প্রযুক্তি

বিস্ট গেমসের খরচ ১০ কোটি ডলার, হয়ে উঠল অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি দেখা আনস্ক্রিপটেড শো। নির্মাণের ধরন নিয়ে মামলা করেছেন পাঁচ প্রতিযোগী

এক হাজার প্রতিযোগী, ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার, বিশেষভাবে বানানো মাঠে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রস্তাবিত শ্রেণিমামলার অভিযোগ—বিনা পারিশ্রমিকে কাজ, অনিরাপদ পরিবেশ, হাসপাতালে ভর্তি।

বিস্ট গেমসের খরচ ১০ কোটি ডলার, হয়ে উঠল অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি দেখা আনস্ক্রিপটেড শো। নির্মাণের ধরন নিয়ে মামলা করেছেন পাঁচ প্রতিযোগী

বিস্ট গেমস বানানোই হয়েছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গেম শো হিসেবে: এক হাজারের বেশি প্রতিযোগী, ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার আর প্রায় ১০ কোটি ডলারের নির্মাণব্যয়—যার ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার গেছে টরন্টোয় বিশেষভাবে বানানো প্রতিযোগিতার মাঠ "বিস্ট সিটি"-তে।

বাণিজ্যিকভাবে এটি সফল। শোটি হয়ে ওঠে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সবচেয়ে বেশি দেখা আনস্ক্রিপটেড সিরিজ, কয়েক ডজন দেশে শীর্ষে পৌঁছায়, আর আরও দুই মৌসুমের জন্য নবায়ন পায়।

এটি একটি মামলাও তৈরি করেছে, আর দুটি তথ্য দেখতে যতটা, তার চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

যা অভিযোগ করা হয়েছে

মিস্টারবিস্টের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও অ্যামাজনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শ্রেণিমামলা করেছেন পাঁচ প্রতিযোগী। অভিযোগগুলো:

  1. বিনা পারিশ্রমিকে কাজ—যা কার্যত চাকরি, তার জন্য অংশগ্রহণকারীদের পারিশ্রমিক না দেওয়া।
  2. অনিরাপদ পরিবেশ—আবেদনে যাকে বলা হয়েছে "অযৌক্তিক, অনিরাপদ ও বেআইনি কর্মপরিবেশ"; কয়েকজন প্রতিযোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
  3. চিকিৎসা, খাবার, ঘুম আর মৌলিক পরিচ্ছন্নতা থেকে বঞ্চিত করা।
  4. প্রযোজনায় "নারীবিদ্বেষ ও লিঙ্গবৈষম্যের সংস্কৃতি"।

কলাকুশলী ও প্রতিযোগীরা এ-ও বলেছেন, এ মাপের কাজে দলটির অভিজ্ঞতা ছিল সামান্য। এগুলো অভিযোগ, আর মামলাটি প্রস্তাবিত শ্রেণিমামলা—কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

পরিসর আর অভিযোগ কেন সম্পর্কিত

এটিই কাঠামোগত কথা, আর তা কোনো একজন প্রযোজকের বিষয় নয়।

প্রচলিত রিয়েলিটি প্রতিযোগিতায় থাকেন হয়তো ২০ জন প্রতিযোগী। বিস্ট গেমসে ছিলেন হাজারের বেশি—অর্থাৎ খাওয়ানো, থাকানো, তদারক করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা আর নিরাপদ রাখার মানুষ পঞ্চাশ গুণ; অথচ শুটিংয়ের সময় পঞ্চাশ গুণ বাড়েনি, আর ওপরের বর্ণনা অনুযায়ী অভিজ্ঞ কলাকুশলীর সংখ্যাও না।

প্রযোজনার রসদ-ব্যবস্থাপনা সরলরৈখিকভাবে বাড়ে না। চিকিৎসকের সামনে ২০ জনের সারি একটি সারি; হাজার জনের সারি এমন একটি ব্যবস্থা, যা নকশা করতে, লোকবল দিতে আর মহড়া দিতে হয়। যেগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ—খাবার, ঘুম, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা—সেগুলোই ছোট পরিসরে অদৃশ্য থাকে, কারণ সেখানে সেসব অনানুষ্ঠানিকভাবেই হয়ে যায়; বড় পরিসরে সেগুলো সচেতনভাবে গড়তে হয়, নইলে সেগুলো থাকেই না।

নিচে থাকা চাকরির প্রশ্নটি

পারিশ্রমিকের দাবিটিরই প্রভাব সবচেয়ে বিস্তৃত।

গেম শোর প্রতিযোগীদের ঐতিহ্যগতভাবে কর্মী নয়, অংশগ্রহণকারী ধরা হয়—যাঁরা পুরস্কারের সুযোগ নিতে স্বেচ্ছায় আসেন। কেউ একদিনের জন্য এলে ওই কাঠামো চলে। কিন্তু কোনো প্রযোজনা যখন হাজার মানুষ কোথায় ঘুমাবেন, কখন কী খাবেন, কখন বেরোতে পারবেন আর দীর্ঘ সময় ধরে সারা দিন কী করবেন—তা ঠিক করে দেয়, সেটি কাজেরই বর্ণনা।

আদালত একমত হলে এর পরিণতি পৌঁছাবে বড় পরিসরের প্রতিটি আনস্ক্রিপটেড ফরম্যাটে, একটি শোতে নয়। কর্মী মর্যাদা থেকেই আসে ন্যূনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার দায় আর বিমা—আর হাজার প্রতিযোগী কর্মী হয়ে গেলে এমন প্রযোজনার অর্থনীতি অন্যরকম দেখায়।

সাফল্যটি আসলে যা দেখাল

মূল বয়ান—এতে প্রমাণ হলো ইউটিউবই নতুন টেলিভিশন—অর্ধেক ঠিক, আর তা ধারালো করা দরকার।

বিস্ট গেমস দেখিয়েছে, নির্মাতাকেন্দ্রিক একটি ব্র্যান্ড সম্প্রচারকদের চেনা মাপের স্ট্রিমিং দর্শক এনে দিতে পারে। সেই সঙ্গে এ-ও দেখিয়েছে, তা করতে গেলে প্রচলিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হতে হয়—সঙ্গে আসা দায়দায়িত্বসহ। এ মামলার অভিযোগগুলো টেলিভিশন শিল্পের চিরচেনা অভিযোগ, আর সেটিই সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত যে সীমারেখাটি ইতিমধ্যেই মুছে গেছে।

সূত্র: অ্যামাজনের ঘোষণা; সিএনএন বিজনেস; ডার্ক হরাইজনস; নেট ইনফ্লুয়েন্সার; প্রতিযোগীদের আবেদন; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: Amazon, CNN Business, Dark Horizons, Net Influencer, court filings, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।