বিশ্ব প্রযুক্তি

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওর জন্য এই মাসই বেছেছিল অ্যানথ্রপিক, আর বাজার দেখল বছরের সবচেয়ে বাজে দিন

ইতিহাসের বৃহত্তম শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করা প্রতিষ্ঠানটিকে এখন বোঝাতে হবে এআইয়ের ভবিষ্যৎ আগে কখনো এত উজ্জ্বল ছিল না—ঠিক সেই সপ্তাহে, যখন মনোভাব সবচেয়ে বেশি বিরূপ। দুই দিনে সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের ওপর থেকে নেমেছে ৬০ শতাংশে।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওর জন্য এই মাসই বেছেছিল অ্যানথ্রপিক, আর বাজার দেখল বছরের সবচেয়ে বাজে দিন

এ মাসেই প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন লক্ষ্য ধরে শেয়ারবাজারে আসার কথা অ্যানথ্রপিকের—এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব। আর সেটি এসে পড়েছে ঠিক সেই সপ্তাহে, যখন বাজার সিদ্ধান্ত নিল যে সে এআই নিয়ে ভীত।

সময়ের সমস্যা, সোজাসুজি

বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে হয়েছে কয়েক বছরের মধ্যে তীব্রতম ধসগুলোর একটি। সবচেয়ে বেশি ধাক্কা প্রযুক্তিতে, তবে প্রায় কিছুই রেহাই পায়নি—এআই ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ছুটেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে। ন্যাসড্যাক কম্পোজিট হারিয়েছে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এর ইতিহাসে এক দিনে অঙ্কের হিসাবে সর্বোচ্চ পতন; শুক্রবার নেমেছে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারও।

মনোভাব কোন সপ্তাহে ঘুরবে, তা কোনো প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারে না। কিন্তু আইপিও মানে বিক্রি—আর এটি এখন বিক্রি করতে হবে এআইয়ের সবচেয়ে খারাপ মেজাজের ভেতর।

দুই দিনে ৯০% থেকে ৬০%
মধ্যবর্তী নির্বাচন আর বৃহস্পতিবারের ধসের মাঝে কালশির বাজিকরেরা অ্যানথ্রপিকের আইপিও এ মাসে হওয়ার সম্ভাবনা যতটা নামিয়েছেন। গ্রাফিক: টেক বিডি।

বাজি-বাজার যা করল

সবচেয়ে স্পষ্ট মাপকাঠি মন্তব্য নয়, টাকা। বাজি-বাজার কালশি-তে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অ্যানথ্রপিকের আইপিও এ মাসে হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হচ্ছিল ৯০ শতাংশের ওপরে।

বৃহস্পতিবার, ডেমোক্র্যাটদের একচেটিয়া জয় এআই সম্প্রসারণ আটকে দেবে এই আশঙ্কায় বাজার পড়তে থাকলে, সেই সম্ভাবনা নেমে আসে ৬০ শতাংশে।

কোম্পানির সময়সূচি নিয়ে একটি প্রশ্নে দুই দিনে ত্রিশ পয়েন্টের নড়াচড়া—এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বলে দেয়, এই নির্দিষ্ট শেয়ার ছাড়াটি রাজনৈতিক আবহাওয়ার সঙ্গে কতটা শক্ত করে বাঁধা। কিছু বাজার-বিশ্লেষক আরও এগিয়ে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে হয়তো আইপিও পেছাতে হবে, নয়তো দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

সিএনএনের মন্তব্যের অনুরোধে অ্যানথ্রপিক তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটিকে যে যুক্তি দিতে হবে

এখানে এমন এক অস্বস্তি আছে, যা সাধারণভাবে আইপিওর নয়, বিশেষভাবে অ্যানথ্রপিকের।

এই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য পরিচয়ের বড় অংশ গড়ে উঠেছে এআই কী কী ভুল করতে পারে তা নিয়ে সতর্ক করে। তারা নিরাপত্তা-গবেষণা প্রকাশ করে, বিপর্যয়কর ঝুঁকির কথা বলে, আর বছরের পর বছর ধরে তারাই সেই প্রতিষ্ঠান যারা বিপজ্জনক কথাটি উচ্চ স্বরে বলে।

এই মূল্যায়নে টাকা তুলতে এখন তাদের বোঝাতে হবে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ আগে কখনো এত ভালো দেখায়নি। দুটি অবস্থানই একসঙ্গে সৎভাবে ধরে রাখা যায়—প্রযুক্তিটি একই সঙ্গে বিপুল মূল্যবান ও সত্যিকারের ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—কিন্তু তাতে বিবরণপত্রটি লেখা অস্বাভাবিক রকম কঠিন হয়ে যায়।

আসলে যার দাম ধরা হচ্ছে

হট্টগোল সরিয়ে দিলে বাজারের প্রশ্ন একটিই—মূল্যায়নগুলো যে হারে ধরে নিচ্ছে, এআই অবকাঠামোয় সেই হারে টাকা আসতে থাকবে কি?

বৃহস্পতিবারের পতন কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি নিয়ে রায় ছিল না। ছিল রাজনৈতিক ঝুঁকির নতুন দাম বসানো—বিশেষ করে এই সম্ভাবনার, যে অঙ্গরাজ্য সরকারগুলো সেই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ ধীর করে দেবে, যার ওপর আয়ের প্রক্ষেপণ দাঁড়িয়ে।

অ্যানথ্রপিকের শেয়ার ছাড়া বসে আছে ঠিক সেই প্রশ্নটির ওপরেই। সম্প্রসারণ চললে মূল্যায়নের পক্ষে যুক্তি আছে। থেমে গেলে ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিওর দাম বসানো হয়েছিল একটি চক্রের চূড়ায়—আর যাঁরা তা ধরতে পেরেছিলেন, তাঁরা ধরেছিলেন ঠিক সেই সপ্তাহেই।

পেছনে অপেক্ষায় আছে আরও যারা

এই আকারের আইপিও কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নয়। এটি এমন একটি দামের সংকেত, যার সঙ্গে মেপে দেখা হয় অন্য প্রতিটি বেসরকারি এআই প্রতিষ্ঠানকে—আর তাদের কয়েকটি ঠিক এই তালিকাভুক্তির অপেক্ষাতেই আছে, বাজার কত দিতে রাজি তা বুঝে নিতে।

অ্যানথ্রপিক লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি দাম পেলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা তুলবে সেই অনুপাতে বসানো মূল্যায়নে। আর পিছিয়ে গেলে বা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমালে ভিত্তিটিই নিচে নামবে, আর খাতটির পরবর্তী প্রতিটি দফার দরকষাকষি শুরু হবে দুর্বল অবস্থান থেকে।

সূত্র: সিএনএন

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।