জিমি ডোনাল্ডসনের বয়স ২৬, বাড়ি নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলে, আর প্রায় ৩৬ কোটি সাবস্ক্রাইবারের কাছে তিনি পরিচিত মিস্টার বিস্ট নামে। তাঁর অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর শো বিস্ট গেমস নেটফ্লিক্সের স্কুইড গেম-এর ধাঁচের বিশাল এক আখড়ায় এক হাজার প্রতিযোগীকে নামায়, ১ হাজার ১০৭ ক্যামেরায় ধারণ করে, বাদ পড়াদের ফেলে দেয় গর্তে, আর ঝুলিয়ে রাখে ৫০ লাখ ডলারের নগদ পুরস্কার—ডোনাল্ডসনের দাবি, এই ধারার ইতিহাসে সবচেয়ে বড়। এটি উচ্চকিত, ব্যয়বহুল, আর অ্যামাজনের কাছে যে মাপ জরুরি, তাতে হিট: ২৫ দিনে ৫ কোটি দর্শক, ৮০ দেশে প্রাইম ভিডিওর এক নম্বর শো, আর প্ল্যাটফর্মের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি দেখা আনস্ক্রিপ্টেড সিরিজ।
শোটি কী
প্রতিটি পর্ব ১৫ থেকে ৩০ মিনিট—টেলিভিশনের নয়, ইউটিউবের দৈর্ঘ্য। চ্যালেঞ্জগুলো মিস্টার বিস্টের চেনা মিশ্রণ—সহ্যশক্তি, ভাগ্য, বিলাসী পুরস্কারের জন্য মনস্তাত্ত্বিক খেলা—আর অনেক প্রতিযোগী ক্যামেরায় বলেন, তাঁরা এসেছেন ঋণ বা চিকিৎসার বিল শোধ করতে, যাকে সমালোচকেরা শোষণমূলক বলেছেন। কয়েকটি পর্ব ইউটিউবেও তোলা হয়েছে, দুই প্ল্যাটফর্মের সীমারেখা আরও ঝাপসা করে। গার্ডিয়ানের লেখক অ্যাড্রিয়ান হরটনের যুক্তি, শোটি ইউটিউবকে টিভিতে আনার চেয়ে বরং পার্থক্যটাই মুছে দেয়: টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখতে কেমন আর তৈরি হয় কীভাবে—দুটোই বদলায়।
যুক্তির পেছনের সংখ্যা
ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী নীল মোহন এ মাসে বার্ষিক চিঠিতে লিখেছেন, ইউটিউবই নতুন টেলিভিশন—টিভি শো বানাচ্ছে বলে নয় (অরিজিনালস বিভাগ ২০২২ সালে বন্ধ), বরং যেভাবে দেখা হচ্ছে সে কারণে। কোম্পানির হিসাবে দর্শকেরা এখন টিভির পর্দায় দিনে ১০০ কোটির বেশি ঘণ্টা ইউটিউব স্ট্রিম করেন, যার মধ্যে মাসে ৪০ কোটি ঘণ্টা পডকাস্ট। যুক্তরাষ্ট্রে অন্য যেকোনো যন্ত্রের চেয়ে টিভিতে ইউটিউব বেশি দেখা হয়। চ্যানেল বদলায়নি; পর্দা বদলেছে।
বাংলাদেশি সংস্করণ
একই বদল এখানেও চলছে, নীরবে। ঢাকার ইলেকট্রনিকসের শোরুমে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট টিভি এখন ডিফল্ট, প্রতিটিতে ইউটিউব আগে থেকে বসানো, আর একসময় স্যাটেলাইট প্যাকেজ দেখা পরিবারগুলো রাত নয়টায় ইউটিউবে দেখে বাংলা নাটক, রান্নার চ্যানেল, ক্রিকেটের হাইলাইটস। ক্রিয়েটরদের জন্য তাৎপর্য সরাসরি: যে ভিডিও সোফা থেকে ৪৩ ইঞ্চি পর্দায় দেখা হবে, তার দরকার টেলিভিশনের মান—ঠিকঠাক অডিও, আনুভূমিক ফ্রেম, ঘরের ওপার থেকে পড়া যায় এমন থাম্বনেইল—আর যাতায়াতের নয়, সন্ধ্যার উপযোগী পর্বের দৈর্ঘ্য। বিস্ট গেমস সেই শিক্ষার চরম উদাহরণ, যা মাঝারি বাংলাদেশি চ্যানেল একটি ভালো মাইক্রোফোনের বাজেটে প্রয়োগ করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, প্রথম আলোর বরাতে।




