তিনটি মডেলের আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে অ্যাপল; প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মডেলগুলোতে থাকা একটি ত্রুটি সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাঁর আইফোনে ক্ষতিকর কোড বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
কোন ফোন, আর ত্রুটিটি কী
ক্ষতিগ্রস্ত মডেলগুলো হলো আইফোন এক্সএস, আইফোন এক্সএস ম্যাক্স ও আইফোন এক্সআর।
সিভিই-২০২৬-৮৬৯৫০ নামের ত্রুটিটি পাওয়া গেছে অ্যাপলের পুরোনো সংস্করণের কোরগ্রাফিকস সফটওয়্যারে, যা ছবি ও অন্যান্য দৃশ্যমান উপাদান প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হয়। তাই বিশেষভাবে তৈরি ক্ষতিকর ফাইল আইফোনে চালু করলেই যন্ত্রে অননুমোদিত কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে অপরাধীরা।
অ্যাপলের তথ্যমতে, ত্রুটিটি কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে একেবারে সাধারণ মনে হওয়া কোডযুক্ত ফাইলের মাধ্যমেই ত্রুটিটি ব্যবহার করা সম্ভব।
যা করতে হবে
সমস্যা সমাধানে উন্মুক্ত করা হয়েছে নতুন সংস্করণ আইওএস ১৮.৭.১১। এতে আরও একটি ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো ক্ষতিকর অ্যাপ অনুমতি ছাড়াই ক্যামেরা চালু বা বন্ধ করতে পারত।
আইফোন এক্সএস, এক্সএস ম্যাক্স ও এক্সআর ব্যবহারকারীদের দ্রুত সংস্করণটি নামিয়ে নেওয়া উচিত। সেটিংস → জেনারেল → সফটওয়্যার আপডেট।

এ নিয়ে বোঝার মতো দুটি বিষয়
প্রথমত, যে সুখবরটি সহজেই চোখ এড়ায়। এগুলো ২০১৮ সালের ফোন। আট বছরের পুরোনো যন্ত্রের জন্যও অ্যাপল এখনো নিরাপত্তা হালনাগাদ পাঠাচ্ছে, যা এই শিল্পে অস্বাভাবিক এবং মঞ্চটির পক্ষে সত্যিকারের একটি যুক্তি—একই সময়ের বহু অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্র বছর কয়েক আগেই কোনো নিরাপত্তা হালনাগাদ পাওয়া বন্ধ করেছে।
দ্বিতীয়ত, ‘নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে’—কথাটি অনেক ভার বইছে, আর এই খুঁটিনাটিই বলে দেয় এটি কোন ধরনের ত্রুটি।
যে ত্রুটি সবার ওপর ছিটিয়ে না দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে, সেটি বাণিজ্যিক নজরদারি-সরঞ্জামের স্বাক্ষর। এর মানে এই নয় যে এসব ফোনের বেশির ভাগ মালিক ঝুঁকিতে ছিলেন—মানে উল্টোটাই; আর ঠিক সে কারণেই যাঁরা ঝুঁকিতে ছিলেন, তাঁদের কথা ভাবা দরকার। সাংবাদিক, আইনজীবী, বিরোধী রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীরাই এই শ্রেণির হামলার স্থায়ী গ্রাহকতালিকা, আর পুরোনো ফোন থাকা মানে লক্ষ্য না হওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
এ কারণেই সম্ভাবনার হিসাবের চেয়ে সমাধানটি বেশি জরুরি। প্রশ্নটি আপনি নিজে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা কতটা ছিল তা নয়; প্রশ্নটি হলো, পরের যে মানুষটি লক্ষ্যবস্তু হবেন তাঁর জন্য দরজাটি খোলা থেকে যাচ্ছে কি না।
ছবির লাইব্রেরিই বারবার ঢোকার পথ কেন
কোরগ্রাফিকস ছবি পড়ে। আপনাকে ছবি দেখায় এমন প্রতিটি বার্তা-অ্যাপ, ব্রাউজার ও মেইল ক্লায়েন্টও তা-ই করে—অর্থাৎ কোডটি অবিরাম চলে, অবিশ্বস্ত ইনপুটের ওপর, ব্যবহারকারী কিছু বিশ্বাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই। এ কারণেই যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমে ছবি ও ফন্ট পড়ার অংশগুলো সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হয়, আর এ কারণেই আক্রমণকারীর কাছে এখানকার একটি ত্রুটির দাম অন্য প্রায় যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি।
পরামর্শের আকৃতিটিও এতে ব্যাখ্যা হয়ে যায়। সন্দেহজনক ফাইল না খুলে আপনি এটি এড়াতে পারবেন না, কারণ আপনাকে দেখানোর জন্যই ফাইলটি প্রক্রিয়া করা হয়।
এখানকার পাঠকের জন্য
আইফোন এক্সএস, এক্সএস ম্যাক্স ও এক্সআর ঢাকার পুরোনো ফোনের বাজারে এখনো সাধারণ, আর সেখানে আট বছরের পুরোনো একটি আইফোন যুক্তিসংগত কেনাকাটা ঠিক এ কারণেই যে এটি এখনো হালনাগাদ পায়। কথাটি এখনো সত্য—তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে হালনাগাদটি সত্যিই বসানো হচ্ছে কি না তার ওপর।
এগুলোর কোনোটি যদি আপনার দৈনন্দিন ফোন হয়, কিংবা পরিবারের এমন কাউকে দিয়ে থাকেন যিনি হালনাগাদ দেখেন না, তবে এই সপ্তাহেই দেখে নেওয়ার সময়। আর পুরোনো আইফোন কিনতে গেলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করার প্রশ্নটি ফোনটি কত পুরোনো তা নয়—কোন আইওএস সংস্করণে আছে, সেটি।
আর যেহেতু ত্রুটিটি পুরোনো সংস্করণের কোরগ্রাফিকসে, একই যুক্তি খাটে বাড়ির অন্য পুরোনো যন্ত্রেও—পুরোনো আইপ্যাড, কিংবা ড্রয়ারে পড়ে থাকা দ্বিতীয় ফোনটি, যেটি মাঝেমধ্যে ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত হয়। যে যন্ত্র কেউ ব্যবহার করে না, সেটিও হালনাগাদ পায় না; আর নেটওয়ার্কে থাকা হালনাগাদহীন যন্ত্র ব্যবহার না হলেও ঝুঁকি বহন করে।
প্রতিবেদনটির জন্য প্রথম আলো ডেইলি মেইলকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।




