প্রযুক্তি

গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ক্রোম বসাচ্ছে গুগল—অ্যান্ড্রয়েড অটোতে আসছে ব্রাউজার, ইভির ব্যাটারি পূর্বাভাস আর, উদ্বেগজনকভাবে, মাইক্রোসফট টিমস

লাস ভেগাসের সিইএসে গুগল ঘোষণা করল, ভলভো ও পোলস্টারের গাড়ি দিয়ে শুরু করে অ্যান্ড্রয়েড অটোতে চলবে ক্রোম ব্রাউজার, সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির লাইভ ব্যাটারি তথ্য, ভিডিও স্ট্রিমিং ও আবহাওয়ার অ্যাপ—আর চালকের আসন থেকে মাইক্রোসফট টিমসের কল। কোনটি কাজের, কোনটি দুশ্চিন্তার, আর বাংলাদেশের গাড়ির জন্য এর কোনো মানে আছে কি না।

গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ক্রোম বসাচ্ছে গুগল—অ্যান্ড্রয়েড অটোতে আসছে ব্রাউজার, ইভির ব্যাটারি পূর্বাভাস আর, উদ্বেগজনকভাবে, মাইক্রোসফট টিমস

গাড়ির ড্যাশবোর্ডের পর্দাই বেশির ভাগ মানুষের জীবনের শেষ বড় ডিসপ্লে, যাতে ওয়েব ব্রাউজার নেই, আর গুগল তা বদলাতে চায়। লাস ভেগাসের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শোতে কোম্পানিটি ঘোষণা করল, অ্যান্ড্রয়েড অটোতে আসছে ক্রোম—গাড়ির নিজের পর্দায় চলা ইন-কার ব্যবস্থাটিতে—ভলভো ও পোলস্টারের মডেল দিয়ে শুরু। সঙ্গে এল আরও কয়েকটি সংযোজন, যার একটি চলন্ত গাড়ি থেকে ভিডিও কলে থাকা যে কাউকে কুঁচকে দেবে।

যা ঘোষণা হলো

  • ক্রোম, চালকের গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করা, যাতে বুকমার্ক ও পাসওয়ার্ড সঙ্গে আসে। পোলস্টারের প্রধান নির্বাহী টমাস ইনজেনল্যাথ একে বললেন ‘খুব ভালো খবর’; এটি আসার আগে পোলস্টারের গাড়ি ব্যবহার করবে ভিভালদি ব্রাউজার।
  • ইভির ব্যাটারি বুদ্ধিমত্তা: অ্যান্ড্রয়েড অটো দেখাবে লাইভ ব্যাটারির অবস্থা আর, গন্তব্য ঠিক করা থাকলে, পৌঁছানোর সময় কত চার্জ থাকবে—যে সংখ্যা আসলে ঠিক করে দীর্ঘ যাত্রা চাপের হবে কি না।
  • গাড়ির পর্দায় ভিডিও স্ট্রিমিং ও আবহাওয়ার অ্যাপ।
  • মাইক্রোসফট টিমস, সিইএসের কিছু আগে ঘোষিত, যাতে রাস্তা থেকে সভায় যোগ দেওয়া যায়।

এর কোনোটির তারিখ গুগল দেয়নি।

কাজের, আর কম কাজের

ব্যাটারির সুবিধাটিই জরুরি। রেঞ্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা মূলত হিসাবের দুশ্চিন্তা—পরের চার্জার পর্যন্ত চার্জ টিকবে কি না—আর উত্তরটি মানচিত্রে রাখা তা সরিয়ে দেয়। গাড়ি পার্ক করে চার্জে থাকলে ব্রাউজার যুক্তিসংগত, যা ইভির জন্য কিছু করার নেই এমন নিয়মিত বিশ মিনিটের পর্ব; গাড়ি নির্মাতারা ইতিমধ্যে ভিডিও ও ব্রাউজিং পার্ক মোডে আটকে রাখে, ক্রোমও তা মানবে। টিমসের পক্ষে যুক্তি কঠিন। চালানোর সময় শুধু-অডিও কল ইতিমধ্যে অনুমোদিত আর ইতিমধ্যে মনোযোগ কাড়ে; ড্যাশবোর্ডে সভার অ্যাপ তার দিকে তাকানোর আমন্ত্রণ।

বাংলাদেশে এর মানে

তারযুক্ত, ফোন-মিররিং রূপে অ্যান্ড্রয়েড অটো এখানে সাধারণ—২০২০ সালের পর বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ চীনা ও জাপানি গাড়ি হেড ইউনিটে তা সমর্থন করে—কিন্তু গুগল যে সংস্করণ বর্ণনা করল, তা চলে গাড়ির নিজের অপারেটিং সিস্টেমে, যা অল্প কয়েকজন নির্মাতা (ভলভো, পোলস্টার, রেনো, জিএম, হোন্ডার নতুন মডেল) দেয়। সেই গাড়ি ঢাকায় বিরল। বাংলাদেশি চালকদের সম্ভাব্য পথ ফোনভিত্তিক অ্যান্ড্রয়েড অটোয় পরে একই সুবিধা আসা, যেমন সাধারণত হয়—তখন ড্যাশবোর্ডে ব্রাউজার মানায় কি না, প্রশ্নটি স্থানীয় হবে। ব্যাটারির পূর্বাভাসটি অন্তত এমন কিছু, যা এখানকার ক্রমবর্ধমান বিওয়াইডি ও এমজি মালিকেরা সত্যিই চাইবেন।

সূত্র: দ্য ভার্জ, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।