বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং রেজিম রিফর্ম পলিসি ২০২৫-এর খসড়া প্রকাশ করেছে, জনমত নিয়েছে, আর সরকারি অনুমোদনের জন্য তা পাঠিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে।
শিরোনামের বদলটি সরলীকরণ। বিতর্কিত অংশটি একেবারেই অন্য জায়গায়।
খসড়াটি যা করে
বাংলাদেশে এখন কুড়িটিরও বেশি ধরনের টেলিকম লাইসেন্স দেওয়া হয়। খসড়া সেটি নামিয়ে আনে তিন স্তরে, আর কোনো সেবাকে কয়টি লাইসেন্স-স্তর পেরোতে হবে তাতেও সীমা টানে:
- ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেকটিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার
- ইন্টারন্যাশনাল কানেকটিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (আইসিএসপি)
- অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডার
ছোট কয়েকটি মধ্যস্থ শ্রেণি একেবারেই তুলে দেওয়া হয়েছে—এই যুক্তিতে যে সেগুলো সেবা না বাড়িয়ে পরিচালন-ভার আর কমপ্লায়েন্সের খরচ বাড়াত।
স্তরভিত্তিক ব্যবস্থাটি আদৌ কেন ছিল
এটি ব্যাখ্যা করা দরকার, কারণ স্তরগুলো দুর্ঘটনাক্রমে তৈরি হয়নি।
ছড়ানো লাইসেন্স কাঠামো বাজারটিকে বহু দেশীয় লাইসেন্সধারীর মধ্যে ভাগ করে দেয়। আন্তর্জাতিক গেটওয়ে, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ, ট্রান্সমিশন আর অ্যাকসেসের জন্য আলাদা লাইসেন্স মানে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানই ব্যবহারকারী থেকে বহির্বিশ্ব পর্যন্ত পুরো পথের মালিক হতে পারত না, আর প্রতিটি স্তরই সুরক্ষিত অবস্থানসহ একেকটি দেশীয় ব্যবসা তৈরি করত।
ওই নকশার খরচ ঠিক তা-ই, খসড়া যা চিহ্নিত করেছে: প্রতিটি স্তর একটি মুনাফা নেয় আর একটি কমপ্লায়েন্স ধাপ যোগ করে; ফলে চারটি লাইসেন্সধারী মধ্যস্থ পেরোনো এক বিট তথ্য কোনোটি না পেরোনো তথ্যের চেয়ে ব্যয়বহুল। কাঠামোটির দাম দেন ভোক্তারা।
সুবিধাটি—খসড়া যা নিয়ে কম কথা বলে—এই যে পুরো শিকলটি কোনো একটি পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
যে ধারাটি নিয়ে তর্ক
খসড়া অনুযায়ী আইএসপি, টিসিএসপি, সিএমএসপি আর সুবিধাভিত্তিক আইসিএসপি লাইসেন্সে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ৮০ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানা রাখতে পারবে।
সমালোচনা ওই সংখ্যাটি নিয়ে নয়। সমালোচনা এই যে, নির্দেশিকায় অন্যান্য বিটিআরসি লাইসেন্সধারীতে বিদেশি অংশীদারদের মালিকানা নেওয়ার ওপর কোনো ঘোষিত সীমা নেই। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, এতে খাতজুড়ে ক্রস-ওনারশিপের পথ খোলে—একই গোষ্ঠী একসঙ্গে কয়েকটি স্তরে অবস্থান নিতে পারে—আর স্তরভিত্তিক ব্যবস্থা ঠিক এ পরিণতিটিই ঠেকিয়ে রেখেছিল।
তখনকার প্রতিবেদনে কথাটি সোজাসুজিই এসেছিল: এমন খসড়া, যা একচেটিয়া ব্যবসার দরজা খোলা রাখে। পাঠটি নিয়ে দ্বিমত করা যায়, আর তা যুক্তিসংগতও—কারণ স্তরগুলো তুলে দেওয়া কাঠামোগত বাধাটি সরায়, অথচ তার জায়গায় প্রতিযোগিতার কোনো নিয়ম বসায় না।
কে কী বলল, আর কেন আলাদা
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ সেকেলে কাঠামোর বিরুদ্ধে একে স্বাগত জানিয়েছে "সাহসী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ" হিসেবে। ইন্টারনেট সেবাদাতারা অনেক বেশি খুঁটিয়ে দেখেছেন।
বিভাজনটি হুবহু স্বার্থের ছক মেনেই। মোবাইল অপারেটররা বড়, পুঁজিবান, আর তাদের বিদেশি মূল প্রতিষ্ঠান আছে—উদার মালিকানাসহ তিন স্তরের ব্যবস্থায় তারা নিজেদের সরবরাহ শিকলের বেশি অংশের মালিক হতে পারে আর মধ্যস্থদের টাকা দেওয়া বন্ধ করতে পারে। যেসব মধ্যস্থকে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তারা মূলত ছোট দেশীয় প্রতিষ্ঠান—যাদের লাইসেন্সটিই ব্যবসা।
দুটি অবস্থানই স্বার্থপ্রণোদিত, আর দুটিই সত্যিকারের কিছু বর্ণনা করে। একীভবন সত্যিই খরচ কমায়; এটি স্বাধীন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও সত্যিই কমায়।
নজর রাখার বিষয়
স্তরের সংখ্যা নয়—সেটি যুক্তিসংগত আর অনেক আগেই দরকার ছিল। ফল ঠিক করবে আরও সরু প্রশ্নগুলো: চূড়ান্ত নীতিতে ক্রস-ওনারশিপের সীমা যোগ হবে কি না, যা স্তরগুলো পরোক্ষে যা দিত তার জায়গা নেবে; একীভূত অবকাঠামোয় পাইকারি প্রবেশাধিকারের দাম ঠিক করে তা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না, যাতে ছোট অপারেটরও গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারে; আর দক্ষতার সুফল খুচরা দামে পৌঁছাবে, নাকি অপারেটরদের মুনাফাতেই থেমে যাবে।
একই সংখ্যক সত্যিকারের প্রতিযোগীসহ সরল ব্যবস্থা স্পষ্ট উন্নতি। কম প্রতিযোগীসহ সরল ব্যবস্থা একই নামে ভিন্ন একটি নীতি।
সূত্র: বিটিআরসির খসড়া নীতি ও জনমত বিজ্ঞপ্তি; এএমটিওবি; দ্য ডেইলি স্টার; ঢাকা ট্রিবিউন; টিবিএস নিউজ; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




