে। পরিবেশ ও মডেলভেদে এ দূরত্ব কম হতে পারে।

ইনফিনিক্স স্পষ্ট করেই বলছে, এটি নেটওয়ার্কের বিকল্প নয়; বরং সিগন্যাল না থাকলে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের বাড়তি একটি মাধ্যম। বর্তমানে হট ৭০, নোট ৬০ ও স্মার্ট ২০ সিরিজে সুবিধাটি আছে, ভবিষ্যতে আরও মডেলে আসবে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এ বাজারের জন্য কোনো সাশ্রয়ী ফোন ব্র্যান্ড যত সুবিধা যোগ করতে পারত, তার মধ্যে এটি অস্বাভাবিকভাবে ভালো বাছাই—আর কারণটি সুবিধা নয়।

ঠিক যেসব পরিস্থিতিতে যোগাযোগ সবচেয়ে বেশি দরকার, বাংলাদেশ সেখানেই মোবাইল কভারেজ হারায়। ঘূর্ণিঝড়ে টাওয়ারের খুঁটি ভাঙার আগেই যায় বিদ্যুৎ আর ব্যাকহল; ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় গোটা উপজেলা দিনের পর দিন অন্ধকারে ছিল। হাওর অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম আর দূরের চরে কভারেজ এমনিতেই পাতলা। অবকাঠামো ছাড়াই যন্ত্র-থেকে-যন্ত্র সংযোগ এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই সত্যিকারের কাজে লাগে।

সৎ তিনটি শর্ত, কারণ বিপণন সেগুলো জানাবে না। দুটি ফোনই ইনফিনিক্স হতে হবে এবং সুবিধাটিসহ—এটি কোনো আন্তর্জাতিক মান নয়, তাই অন্য ব্র্যান্ডের প্রতিবেশীর কাছে পৌঁছাবে না। দেড় কিলোমিটার খোলা জায়গার হিসাব; গাছ, ঘরবাড়ি আর ভূপ্রকৃতিসহ গ্রামে তা এর ভগ্নাংশ হবে—ইনফিনিক্স নিজেও তা বলছে। আর দুর্যোগে যাঁদের এটি সবচেয়ে বেশি দরকার হবে, আগেভাগে মিলিয়ে ফোন কেনার সমন্বয় তাঁদের পক্ষেই করা সবচেয়ে কঠিন।

একে ভাবার কাজের উপায় হলো জনসাধারণের নয়, পরিবার বা দলের সুবিধা হিসেবে: যে পরিবার দুটি কেনে, উদ্ধারকারী দল, এনজিও প্রকল্পের মাঠকর্মীরা, কিংবা মাছ ধরার নৌকা আর তীর। এভাবে ব্যবহার করলে এটি বাড়তি খরচ ছাড়াই সত্যিকারের সক্ষমতা।

নিয়ন্ত্রক ও অপারেটরদের জন্যও এটি ন্যায্য একটি প্রশ্ন তোলে। একটি ফোন ব্র্যান্ড যদি পণ্যের সুবিধা হিসেবেই যন্ত্র-থেকে-যন্ত্র বার্তা দিতে পারে, তবে ব্র্যান্ড নির্বিশেষে চলে এমন জরুরি মেশ-মানের অনুপস্থিতি কারিগরি নয়, নীতিগত ফাঁক—আর তা পূরণে আগ্রহী হওয়ার কারণ বাংলাদেশের বেশির ভাগ দেশের চেয়ে বেশি।

টাওয়ার নেই এমন জায়গায় কভারেজ পাওয়ার অন্য পথটি আছে বাংলালিংকের স্টারলিংক ডিরেক্ট-টু-সেলে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।