ছয় বছরের বিরতির পর বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামে ৯ থেকে ১১ জানুয়ারি ফিরছে তিন দিনের জ্ঞানমেলা। আয়োজন হবে শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে।
মেলাটি চলছে ২০০৪ সাল থেকে, ‘আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি’ প্রকল্পের আওতায়, আয়োজক আমাদের গ্রাম। আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব তৌফিকুল ইসলাম বলছেন, লক্ষ্য এমন একটি অংশগ্রহণমূলক পরিসর, যেখানে মানুষ প্রশ্ন করতে ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবেন।
এবারের বিষয়, আর তা কেন ভালো
এবারের প্রতিপাদ্য প্রান্তিক জীবনের জন্য উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যজ্ঞান, আর ঘোষিত মনোযোগ অস্বাভাবিক রকম বাস্তব—রোগ প্রতিরোধ ও সময়মতো চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, আর বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্যতথ্য চিনতে পারা।
তৃতীয় বিষয়টি নিয়ে একটু থামা দরকার। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য-বিভ্রান্তি মূলত জটিল ষড়যন্ত্র হয়ে আসে না। আসে নিরাময়ের কথা বলা ফরোয়ার্ড করা বার্তা হয়ে, আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনার ভিডিও হয়ে, প্রতিবেশীর কাছে শোনা ‘এতে কাজ হয়েছে’ হয়ে। এগুলো আলাদা করে চেনার দক্ষতা কোথাও শেখানো হয় না, অথচ বেশির ভাগ মানুষের কাছে তা যেকোনো একক স্বাস্থ্যতথ্যের চেয়ে বেশি কাজের।

পদ্ধতিটিই আগ্রহের জায়গা
প্রকল্পটি বলছে, নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় স্পষ্ট যোগাযোগ, মানুষের নিজের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেওয়া আর তাঁদের সেবার সঙ্গে যুক্ত করার কথা।
এই তিনটি একসঙ্গে যতটা সহজ শোনায়, ততটা সাধারণ নয়। গ্রামীণ প্রযুক্তি-উদ্যোগের বেশির ভাগ দেয় এর একটি—একটি অ্যাপ, নয়তো একটি লিফলেট, নয়তো একটি রেফারেল ডেস্ক। ব্যর্থ হওয়ার ধরনটিও চেনা: তথ্য আসে এমন ভাষায় যা কেউ ব্যবহার করেন না, এমন প্রতিষ্ঠান থেকে যাকে প্রশ্ন করা যায় না, এমন সেবা নিয়ে যেখানে পৌঁছানো যায় না।
অ্যাপের তুলনায় মেলা বেশ স্থূল আয়োজন, আর এর একটি সুবিধা অ্যাপের নেই—একজন মানুষ পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন, আর সামনে দাঁড়ানো কারও কাছ থেকে উত্তর পেতে পারেন।
সেখানে কী হয়
আগের মেলাগুলোয় ছিল প্রযুক্তি ও স্থানীয় উদ্ভাবনের প্রদর্শনী, সেমিনার, আলোচনা ও বিতর্ক, আলোকচিত্র আর লোকঐতিহ্যের প্রদর্শনী। শিশু-কিশোরেরা অংশ নিয়েছে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায়, আর দাবা, ক্যারম, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গান ও নাচ টেনেছে সব বয়সের মানুষকে।
আমন্ত্রিত স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক, উদ্ভাবক, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী—আর আগ্রহী যে কেউ।
ছয় বছর
মেলাটি কেন বন্ধ ছিল, প্রতিবেদনে তা বলা নেই, আর অনুমান করা ঠিক হবে না। যা বলা যায় তা হলো, ২০০৪ সাল থেকে চলা, ছয় বছর থেমে থাকা একটি স্থানীয় আয়োজন ফিরে আসছে—অর্থাৎ কিছু একটা পেরিয়ে এসেছে। আর বিরতিটি মনে করিয়ে দেয়, গ্রামপর্যায়ের উদ্যোগ কতটা নির্ভর করে অল্প কয়েকজন মানুষের লেগে থাকার ওপর।
বাংলাদেশে প্রযুক্তির খবর ঘুরেফিরে ঢাকা, পণ্য উদ্বোধন আর রপ্তানিতেই আটকে থাকে। রামপালের একটি স্কুলমাঠে স্বাস্থ্যতথ্য ঠিকভাবে পড়তে শেখানোর একটি স্টল ছোট খবর—আর যাঁরা সেখানে যাবেন, তাঁদের জন্য বেশি কাজের খবরও।
আয়োজনটির ধরন কেন অন্যত্রও কাজে লাগে
এখানে নকল করার মতো জিনিসটি মেলা নয়। সেটি হলো এই সিদ্ধান্ত—ভুল স্বাস্থ্যতথ্য চিনতে পারাকে শেখানোর মতো একটি দক্ষতা হিসেবে দেখা, মানুষকে খালি পাত্র ধরে নিয়ে সঠিক তথ্য ঢেলে দেওয়ার বদলে।
দুটি আলাদা কাজ। দ্বিতীয়টি নতুন গুজব এলেই আবার করতে হয়, আর যখনই সরকারি মাধ্যম গুজবের চেয়ে ধীর হয় তখনই ব্যর্থ হয়—সাধারণত হয়ও। প্রথমটি একবার কাজ করলেই হলো, আর তারপর সেটি কাজ করে এমন গুজবের ওপরও, যা এখনো কেউ বানায়নি।




